আমার ঈশ্বর
——————
(রবীন্দ্র মহাপ্রয়াণ দিবসের শ্রদ্ধার্ঘ্য)
তেত্রিশ কোটী নয়,তেত্রিশও নয়
আমার একজনই কেবল ঈশ্বর।
ব্রহ্মা-বিষ্ণু নয়,নয় ইন্দ্র-বরুণ- অগ্নি
বাসুদেব রামচন্দ্র কিম্বা ঋষি জমদগ্নি
আমার শুধু একটিই বিশ্বাস–
আমার প্রাণবায়ূ, আমার নিঃশ্বাস
অপার আনন্দ উৎস,
ছল-ছল প্রেম,মধু বাসন্তী রাত
সে শুধুই রবীন্দ্রনাথ।
সে আমার একমাত্র ঈশ্বর।
তারই চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ
চূণী হয়ে উঠলো টুকটুকে লাল,
থমকে দাঁড়ালো মহাকাল
রবীন্দ্র চেতনার ছায়ায় এসে।
ধ্বণিত হলো মহা উল্লাস প্রাণে প্রাণে
বিশ্বময়।ব্যাস- বাল্মীকি- কালিদাস
আপন আপন শক্তি- অর্ঘ্য দানে
সাজায়ে তুলিল তারে দশভূজা করি।
মরি মরি!
শত শত গ্রন্থগীতে–
বর্ষায়,বসন্ত শরতে নরনারীর মিলন মেলা
করেছে সে মহীয়ান, প্রীতির ডোরে
বেঁধেছে বিশ্বপ্রাণ রাখি বন্ধনে।
এ ভূবন রবীন্দ্রময়–
বনে বনে কচি পাতায়
আলোয় আলোয় আকাশে মহাকাশে
অবিরাম ধ্বণিত হয় তারই বন্দনা।
দারুণ বৈশাখে প্রকৃতির রুদ্ররোষ
প্রলয় নাচনে মথিত করে ধরিত্রী
তারই ভাষা ও ছন্দের ভ্রুকুটিতে,
বর্ষণমূখর সাঁঝে মেঘের গুরু গুরু বাজে
রবীন্দ্র মৃদঙ্গ-মন্দিরার তালেতালে
আবার, শরতে শুভ্রকান্তি কাশবনে
আনমনে দোলে রবীন্দ্র সুরলহরীর অপূর্ব মূর্ছনা।
এই সব কিছু ছেড়ে অনাগত কোন একদিন
পৃথিবীকে জানাব বিদায়
তারই সুরে বেঁধে প্রাণ,
প্রিয় সে আমার একমাত্র উজ্জ্বল,অম্লান
জ্যোতি, আমার শেষ পারানির কড়ি,রবীন্দ্রনাথ
আমার আনন্দ সরোবর।
সে আমার একমাত্র ঈশ্বর।