ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের ঠিকাদার খন্দকার সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামী চঞ্চল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত চঞ্চল শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার জহর বিশ্বাসের ছেলে।
ঝিনাইদহ সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত) আখতার হোসেন মিনা জানান, ঠিকাদার ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ’র পুলিশ লাইন্সের সামনে একটি গ্রীলের দোকান ছিলো। পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারী ব্যবসা করতেন। চুয়াডাঙ্গার একটি ঠিকাদারী কাজের কিছু টাকা চঞ্চলের কাছে পেত সুলতান। এ নিয়ে তাদের মাঝে বিরোধও চলছিলো। এরই জের ধরে ২০১৩ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় মোবাইলে সুলতানকে ডেকে নেয় চঞ্চল। পরদিন ৩০ জুন সকালে উদয়পুর গ্রামের মাঠ থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী করে চঞ্চলকে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলো চঞ্চল বিশ্বাস। হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ”ঞ্চল ও জাহাঙ্গীর আলম নামে দুইজনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ১৭ জুন আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। আসামীরা মামলাটির বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম উচ্চ আদালতে আবেদন করে স্থগিত করে। গতমাসে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর সিআইডিতে তদন্ত দেয় আদালত।
পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত) আখতার হোসেন মিনা বলেন, মামলার তদন্ত ভার পাওয়ার পর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামী চঞ্চলের অবস্থান শনাক্ত করে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি। তিনি তার নাম পরিবর্তন করে সুজা বিশ্বাস রেখে আশুলিয়ার কাঠগড়ার আলম মার্কেট এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলো। চার্জশিটে থাকা অপর আসামী জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মারা গেছে। এই মামলার তদন্ত চলছে। নতুন কেউ অভিযুক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করা হবে। আসামী চঞ্চলকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মরদেহ উদ্ধার ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নিখোঁজের একদিন পর গতকাল বুধবার বিকেলে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ইতিমধ্যে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরিবারকে কী বলে যেতে পারেননি তাহসিফ, যেখানে তার মরদেহ মিলেছে সেখানে তিনি কখনো যাননি তার বাবার ভাষ্যমতে। কীভাবেই বা সেখানে গেলেন? কে তাকে ডেকে নিল এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। রাত দেড়টা পর্যন্ত কোথায় ছিলেন, শেষ মেসেজ কে দিয়েছিল, কোন বিষয় নিয়ে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন—এমনটাও আলোচনায় আসছে।
অভ্যুত্থানের পর চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তাহসিফ সৌরি। আলোচনা আছে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উড়োজাহাজে করে ভারতে পালানোর ভিডিও প্রচার করেছিলেন।
অনেক কিছুই আজও অজানাই থেকে গেছে। যা রীতিমতো রহস্য তৈরি করেছে।
মৃত্যুর সঙ্গে ওই ভিডিও ধারণের কোনো যোগসূত্র আছে কি না যদিও এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।
এদিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে এক জুনিয়র তার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নেন। মাকে বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি তিনি। একাধিকবার ফোন করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেজ দিয়ে মাকে তাহসিফ জানান, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ সেটিই ছিল পরিবারের সঙ্গে তার শেষ যোগাযোগ। কেন ডেকেছিল দ্বীপ তা অজানা এখনো। বৃহস্পতিবার হেলাল বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফ প্রায় সারা দিন তার মা হোসনে আরা বিথির সঙ্গে ছিলেন। মা-বাবার জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে তার এক বন্ধু ও জুনিয়র নিচ থেকে তাকে ডাক। তাহসিফ মাকে জানিয়ে তার সঙ্গে বেরিয়ে যান।
হেলাল বলেন, ‘সে অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির। অত্যন্ত সামাজিক। ছোটবড় সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। সন্ধ্যার পরে দ্বীপ তাকে নিচ থেকে ডাকে। তাহসিফ তার মাকে বলে, মা দ্বীপ আসছে, একটু কথা বলে আসি। এসব বলে নিচে যায়, এরপর আর ফেরেনি সে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ওর মা অনেকবার চেষ্টা করেছে, ও ফেরেনি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সে মেসেজ দিয়েছে, সে আসছে। আম্মু আমি আসছি, এই রকম একটা মেসেজ দিয়েছে। এরপর থেকে তার অবস্থান আর জানা যায়নি।
ছেলেকে খুঁজতে বুধবার দুপুরের দিকে তুরাগ থানায় গিয়েছিলেন বলে জানান হেলাল। বলেন, পুলিশ তখন তাকে আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু ওই দিন বিকেলেই উত্তরখান থানার ওসি ফোন করে তার ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানান।
বলেন, ‘আমি তুরাগ থানায় গিয়েছিলাম বুধবার দুপুরের দিকে। তারা বললেন, এমন কোনো খারাপ সংবাদ নেই, আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন। সন্ধ্যার আগে, সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ওসি আমার সঙ্গে কথা বললেন। আমার নাম, ছেলের নাম নিশ্চিত হয়ে তারপর আমাকে জানালেন যে, নদীতে ডেডবডি পাওয়া গেছে।’
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা রাজাবাড়ির ঘাটে। আটিপাড়া দিয়ে যেতে হয়। ওই এলাকায় আমার ছেলে কখনো যায়নি। এখন কারা বা কে তাকে হত্যা করেছে, এটা আমি জানি না।’
পরিবারের সঙ্গে তাহসিফের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময়কাল এবং মরদেহ উদ্ধারের স্থান নিয়ে বাবার বক্তব্য ঘটনায় যে প্রশ্ন উঠেছে তার উত্তর এখনো জানা যায়নি।
হেলাল বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পালানোর দিন ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল কি না, এটা সে আদৌ করেছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের জানায়নি। এটা তার ডিপার্টমেন্ট বলতে পারবে। বিমান বাহিনী থেকে তাহসিফের চাকরি যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘শৃঙ্খলাজনিত’ বলা হয়েছিল।
তাহসিফ কোনো হুমকি পেয়েছিলেন কি না, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে হুমকি-ধামকির ব্যাপারে আমাদের কিছু বলেনি। তবে সে বলেছিল যে, সে একটু আশঙ্কা করছে।
এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে , তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, নেত্র নিউজ হয়ে সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কর্মরত ছিলেন।সূত্র: মানবজমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমাজে সবার সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার আছে। তার সরকার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিসহ যাদের বিশেষ মনোযোগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন, তাদের পাশে রয়েছে। শুধু সরকার গঠনের পরই নয়, এর আগেও তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, এসময় প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু দাবি মেনে নেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান বক্তারা। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আদালতে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। প্রধানমন্ত্রী আদালত ও হাসপাতালে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।কৃষি খাতে কাজ করতে আগ্রহী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাওয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বয়সসীমা শিথিলের দাবি জানানো হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গাছের সুপারি পাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মজিবুল ইসলাম (৪৫) ওই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার দুপুরে মজিবুল ইসলাম বাড়ির একটি সুপারি গাছ থেকে সুপারি পাড়ে। এই নিয়ে শনিবার দুপরে তার ছোট ভাই রবিউল ইসলামের সাথে বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে মজিবুলের পরিবারের সাথে রবিউলের পরিবারের সদস্যদের মারামারি শুরু হয়। সেসময় রবিউলের লাঠির আঘাতে মজিবুল ও তার স্ত্রী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিতে গেলে পথেই মারা যায় মজিবুল। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর রবিউল পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মিলি খাতুনকে আটক করে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী।
শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ভাই নিহত হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসী ঘাতকের স্ত্রীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ঘাতক রবিউলকে আটকে অভিযান চলছে।
দেওয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালো কালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল-নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালে আদালতকক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এ ঘটনা ঘটে। আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা দেখে বিচারক এজলাস ছেড়ে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি এসে আয়াসসহ দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন।
রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার আয়াস ও মারজিয়া খন্দকারকে (রিমি) সিএমএম আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল। অপর দিকে তাঁদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, রিমান্ডে এই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। এসময় দুই আসামির জামিন চেয়ে তাঁদের আইনজীবী মনির হোসেন আদালতকে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। আসামি আয়াস অসুস্থ এবং মারজিয়ার একটি বাচ্চা আছে। এসব বিবেচনায় আসামিদের জামিনের প্রার্থনা করছেন।এই আইনজীবী আরও বলেন, আসামিদের মূল বক্তব্য ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। দেয়ালে ভারতীয় শিল্পীদের ছবি থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা দেশের শিল্পীদের পক্ষে। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, এই আসামিরা অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। এখানে হঠাৎ করে কেন পাকিস্তান, জিন্নাহ—এসব বিষয় আসবে। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখেই কেন কালি দিতে হবে। এর কারণ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উসকানি দেওয়া এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা। সাত মাস তারা সরকারের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে যথেষ্ট গালাগালি দিয়েছে। তারা এই জেনারেশনকে (প্রজন্মকে) খারাপ করছে। তারা মনে করে, গালাগালি করলেই ভাইরাল হওয়া যাবে। তারা ভালোভাবে কথা বলুক, বক্তৃতা দিক। কিন্তু তারা সব সময় গালাগালি, ভারত, পাকিস্তান এগুলো আনে বারবার। এখানে যারা এসেছে, সবাই জামায়াতের লোক, জামায়াতের আইনজীবী।এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্য থেকে একজন উচ্চ স্বরে প্রতিবাদ করেন। মুহূর্তের মধ্যে বিচারকের সামনে তাঁরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবীর সঙ্গে হাতাহাতিতে আসামিপক্ষের একজন আইনজীবীর শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায়। মারধরের শিকার ওই আইনজীবীর নাম আল মহসিন তৌহিদ। এটা দেখামাত্রই বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় ঢুকে যান। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী ও মনির হোসেন সবাইকে শান্ত করেন। বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে বিচারক এজলাসে ফিরে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ১০ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসসহ চারজন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করে পুলিশ। এই মামলায় পরদিন আয়াসসহ দুজনের তিন দিন এবং অপর দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে এনসিপি নেতা আবু সাঈদ জনির বিরুদ্ধে বিরোধপূর্ণ জায়গা ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ আদালতে পৃথক পৃথক মামলা করেছেন। এদিকে উক্ত ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আদালতের আদেশে তদন্তকার্য মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নির্ধারন করেন বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজার এলাকায়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে বজরা ইউনিয়নের খামার বজরা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে শফিউল আজমের কাছ থেকে ১৮ শতক জমি ক্রয়ের জন্য ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম মন্ডল রাজাসহ ১২ জন বায়নাপত্র করেন। এরপর তারা উক্ত ১৮ শতক জমি বুঝে নিয়ে ১২টি পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি মসজিদ নির্মান করেন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে ২০০৯ সালেই বাবুরহাট বাজার নামে একটি বাজার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও শফিকুল আজম উক্ত জমি দলিল না করে দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। এদিকে চলতি বছরের ৪ আগষ্ট উক্ত ১৮ শতক জমি শফিউল আজম গোপনে এনসিপির পেশাজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্স’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ন-আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ জনির কাছে বিক্রয় করেন। এরপর বিএনপি নেতা রাজাসহ ১২ জন ভূক্তভোগী শফিউল আজমসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে জমি গ্রহিতা আবু সাঈদ জনিও আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে উভয় পক্ষের মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। এদিকে আদালতের আদেশে জমির দখল ও ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সহকারী কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষকে নিয়ে তদন্ত করার কথা থাকলেও ভূমি কর্মকর্তা অসুস্থ্য থাকায় তা হয়নি। এ বিষয়ে বায়নাপত্র কারী রেজাউল করিম মন্ডল রাজা, ফয়েজ আহম্মেদ, নাজিম উদ্দিন ও নুর আলম বলেন, ২০০৯ সালে আমরা ১২ জন মিলে ১৮ শতক জমি ক্রয়ের জন্য শফিউল আজমের কাছে বায়নাপত্র করি। এরপর ১২জন অংশীদার মাটি ভরাট করে নিজ নিজ দোকান নির্মান করে ব্যবসা করে আসছি। ২০০৯ সালেই আমাদের ১২টি দোকান দেখে এলাকার অনেকেই উৎসাহিত হয়ে তাদের নিজস্ব জায়গায় আরও দোকান নির্মান করেন। বর্তমানে জায়গাটি বাবুর হাট বাজার নামে সবার কাছে পরিচিত। পরবর্তীতে সরকারি ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আমাদের জমির মধ্যেই জনগনের সুবিধার জন্য মসজিদের পাশে একটি গণসৌচাগার নির্মান করা হয়। চলতি বছরের ৪ আগষ্ট এনসিপির নেতা আবু সাঈদ জনি আমাদের বায়নাকৃত ১৮ শতক জমি শফিউল আজমের কাছে গোপনে ক্রয় করেন। শফিউল আজম একাই উক্ত জমি বিক্রয় করতে পারবেন না জন্যই আমাদের দলিল করে দেননি। এ ঘটনায় আমরা নিরুপায় হয়ে ১২ জন অংশীদার আদালতে মামলা করি। এনসিপির পেশাজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্স’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ন-আহ্বায়ক আবু সাঈদ জনি মুঠোফোনে বলেন, মালিক আমার কাছে জমি বিক্রয়ের পর ১৮ শতক জমি খারিজ করে নিয়েছি। পরবর্তীতে আমার সাইনবোর্ড ঝুলানো হলে তারা তা সরিয়ে ফেলেন। তারা দীর্ঘদিন থেকে ভাড়াকৃত জায়গায় ব্যবসা করছেন। বর্তমানে উক্ত ১৮ শতক জায়গা আমাকে দলিল করে দেয়ার পর তারা নিজেদের নামে উক্ত জমি বলে দাবী করছেন। এ জন্য আমি আদালতে মামলা করেছি। এ বিষয়ে শফিউল আলমের সাথে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা রুহুল আমীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি এস. এম .মেহেদী হাসান জানান, বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা অসুস্থ্য রয়েছেন মর্মে আমাকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এ কারনে হয়তো তিনি ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি।
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৩১৬ জনের প্রাণ গেল।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৯৫৪ জন। ফলে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৩৯৬ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭ হাজার ২৯৬ জন।