ইরানে টানা সপ্তম রাতের মতো তীব্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ বলে ঘোষণা করার পর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী এই হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার ওপর গভীর আঘাত হেনেছে। মার্কিন বাহিনী এই অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ, কেশম দ্বীপ এবং প্রণালির পাশে অবস্থিত বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরান ব্যাপকভাবে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় জানায়, একটি শত্রুভাবাপন্ন হামলায় তাদের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন প্ল্যান্টকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার ফলে প্লান্টের একটি অংশে আগুন ধরে যায় এবং কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। কুয়েত ফায়ার ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি হামলায় সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন দমকলকর্মী ও শ্রমিক আহত হয়েছেন। উপরন্তু, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে কুয়েত তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়।পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে ইরানের ইসলাম রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপসী (আইআরজিসি) কুয়েতের আল-আহমাদি বন্দরে অবস্থিত একটি মার্কিন নৌ-জ্বালানি সহায়তা জেটি এবং কুয়েতের ভেতরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিগন্যাল ও যোগাযোগ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। কুয়েতের পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের সমাবেশস্থল শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি এবং মার্কিন গোয়েন্দা ডাটা সেন্টারেও ইরান সফলভাবে আঘাত হানার দাবি করেছে। কাতারও এই সংঘাতের কবলে পড়েছে। সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ওপর থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাতে তাদের আকাশসীমায় নিক্ষেপ করা ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে সিবিএস নিউজকে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে গত সপ্তাহে জর্ডানের দুটি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।ওমান সাগরের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি থাই পতাকাবাহী জাহাজ আইআরজিসি-র সতর্কতা উপেক্ষা করে পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটির ওপরও ইরান হামলা চালায় বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার বিষয়ে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে তেহরানের করা বেসামরিক অবকাঠামো যেমন সেতু, ট্রেন স্টেশন এবং বিমানবন্দরে হামলার দাবি অস্বীকার করলেও বিবিসি ভেরিফাই ও বিবিসি পার্সিয়ান রাতে একটি সেতুতে অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও এবং পরবর্তীতে দিনের আলোয় ভেঙে পড়া ধ্বংসাবশেষের ছবি যাচাই করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হরমুজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন।হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র একচেটিয়াভাবে সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোতেই এই হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি পরিচালনাকারী অঞ্চলের দেশগুলোকে এর জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক মূল্য দিতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধাবসান ঘটানোর লক্ষ্যে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।তবে আলোচনা কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তারপর থেকে ইরানি স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌঅবরোধ আরোপ করেছে। ইরানও এই প্রণালি নৌচলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে, যার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রাজধানীর আরও ৫০টি স্পটে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইন ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছে তার কার্যালয়ের প্রেস উইং।বৈঠকে বায়ু ও শব্দ দূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ, ইটভাটার সৃষ্ট বায়ু দূষণ রোধে পরিবেশ বান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদন, ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার, সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণের বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও অসম্পূর্ণ ভাস্কর্য গত কয়েক দিন ধরে ভাঙা হচ্ছে। তবে কার নির্দেশে, কোন সংস্থার উদ্যোগে এবং কী কারণে এই কাজ চলছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি কেউ। এবিষয়ে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা কিংবা সড়ক ও জনপথ বিভাগ কেউ মুখ খুলছেন না।
বিষয়টি নিয়ে জেলা ব্যাপি আলেচনার ঝড় উঠেছে। এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ভাস্কর্য অসম্পূর্ণ ও শহরের প্রবেশদ্বারে চার রাস্তার মোড়ে হওয়ায় গাড়ি চলাচলে একপ্রান্ত থেকে আর একপ্রান্তে দেখা যায়না সেকারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে এমন অযুহাতে ওই স্থান থেকে সরিয়ে অন্য স্থানে স্থাপনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কিছু কর্তা ব্যক্তিরা।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা যায়, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে শ্রমিকরা ভাস্কর্যের বেষ্টনি ও মূল অংশ ভাঙার কাজ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরেই অপসারণের কাজ চলছে। তবে কে বা কারা কাজটি করছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
শ্রমিকদের দাবি, ওই স্থানে প্রায়ই ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায় পৌরসভার উদ্যোগে এটি অপসারণ করা হচ্ছে বলে তারা শুনেছেন। তবে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথিন্দ্র নাথ রায় এ দাবি নাকচ করে বলেন, ‘এ কাজটি কে করছে আমরা জানি না। পৌরসভার পক্ষ থেকে এটি করা হচ্ছে না।’
এদিকে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, কেন ভাঙা হচ্ছে তা তার জানা নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘এটা যে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, তা জানা ছিল না। কারণ এটি অসম্পূর্ণ ছিল। জেলা প্রশাসন এ কাজ করছে না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সম্ভবত সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও পৌরসভা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।’ তিনি আরো জানান, জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি নতুন প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ভাস্কর্য ও চত্বরটি কারা অপসারণ করছে, তা তার জানা নেই।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মাজিদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা দুই দফায় স্থাপনাটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। পাশাপাশি এটি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও সৃষ্টি করছিল। বিভিন্ন সভায় এটি সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তবে এখন কে অপসারণ করছে, তা তিনি জানেন না। তিনি আরও জানান, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গোলচত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কামলুজ্জামান বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহ নয়, সারা দেশের গর্ব। তার স্মৃতিচিহ্ন অপসারণ করা হচ্ছে, এটি দুঃখজনক। দ্রুত এটি একই স্থানে বা অন্য কোন উপযুক্ত স্থানে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে।’
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়েই চত্বর অপসারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার চাচা দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন। আমাদের না জানিয়ে এটি অপসারণ করা দুঃখজনক। আমরা মনে করি, ইতিহাস থেকে তার নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ তিনি দ্রুত নতুন করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, ঝিনাইদহ পৌরসভা ২০১৯ সালে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কাজ শেষ না করেই প্রকল্পটি ফেলে রাখা হয়। তৎকালীন মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু ও জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ কাজ কাজটি সমাধান না করেই চলে যান। পরবর্তী সময়ে মেয়র ও জেলা প্রশাসক পরিবর্তন হলেও কাজ আর এগোয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় চত্বরটি আগাছায় ঢেকে যায় এবং স্থাপনাটি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল।
প্রসঙ্গত, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তে পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ হন। অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি লাভ করেন। জেলার সুশিল সমাজের দাবি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ঝিনাইদহের গর্ব বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রতি সম্মান জানিয়ে অন্যত্র কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভাস্কর্যটি দ্রুত স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঐতিহাসিক জানাজায় লাখ লাখ মানুষের ঢল নামলেও সেখানে দেখা যায়নি তার উত্তরসূরি ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে। ফলে তার শারীরিক অবস্থা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবে তিনি দেশ পরিচালনা করছেন কিনা- এসব প্রশ্ন নতুন করে সামনে আসছে।
তেহরানের বিশাল মোসাল্লা মসজিদে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হওয়া জনতার ভিড়ের মধ্যে একটি ঝাপসা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ধর্মীয় পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে বারান্দা থেকে অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। অনেকেই ধারণা করেন, তিনিই মোজতবা খামেনি। তবে পরে ইরানি আলেম রেজা মুসাভি ওয়ায়েজ জানান, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই। ফলে মোজতবার উপস্থিতির গুঞ্জনও ভেস্তে যায়।হামলার পর থেকেই আড়ালে: গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হন। একই হামলায় নিহত হন খামেনির স্ত্রী এবং মোজতবার স্ত্রী। তবে ওই হামলায় মোজতবা খামেনি প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তার কোনো ভিডিও বা কণ্ঠবার্তা প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তিনি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা সহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: খামেনির জানাজার আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, মোজতবা খামেনিও এখন “মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু”। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইরান বিশেষজ্ঞ মোহসেন মিলানি বলেন, যুদ্ধের সময় ইরানের গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে মোজতবার প্রকাশ্যে আসা তাকে হত্যাচেষ্টার ঝুঁকিতে ফেলতে পারতো। এতে শুধু নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলাও জটিল হয়ে যেত। এদিকে খামেনিকে দাফনের আগে শোকযাত্রায় অংশ নেয়া অনেক সমর্থক ‘মোজতবা, আমরা আপনার সেবায় প্রস্তুত’- এমন স্লোগানও দেন। তবে ছয় দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানের কোথাও মোজতবাকে দেখা যায়নি। এমনকি বাবার দাফনের সময়ও তিনি ভাই মোস্তফা, মাসউদ ও মেইসামের পাশে উপস্থিত ছিলেন না। এদিকে মোজতবার অনুপস্থিতিকে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরাকে খামেনির শোক মিছিলে নতুন সর্বোচ্চ নেতার পোস্টার বহনকারীদের ছবি প্রকাশ করে তারা ব্যঙ্গ করে লিখে, বাবার জানাজায় ইরাকে মোজতবার আবেগঘন উপস্থিতি।
দেশের সকল গণমাধ্যম তথা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করেছে সরকার। শুক্রবার এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, গত ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধীর কোনো ধরনের বক্তব্য, সাক্ষাৎকার, অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যাপারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এমতাবস্থায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার কোনো প্রকার ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য সরাসরি কিংবা ধারণকৃত অবস্থায় কোনো গণমাধ্যমে (টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক মাধ্যম) প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
দেশের সকল গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকবৃন্দ প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে সরকার প্রত্যাশা করছে।
টানা ছয় দিনের অতি ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও হাটহাজারীসহ অন্তত ১৫টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।বন্যার পানিতে হাজার হাজার বসতঘর তলিয়ে গেছে। বহু কাঁচা ও মাটির ঘর ধসে পড়েছে। অধিকাংশ এলাকায় রান্না করার সুযোগ নেই। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও অসংখ্য মানুষ এখনো ঘরবাড়িতে অথবা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্লাবিত এলাকার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে থাকায় ত্রাণ পৌঁছাতেও বিঘ্ন ঘটছে।জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়ার পাশাপাশি বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও হাটহাজারীর বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও শিশুখাদ্যের সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে।মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়েছে সাতকানিয়া। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সার্কেল কার্যালয়, পৌরসভা এবং থানায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। উপজেলা তিনটি হচ্ছে, চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’। একটি নতুন থানা হচ্ছে চট্টগ্রামের ‘হালদা’।বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার ১২১তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এসব উপজেলা ও থানা অনুমোদন হয়।’এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা প্রকল্পের অংশগুলো ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।নিকার প্রস্তাব অনুযায়ী তিনটি নতুন উপজেলা হচ্ছে, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘পাগলা’ উপজেলা। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার এই বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুইটির যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়।এনিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, যারা সুপ্রিম লিডার আলি খামেনিসহ অন্যান্য নেতাকে হত্যায় জড়িত তাদের শাস্তি দেয়া হবে।তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ যে নিতে হবে তা এখনো এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে। এক বার্তায় জোলঘাদর বলেছেন, খামেনি এবং অন্যান্য শহীদদের রক্তের বদলা নেয়ার ফাইল এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। যারা হামলার নির্দেশ দিয়েছে এবং এসব অপরাধ করেছে তাদের শাস্তি হবেই।সমঝোতা স্মারকের আলোকে বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৬০ দিনের যুধবিরতি চলছে। তবে সমঝোতার পরেও হরমুজ প্রণালিতে দেশ দুইটির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা দেশ দুইটির মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এন এস বি ডেস্ক: রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় সংঘটিত এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সি আইডি)’র এক কর্মকর্তা। অভিযানে এক ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার এবং ছিনতাই করা ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।জসীম উদ্দিন খান জানান, এ দিন আনুমানিক বেলা ১টার দিকে ভুক্তভোগী তৌহিদ আলমগীর (৪৪) শান্তিনগর এলাকা থেকে রিকশাযোগে খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ানে নিজ বাসায় ফিরছিলেন। তিনি শান্তিনগর-এজিবি কলোনী এলাকায় সিআইডির ঢাকা মহানগর (গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় ভবন) কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে তিনজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। তারা ধারালো চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে তার কাছ থেকে নগদ ৭৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।তিনি জানান, ভুক্তভোগীর চিৎকারে সাড়া দিয়ে ঘটনাস্থলের নিকটেই অবস্থানরত সিআইডি ঢাকা মহানগর-উত্তর বিভাগের উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মনির হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে একাই ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন। অসাধারণ সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তিনি এক ছিনতাইকারীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় অপর দুই ছিনতাইকারী ধারালো চাকুসহ দৌড়ে পালিয়ে যায়।