মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হাম উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু শিল্পকারখানায় আগামীকাল থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে-প্রধানমন্ত্রী সরকারকে সহযোগিতা না করে লংমার্চের নামে লংড্রাইভ করছে জামায়াত- রাশেদ খাঁন লালমনিরহাট জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে বিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ মৃত্যু শৈলকুপায় অবৈধ ভাবে পাচারের সময় ১হাজার কেজি সার জব্দ করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ হরিণাকুণ্ডুতে পতিত পুকুর থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার সাভারে পুলিশ হত্যার ঘটনায় ১ জন গ্রেপ্তার
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com
হাম উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

আব্দুল হান্নান, স্টাফ রিপোর্টার : দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ই মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৩০ জনে দাঁড়াল। একদিনে নতুন করে ১ হাজার ২৩২ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকা বিভাগে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট বিভাগেও হামের উপসর্গে ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তাদের নিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ১ হাজার ৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৯৩০ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ১৭৭ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ৭২০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ২০ হাজার ১২৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ১১৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।

শিল্পকারখানায় আগামীকাল থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে-প্রধানমন্ত্রী

সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রমান। শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে পূর্বের অবস্থার মতো ফিরবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্থিতিশীলতা না করে সরকারকে তাদের মেয়াদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়া উচিত।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় তারা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক-দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকার প্রধান।

বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সমস্যা পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’

সভায়, সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

‘ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রভাব পড়ে পুরো দেশের ওপর’

বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সমস্যা পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’

সভায়, সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে। ‘ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রভাব পড়ে পুরো দেশের ওপর’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তেল, গ্যাস ও কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে একটি টেকসই সমন্বয় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সত্যিকার অর্থেই স্বনির্ভর হতে পারে। তবে আমাদের ভবিষ্যৎ জ্বালানির সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে সৌরবিদ্যুৎ বা নবায়নযোগ্য শক্তি। আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে যেমন বহুমুখী করব, তেমনি সোলার এনার্জিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত মজবুত করব। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। আমাদের উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিরা নিজেদের মেধা, ত্যাগ ও শ্রম দিয়ে দেশের শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, সরকার নীতিগত পূর্ণ সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি খাত সেই নীতির কার্যকর প্রয়োগ করবে। সরকারি ও বেসরকারি খাত একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা জানি, এই গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পেছনে ১৬ বছরের একটি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন ছিল; যার ফলে বহু সংকট পুঞ্জীভূত হয়ে পাহাড়সম রূপ নিয়েছে। হয়তো রাতারাতি, এক মাসে কিংবা এক বছরে সেই সব সংকটের সমাধান করা দুরূহ। তবে এই সরকারের শতভাগ সদিচ্ছা, গভীর আন্তরিকতা এবং সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যার বাস্তব চিত্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হয়েছে।

আলোচনার বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ তাদের চলমান সংকট ও চ্যালেঞ্জের কথা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরেছেন। সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, প্রতিটি সংকটই আসলে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ও তাদের সংগঠনগুলোর সাথে সরকারের এই অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করতে এবং যৌথ সংলাপের এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা নিয়মিত এমন মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার অর্থে স্বনির্ভর, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও সার্বভৌমিক শক্তিতে বলীয়ান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, শিল্প-কারখানাগুলোতে মঙ্গলবার রাত থেকে সংকট শুরুর আগের মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় আগামী দিনে দেশে কীভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন হবে, তার একটি পরিষ্কার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক। তার মতে, এর মাধ্যমে শুধু চলমান সংকটের সমাধান নয়, শিল্পের বিকাশ ও বিনিয়োগের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে। জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়েও ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। পাশাপাশি দেশজুড়ে গৃহস্থালি কাজেও জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে চলতি মাসে সামগ্রিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানসহ গণমাধ্যম ও টকশো ব্যক্তিত্বরা। সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।

সরকারকে সহযোগিতা না করে লংমার্চের নামে লংড্রাইভ করছে জামায়াত- রাশেদ খাঁন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এখন জাতীয় সংকট, এই সংকট সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করা দরকার। কিন্তু জামায়াত এই সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা না করে লংমার্চের নামে লংড্রাইভ করছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। এই জামায়াত ৯৬ এর বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেছিল। জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত এখন আওয়ামী লীগকে বিক্ষোভ করার সাহস যোগাচ্ছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি জামায়াত আমীরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা লংমার্চের নামে লংড্রাইভ বন্ধ করুন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাশেদ খান আওয়ামী লীগের মিছিল প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগ আর ফিরবে না। শেখ হাসিনা মারা গেলে তার লাশও দেশে ফিরিয়ে আনার মতো শেখ পরিবারের কেউ নেই। আওয়ামী লীগের নেতারা কেউ দেশেই আসতে পারবে না। আওয়ামী লীগ এখন পঁচে গলে ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশের জনগণ তাদের আর গ্রহণ করবে না।
জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, তিনি তো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বক্তৃতায় বলেছেন, তিনি অনেক বড় হ্যাডমওয়ালা, তার হ্যাডম নাকি শেখ হাসিনা জানতেন। আমার ইচ্ছে, আমি শেখ হাসিনাকে যদি পেতাম, তাহলে শফিকুল ইসলাম মাসুদের হ্যাডম বা শক্তি কতটুকু তা জানতে চাইতাম। গুপ্ত বট বাহিনী দিয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদ সহ জামায়াতের নেতারা বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের চরিত্র হনন করছে। তারা সেনাবাহিনী মানে না, তারা কোনো বাহিনী মানে না। কারণ তাদের কাছে তাদের বট বাহিনীই সবকিছু।
সার সংকট ও কৃষকের ভোগান্তি প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, দেশে কোনো সার সংকট নেই। ডিলাররা কৃত্রিম ভাবে সার মজুদ করে সংকট দেখানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে সারের ডিলার হিসেবে কারা নিয়োগ পেয়েছে তা সবাই জানে। সরকার সেই সব ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগী সার ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সার ব্যবসার পুরো সিস্টেম নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসময় তিনি কৃষকদের ধৈর্য্য ধারণ করার আহ্বান জানান।
এর আগে বেলা ১০টায় সদর উপজেলার তেতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাশেদ খান। এসময় জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দীনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সভায় অংশ নেন।

লালমনিরহাট জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
মোঃ গোলাপ মিয়া, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৫টায় লালমনিরহাট সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হাসান রাজীব প্রধান এবং লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রোকন উদ্দীন বাবুল।
সভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান।
সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা এবং জেলার সার্বিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রতিবেশী ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি ভারতে রপ্তানি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রপ্তানি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ভারতে বাংলাদেশ ৩৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ ডলার।

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

ভারতের বাজারে রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় বৃদ্ধির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি প্রায় ৯১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

বাংলাদেশের জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাজারগুলোর একটি। ফলে দেশটিতে রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইপিবি’র তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পেনে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার। ফলে ওই অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২১ কোটি ডলার।

এই বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের জন্য ভারতের বিশাল ভোক্তা বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার তৈরি করা গেলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার সুযোগ রয়েছে।

এ সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ, পরিমাণ ৯৭ কোটি ৪ লাখ ডলার। নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, পরিমাণ ৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দেশটিতে রপ্তানি ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, পরিমাণ ৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার। মেক্সিকোতে রপ্তানি ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

সুইডেনে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ, পরিমাণ ১৩ কোটি ৪ লাখ ডলার। অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সামগ্রিক রপ্তানি চিত্রও আগস্টে বেশ ভালো ছিল। ওই মাসে বাংলাদেশ ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের আগস্টের ৩৯২ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

বড় বাজার, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে রপ্তানিকারকদের কাছে ভারতের বাজারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বলছে, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি ভারতসহ আঞ্চলিক ও উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্যসহ অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ভারতের বাজারকে আরও বেশি কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশ এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও রপ্তানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র : বাসস

মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে বিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

স্টাফ রিপোর্টার: তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এজলাসে শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানির একপর্যায়ে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি ও বার সভাপতির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।
ঘটনার সময় এজলাসে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তথ্য গোপনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়টি নিয়ে শুনানির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।

ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ মৃত্যু

ডেঙ্গু ভয়াবহরূপ নিচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও এক হাজার ৫৭১ জন। এই সংখ্যাও চলতি বছরে সর্বোচ্চ।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ১৩০ জন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন রোগী।

শৈলকুপায় অবৈধ ভাবে পাচারের সময় ১হাজার কেজি সার জব্দ করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার চড়িয়ার বিল বাজার থেকে পাঁচারের সময় ১ হাজার কেজি সার জব্দ করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছে কৃষি বিভাগ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ সার জব্দ করা হয় এবং পরে তা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি মূল্যে বিক্রয় করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া বাজার থেকে একটি ভ্যানে ১৫ বস্তা ডিএপি ও ৫ বস্তা টিএসপি সার শৈলকুপার ফুলহরি গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে যাচ্ছিলো। চড়িয়ার বিল বাজারে পৌঁছালে স্থানীয় কৃষক ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সার বোঝায় ভ্যান জব্দ করে পুলিশ ও কৃষি অফিসে জানায়। পরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাকিব আহমেদ ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের সহযোগীতায় সার জব্দ করে।
শৈলকুপার মির্জাপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাকিব আহমেদ বলেন, আমরা এসে পুলিশের সহযোগীতায় সার জব্দ করেছি। জব্দ করা সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি মূল্যে বিক্রয় করা হয়েছে। সার বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

হরিণাকুণ্ডুতে পতিত পুকুর থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডতে পতিত পুকুর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টার দিকে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ভেড়াখালী গ্রামের মখলেছুর রহমান ঝন্টু মাস্টারের পুকুর থেকে এই লাশটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের মৃত মুরাদ আলীর সন্তান সাদুল্লা ওরফে দোলা (৪০) এর বলে জানিয়েছে স্বজনরা ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোড়াখালী গ্রামের একটি পতিত পুকুরের পাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে পুকুরে খোঁজাখুজি করার পর একটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহটি  উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। দোলার স্বজনরা জানান, গত তিনদিন আগে সে বাড়ি থেকে হারিয়ে গেছে, বহু খোজাখুজির পরেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা আরও বলেন মাঝে মাঝে সে এরকম হারিয়ে যেত পরে আবার কয়েকদিন পরে বাড়ি ফিরে আসত। এবার আর আসেনি। তার মৃগী রোগ ছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানাগেছে। ধারণা করা হচ্ছে গত তিনদিন আগে বাতাবি লেবু পাড়তে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে গিয়েছিল। তবে কখন পানিতে পড়েছিল তা এখনো সঠিক করে জানা সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন দৌলতপুর ইউনিয়নের ভোড়াখালী গ্রামের একটি পরিত্যাক্ত পুকুর থেকে সাদুল্লা @ দোল্লা (৪০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাড়ি পার্শবর্তী রাধানগর গ্রামে। মরদেহটি পোষ্টমর্টামের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাভারে পুলিশ হত্যার ঘটনায় ১ জন গ্রেপ্তার

গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে সাভারে নিজ বাসার সামনে পুলিশের (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার ভোরে আমিনবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলাম প্রাইভেটকারটির চালক ও মালিক।ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘পুলিশ সদস্য আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মূল হোতা প্রাইভেটকার চালক ও মালিক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’এর আগে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী এলাকায় আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ সময় আলতাফের ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও (২৬) গুরুতর আহত হন। নিহত আলতাফ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে।নিহত আলতাফ হোসেন রাজধানীর মালিবাগ জোনে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসআই পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বড়দেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় গেঞ্জি ফ্যাক্টরির সামনে একটি প্রাইভেটকার রাখাকে কেন্দ্র করে ১০-১৫ জনের হামলার শিকার হন আলতাফ ও তার ছেলে আরিফ।পরে তাদের রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই আলতাফ হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।’

Theme Created By Uttoron Host