উপলব্ধ–১
—————
জ্ঞান হওয়ার পর থেকে একে একে ৫০ বছর পেরিয়ে এলাম।এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এ উপলব্ধি হয়েছে যে,পরিকল্পিত ও উন্নত জীবন গড়তে হলে অন্য অনেক উপাদানের পাশাপাশি অন্ততপক্ষে তিনটি বিষয় আশ্রয় করা খুব জরুরী। এ তিনটি বি ষয়কে সংক্ষেপে তিন’ ব’ দিয়ে প্রকাশ করা যেতে পারে।যেমন ঃ- ১. বই ২. ব্যায়াম ও ৩. বন্ধু।এবার বিষয়টি একটু খোলাসা করে আলোচনা করা যাক।
১. বই অর্থাৎ বিদ্যা।বিদ্যা মানুষের জ্ঞানচোখ খুলে দিয়ে সমাজের ভাল- মন্দকে বেছে নিতে সাহায্য করে; মূল্যবোধ জাগ্রত ও উন্নত করে।জ্ঞানানুশীলন ব্যক্তির সৃজনশীলতা বাড়ায় ও তাকে বিজ্ঞানমনষ্ক করে গড়ে তোলে।সমাজ- সংসারে অর্থ,যশ, খ্যাতি এনে দেয়।অর্থ বিত্ত অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞানের জ্যোতি মরণশীল মানুষকে পৃথিবীতে অমর করে রাখে।আবার, একটা বই নিঃসঙ্গ জীবনে ভাল বন্ধুর মত সঙ্গ দিতে পারে; মুস্কিল আসানের ক্ষেত্রে হয়ে উঠতে পারে পরামর্শক ও পথ প্রদর্শক।
২. ব্যায়াম অর্থে খেলাধুলা,শরীরচর্চা,যোগাভ্যাস ইত্যাদি।ছোট বেলা থেকে নিয়মিত শরীরচর্চা সুস্থ শরীর ও বিদ্যাভ্যাস উপযোগী মনন গঠনে যথেষ্ট দরকারী।বলা হয়ে থাকে – সুস্থ শরীরেই সুস্থ মন।নিয়মিত শরীরচর্চা ও যোগাভ্যাস একদিকে যেমন জীবনকে নিরোগ আর দীর্ঘায়ূ করতে সহায়ক হয় অন্যদিকে তেমনি দেহ- কান্তি সুশ্রী ও সুন্দর করে গড়ে দিতে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. এবার আসি বন্ধুর কথায়।বন্ধু বলতে ভাল বন্ধু ; আদর্শবান ও উচ্চনৈতিকতা সম্পন্ন বন্ধু,তা সে যে বয়সের এবং যে লিঙ্গেরই হোক না কেন।একজন ভাল বন্ধু আপদে বিপদে পাশে দাঁড়ায়,দুঃখের দিনে কাঁধে শান্ত্বনার হাত রেখেই ক্ষান্ত হয় না, দুঃখভার লাঘবের৷ উদ্যোগ নিয়ে বন্ধুকে বিপদ মুক্ত করার চেষ্টা করে।সজ্জন বন্ধুর সাহচর্যে নানারকম সদগুণ অর্জন করা যায় যা সমাজ ও প্রতিবেশে নিজকে উচ্চস্তরে অধিষ্ঠিত করতে অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়।অকৃত্রিম বন্ধুর সান্নিধ্য মনে আনন্দের সঞ্চার করে জিবনকে নির্ভার করে দেয় বলে জীবনের সকল ক্ষেত্রে তার উপর নির্ভর করা চলে।
তাই,জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে হলে উল্লিখিত তিনটি বিষয় অন্তরে ধারণ করা একান্ত প্রয়োজন।