প্রিয় শেখ রাসেল,
তোমার আর আমার বয়সের মধ্যে অনেক মিল,
তোমার স্বপ্ন আশার সাথে আমার আকাঙ্ক্ষা ও খেলার অনেক মিল।
তুমি যখন আঁকা বাঁকা পথে সাইকেল চালাতে দ্রুত ও ধীরে,
আমিও তখন রাস্তায় রাস্তায় সাইকেল চালাতাম দূর বহুদূরে-
একাত্তরে আমরা যুবক হলে দুজনই যুদ্ধে যেতাম স্বাদেশ মুক্তির।
তোমার সাথে আমার পরিচয় ও পার্থক্য শুধু তোমার বাবা ছিলেন সৎ,
এদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক স্থপতি ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
আমার বাবা ছিলেন ছোট চাকুরিজীবী সততায় মহৎ!
পাশাপাশি মৃত্তিকার মাঠে মাঠে ফসল ফলানো দরিদ্র কৃষক!
শ্রমজীবী ও কর্মজীবী আবাদের খামারেও তিনি ছিলেন বিজ্ঞ বিবেক।
যে মানুষটি যুদ্ধের সময় স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করেছিল আমরণ।
তোমার বাবার পবিত্র রক্তের সাথে এদেশের কৃষকের রক্তের অনেক মিল!
এক মমতাময়ী নিগূঢ় সম্পর্ক ও বিশ্বাসী চেতনায় সংগ্ৰামী সরল।
তুমি হয়তো জানো,তুমি ছিলে নগরের বুকে দূরন্ত কিশোর দীপ্তকর!
আমি ছিলাম গ্ৰাম্য বালক মৃত্তিকার আঁকা বাঁকা মেঠো পথে নিম্ন মধ্যবিত্ত অনাহারী।
তোমার বাবা ছিলেন গ্ৰাম ও নগরের বুকে মানবতার রাখাল রাজা!
তোমার পূর্বেপুরুষের সাথে আমার পূর্বপুরুষদের ছিল অনেক মিল সজ্জা!
তাই আমরা একসাথে খেলা করতাম প্রয়োজনে ন্যায়পরায়ণ যুদ্ধ করতাম!
আগামী দিনের নতুন সংসার সংস্কারে শান্তির দিন খুঁজতাম।
তুমি বেঁচে থাকলে আর্দশ রাজনীতিবিদ হতে সময়ের দিশারী!
প্রিয় বন্ধু এখন তুমি নিঃশব্দে ঘুমিয়ে আছো মাটির বুকে দেশপ্রেম দীপ্তকর!
আমি কবি এখনো তোমার কথা লিখে যাই বিপ্লবী বার্তায় অগ্নি দহন!
সাহসী জীবন আর নতুন শেকড়ের অনলে দাউ দাউ সংগ্ৰামী আগুন।
অবিরাম অবিশ্রান্ত প্রেম ও ভালোবাসায় বিপুল মিছিলে আন্দোলনের কথা।
আঁকা বাঁকা গুণ গুণ ধ্বনিতে প্রবাহিত তোমার প্রিয় নদীর কথা।
অতন্দ্র নীরব নগর গ্ৰাম ও তোমার ছেলেবেলার স্মৃতিময় কথা।
দীপ্ত আলোর উপর তোমার মহতী জীবনের সেবা কল্যাণের কথা।
জীবন্ত রাত্রির আঁধারে তুমি এখনো জেগে আছো জ্বল জ্বল নক্ষত্র!
আগামী দিনের সুস্বাগত ও সু-ষমবন্টন বিপ্লবী জীবন অধিকার চিত্ত!
ইতিহাসের সৌন্দর্যভরা তোমার এই প্রিয় স্বদেশের বিদগ্ধ প্রেমে,
পাখিরা উড়ে যায় আসমান আকাশ ছুঁয়ে দূর দিগন্ত জীবন কর্মে।
তুমি ফিরে আসলে এই বসন্তের সোনালী আবর্তে জীবনগুলো হতো স্থির চঞ্চল,
নবীন উত্তরসূরীরাও জেগে উঠতো সৌরভ ছড়াতো প্রকৃতির উদ্যানে ফুল ফল।
বাংলাদেশ বিনয় প্রতিধ্বনির চেতনাতে মুখরিত হতো সমুজ্জ্বল সরল।
সদ্যজাত শিশুরা মিছিলে কোলাহল করতো সাম্য অধিকারে দীপ্ত সকাল।
তাদের সাথে তরুণ বিপ্লবী তুমি হেঁটে যেতে ন্যায়পরায়ণ বিবেক।
নতুন প্রজন্মের আরেক সংগ্ৰামী নেতা তুমি বীর সদ্য মহানায়ক!
তোমার কর্ম ছড়িয়ে যেতো লোকে লোকে দিকে দিকে আলোতে অবাক।
তোমার প্রশাস্ত বুকের গভীরে ছায়া নিতো অশ্রু ঝরা ক্ষুধার্ত মানুষ।
অথচ তুমি ফিরে এলে না,তুমি ফিরে এলে না।
তোমার শরীর থেকে ঝরে পড়া ফোঁটা ফোঁটা রক্ত এ মাটির সবুজে চিরন্তন!
পলাশ বকুল শাপলা গোলাপ জুই চামেলি রক্তজবা রক্তকরবী কৃষ্ণচূড়া রজনীগন্ধা শেফালী ফোঁটায় নন্দন!
পাথরের বুকে নূড়ির বেদনায় সাগরের ঢেউগুলোর আজো ব্যথায় জাগে ক্রন্দন।
দূর দিগন্ত থেকে সেই ধ্বনিগুলো প্রতিধ্বনিত হয় জীবন চৈতন্যময়।
তুমি ফিরে এসো তুমি ফিরে এসো বাংলাদেশের নতুন সংস্কারে কল্যাণ উদয়।