পিরোজপুর প্রতিনিধি : করোনা মহামারীর কারনে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় সাধারণ রোগীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ওয়ার্ডের বাহিরে বারান্দার ফ্লোরে বেড করে দেয়া হয়েছে রোগীদের। তিনদিনের চানা বর্ষনের ফলে ওয়ার্ডের বাহিরে বারান্দার ফ্লোরে থাকা রোগীরা অনেক ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন রোগী ও তার স্বজনরা। ১০০ শয্যা বিশিষ্ট পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে করোনা রোগীদেও জন্য ৫০ শয্যার করোনা ওয়ার্ড করা হয়েছে। ফলে সাধারণ রোগীদের জন্য বেডের সংঙ্কট দেখা দিয়েছে। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ২৯ জন সহ সাধারণ ওয়ার্ডে পুরুষ, মহিলা, শিশু, গাইনী ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে ১২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ১০০ শয্যার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে সবসময়ই রোগীদের অনেক বেশি চাপ থাকার পরেও ৫০ শয্যার করোনা ওয়ার্ড করার ফলে রোগীদের চাপ বেডে গেছে বহুগুন। ফলে ভোগান্তিতে পরেছে অনেক সাধারণ রোগীরা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় পিরোজপুরে ৮১ জনকে করোনা পরিক্ষা করে ২১ জনকে পজেটিভ পাওয়া গেছে। জেলায় মোট ১৫ হাজার ৭০০ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪ হাজার ২৩৪ জন পজিটিভ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৭০ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং ২ হাজার ৫৬৯ জন সুস্থ হয়েছেন। জেলায় ১ হাজার ৫৯৫ জন রোগী করোনায় আক্রান্ত রয়েছেন। জেলায় মোট সংক্রমনের হার ২৯ শতাংশ।
সিভিল সার্জন ডা. হাসনাত ইফসুফ জাকী জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৮১ টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনকে পজিটিভ পাওয়া গেছে। জেলা হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ওয়ার্ডে ২৯ জন এবং বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেলেক্সে আরো ২১ জন সহ মোট ৫০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের পুরুষ ও শিশু ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্ত রোগীদেও জন্য করোনা ওয়ার্ড করায় সাধারণ রোগীদের একটু সমস্যা হচ্ছে। ফ্লোরিং করে হলেও রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। আগের চেয়ে আমাদেও করোনা আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আশা করা যাচ্ছে কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।
অন্যদিকে লকডাউনের ৭ম দিনেও পিরোজপুর শহরের বাজারগুলোতে ছিলো মানুষের উপচে পড়া ভীর। কয়েকদিনের টানা বর্ষনের ফলে সাধারণ মানুষ যেনো ভুলে গেছে কঠোর লকডাউনের কথা। পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন বাজার ও সদও রোড়ের অবস্থা দেখে মনে হয় ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন যেনো ৭ দিনেই এসে থমকে গেছে। শুধু পিরোজপুর শহরের বাজার নয় এমন দৃশ্য মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, নেছরাবাদ, নাজিরপুর, কাউখালী, ইন্দুরকানী সহ প্রায় সব উপজেলার বাজারগুলোতে। বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীন বাজারগুলো চিত্র শহরের থেকেও অনেক বেশি জনবহুল। তবে সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়ক গুলো ও বিভিন্ন জণবহুল জায়গাগুলোতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী চলছে বলে জানান জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক আবু আলী মো: সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। জেলার প্রত্যেক উপজেলায় একটি ও পিরোজপুর শহরে দুইটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার জন্য মোবাইল কোর্ট টিম কাজ করে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় সরকারি বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে চলাচল করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩০টি মামলায়, ২৬ হাজার ৮৬০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মহীন মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।