রকিবুল ইসলাম রুবেল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণের জন্য নির্বাচনীয় এলাকা ভিত্তিক কর্মসূচির আওতায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই বিল উত্তোলনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কাবিটা ও টি আর প্রকল্পের পি আইসি গণ।
সকাল হলেই ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক ৩য় পর্যায় কর্মসূচির আওতায় উন্নয়ন প্রকল্পে “নিজাম মুন্সির বাড়ী হতে সুজালের বাড়ীর পশ্চিমে তেপতি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের” জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু এ প্রকল্পের সভাপতি লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোঘলহাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহবায়ক আয়নাল হক। তিনি মানুষ দেখানো কয়েকদিন কাজ করে প্রথম দফার বিল উত্তোলন করে নিয়ে কাজ আর করেননি। এখন বাকি কাজ না করে পার্টির ক্ষমতা ব্যবহার করে পুরো টাকা উত্তোলন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মোসলেম উদ্দিন নিজ এলাকার ‘তিন কানিয়া মাঠ হতে আব্দুর মহুরীর বাড়ী হয়ে সিদ্দিকুরের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে ৩ লাখ ৭ হাজার ২৮৪ টাকা বরাদ্দ নিয়ে কাজ না করেই পুরো বিল উত্তোলনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এমনকি গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ (টি আর) প্রকল্পে ‘খোলাহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট’ কাজের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রকল্পের সভাপতি ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহবায়ক জুলফিকার আলী বুলু বরাদ্দ নেন ১ লাখ টাকা। অথচ মাঠি ভরাট না করেই পুরো বিল উত্তোলন করতে আসছেন সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে। আর ‘হারাটি ডি এস আই দাখিল মাদ্রাসা সংস্কার’ প্রকল্পের সভাপতি ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহবায়ক আব্দুর সালাম সরকার মঞ্জু কাজ না করেই পার্টির ক্ষমতা দেখিয়ে বিল তুলতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, লালমনিরহাট সদর আসনের এমপি জি এম কাদের হওয়ায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা কোন প্রকল্পের কাজ ঠিক কতো করছেন না। ক্ষমতা দেখিয়ে একের পর এক বরাদ্দ নিয়ে এসে নেতাকর্মীরাই লুটপাট করে খাচ্ছে। যে পরিমান বরাদ্দ নিয়ে আসছে তার অর্ধেক টাকা দিয়েও যদি কাজ করতো তাতে এলাকাবাসী খুশি থাকতো। কিন্তু নেতাকর্মীরা কাজ না করেই অফিসে পার্টির ক্ষমতা দেখিয়ে বিল উত্তোলন করছেন।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোঘলহাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির আহবায়ক আয়নাল হক জানান, তিনি কোন প্রকল্পের কাজ করছেন না। তার নাম দিয়ে অন্য কেউ কাজ করতে পারে। তবে, প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে আপনার নামে স্বাক্ষর রয়েছে, স্বাক্ষরটি কার ? এমন প্রশ্ন করলে আয়নাল হক কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, কাজ না করে কেউ পুরো বিল উত্তোলন করতে পারবে না। সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে তার পরেই বিল উত্তোলন করার অনুমতি দেয়া হবে।