কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ঃ কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র তার পিতার কুলখানি অনুষ্ঠানের পরিবর্তে ওই অর্থ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগী মেধাবী কলেজ শিক্ষক মোঃ শাহাদৎ হোসেনের চিকিৎসায় উৎসর্গ করে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। কুড়িগ্রান সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের মেধাবী প্রভাষক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বেশকিছু দিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মূমুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে শয্যাশায়ী মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন । তার চিকিৎসার জন্য প্রায় ৮০ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে তার পরিবারকে জানিয়ে দেন সংশ্লষ্ট চিকিৎসক । কিন্তু এত বিশাল অংকের টাকা খরচ করার মত সামর্থ ওই শিক্ষক পরিবারের নেই । এ অবস্থায় মেধাবী শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেনকে বাচাতে তার পরিবার সকলকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান।
গত ৬ জুলাই পৌর মেয়র কাজিউল ইসলামের পিতা বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী করিমল মিয়া বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ওইদিন করিমল মিয়ার মৃত্যু পরবর্তী নামাজে জানাজা অনুষ্ঠানে তাদের পরিবারের সীদ্ধান্ত মোতাবেক পৌর মেয়র কাজিউল ইসলাম ঘোষণা করেন, তাঁর পিতার (সাতদিনের) কুলখানি অনুষ্ঠান বাতিল করে ওই পরিমাণ অর্থ এক লক্ষ টাকা ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেনের জীবন রক্ষার চিকিৎসায় প্রদান করা হবে। পৌর মেয়রের ভাই এডভোকেট আমিনুল ইসলাম তার ভাইয়ের ঘোষনাটি তাদের পরিবারের সবার সীদ্ধান্ত বলে জানিয়ে মূমুমূর্ষ শিক্ষকের জীবন রক্ষায় সমাজের দানশীল সকলকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেন। মেয়র পরিবারের দেয়া নগদ ১ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন অসুস্থ শিক্ষকের পক্ষে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মান্নান, উপাধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন-পৌর মেয়র কাজিউল ইসলামসহ তার সাত ভাই মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ সহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিমানের ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মমিনুল ইসলাম, এডভোকেট আমিনুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা লুৎফর রহমান গেন্দু, বিশিষ্ট ঠিকাদার মঞ্জুরুল ইসলাম রাজা ও বোন চাকুরী জীবি মোছাঃ কামরুন নাহার পুতুল প্রমুখ।
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হেমাটোলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ ও রেডিওলোজী বিভাগের চিকিৎসক ডা. সৈয়দা শওকত জেনির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মীর্জা নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, রংপুর সদরের মমিনপুর গ্রামের বর্গাচাষি আনারুল হকের দুই মেয়ে এবং এক ছেলে সন্তানের মধ্যে প্রভাষক শাহাদৎ হোসেন সবার ছোট এবং সদ্য বিবাহিত সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি।
তিনি ৩৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের একজন সদস্য।
প্রভাষক শাহাদৎ হোসেনের চিকিৎসায় অর্থ সংগ্রহে বর্তমানে সোনালী ব্যাংক, কুড়িগ্রাম শাখায় ‘শাহাদৎ হোসেন চিকিৎসা সহায়তা তহবিল নামে একটি হিসাব খোলা হয়েছে। যা কলেজের অধ্যক্ষসহ আরও দুই জন কর্মকর্তাকে সিগনেটরী রাখা হয়েছে। তাকে সহযোগিতার জন্য হিসাব নম্বর ৫২০৮৪০১০২৮৫২৪, রাউটিং নম্বর ২০০৪৯০৪০৭, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, কুড়িগ্রাম শাখা। বিকাশ নম্বর ০১৭১৬৫৮৩৩৬৯, নগদ ০১৭১৬৫৮৩৩৬৯ নম্বরে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।