ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক সরকারের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসময় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর-লুটপাটসহ নারীদের অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
এ নিয়ে শনিবার (৩০ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত হামলাকারীদের অব্যাহত হুমকিতে চরম আতঙ্কে আছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার খামার ধনারুয়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক সরকারের সঙ্গে যাদুরতাইড় গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে দুলু মিয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুর সবুর ব্যাপারী গংদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস বৈঠক হয়। শালিস বৈঠকে জমির প্রকৃত কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও দুলু মিয়া গংরা অন্যায়ভাবে জমি জবরদখলের পায়তারা করে। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) সকালে সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত দুলু মিয়া, হাবিবুর রহমান হাবিবসহ আরও অনেকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শামসুল হক সরকারের বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় তাদের হাতে লাঠি, রামদা, লোহার রডসহ দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অকথ্য-অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
ঘটনার সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক সরকার বাড়িতে না থাকায় তার ছেলে শাহাদত হোসেন লিকছন বাধা দিলে তাকে বেধরক মারপিট করে। এসময় তার স্ত্রী লিপি বেগম এগিয়ে আসলে তাকেও এলাপাতাড়ি মারপিট করে জখম করা হয়। তার পড়নের কাপড় খুলে বিবস্ত্র ও শ্লীলতাহানীর ঘটনাও ঘটিয়েছে অভিযুক্তরা। লিপির গলার স্বর্ণের চেইন, ঘরে ড্রয়ারের তালা ভেঙে ৫০ হাজার টাকা লুট এবং ৩০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। লিপিকে ঘরে মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখলে তার দেবর সুজা সরকার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯তে কল দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্ধার করে। এসময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বীরমুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক সরকারের ছেলে আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার (২৯ জুলাই) সাঘাটা থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে এক অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত আব্দুর রহমান ওরফে দুলু মিয়া বলেন, ‘আমরা কোনো হামলা করিনি। কে বা কারা করেছে সেটি জানা নেই।’
ওসি মতিউর রহমান ঘটনার জানান, ভাঙচুর সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।