শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১১:৩২ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

গাইান্ধায় ১২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২, ৫:৫৯ অপরাহ্ন

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্রের পানি ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এ দুটি নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার বন্যা কবলিত সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বানের পানিতে ডুবে যাওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম সম্পুর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ওই ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকার ২৩টি ইউনিয়নে ৯৬টি গ্রাম বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ৪৭ হাজার ৫৬৩ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫ হাজার ৫৮৪ জন। নিমজ্জিত হয়েছে ১ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমির ফসল।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, বন্যা কবলিত ৪ উপজেলার ১১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পানি ওঠায় পাঠদান কার্যক্রম সম্পুর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে জেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পানি ওঠায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এ পর্যন্ত বন্যা কবলিত ৪ উপজেলার ১ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপন করা যায়নি।
অপরদিকে সিভিল সার্জন সুত্রে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি জনিত কারণে ১০৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল টিম বন্যা দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা দেয়ার কাজ শুরু করেছে।
জেলা প্রশাসন সুত্র জানিয়েছে, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নে ৯৬টি গ্রাম বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ৪৭ হাজার ৫৬৩ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫ হাজার ৫৮৪ জন।
বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এসএম ফয়েজ উদ্দিন। তিনি জানান, চার উপজেলার বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তালিকা করে এসব চাল বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আট হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট মজুতের পাশাপাশি ৪ হাজার তাঁবু, স্থায়ী ১০টিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র, মেডিক্যাল টিম এবং ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে বেশকিছু জলযান প্রস্তুত রাখার কথাও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host