মোঃ গোলাপ মিয়া আদিতমারী (লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন পর হলেও আলোর মুখ দেখছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। বদলে গেছে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা ও রোগিদের খাবারের মান। সেই সাথে যোগ হয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও লোকবল। সেবার মান ডিঙ্গিয়ে রংপুর বিভাগে ২য় ও জাতীয় পর্যায়ে হাসপাতালটি জায়গা করে নিয়েছেন। আর এ অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জি,আর, সারোয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস ফারুক তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে হাসপাতালে তদারকি ও সর্বসময়ের খোঁজখবর নেওয়া চিকিৎসা ও খাবারের মান ফিরে এনেছে।হাসপাতালটির বর্তমান প্রশাসনিক প্রধান ডাঃ তৌফিক আহমেদ হাসপাতালের স্টাফ দের সহযোগিতা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে ।
জানাগছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে উপজেলায় কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র চিকিৎসার আবাসস্থল। দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম অবহেলা ও প্রয়োজনীয় লোকবলসহ বেশকিছু যন্ত্রপাতির অভাবে ভোগান্তির শেষ ছিল না চিকিৎসা নিতে আসা রোগিদের।সরেজমিন জানাগেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তৌফিক আহমেদ ২০২০ সালের ২২ আগস্ট অত্র উপজেলায় যোগদান করেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চিকিৎসা ও রোগীদের খাবারের সঠিক তদারকি করা হাসপাতালের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে । হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে, প্রতিদিন অন্তত বহিঃবিভাগে ৬ শতাধিক ও আন্তঃবিভাগে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগি ভর্তি হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। যা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশী।উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সুত্র মতে,,গত ২০১৯ সালে আদিতমারী হাসপাতালে ডেলিভারী করা হয়েছিল ৩৮৬টি, ২০২০ সালে ৩১১টি। আর ২০২১ সালে এসে দাঁড়ায় ৫০১টি। এছাড়া ২০১৯ সালে হাসপাতালে মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৪৭২ জন । এরমধ্যে বহি:বিভাগীয় রোগী ছিল ৩৩ হাজার ৪৭৫ জন। ২০২০ সালে মোট রোগী ৪৬ হাজার ৩৩৩ এরমধ্যে বহি:বিভাগীয় রোগী ছিল ৩০ হাজার ৪৭৫ জন। আর ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ৯৬৭ জন। এরমধ্যে বহি:বিভাগীয় রোগী ৬৩ হাজার ৬৫ জন। এছাড়াও ২০২১ সালে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার,৭৪৮ জন সেবাগ্রহীতাকে করোনা ভ্যাক্সিনের বহি:বিভাগীয় সেবা প্রদান করা সহ বহি:বিভাগীয় মোট সেবার পরিমান দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৪ হাজার ১৫ জন। যা অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছেন।
এদিকে আদিতমারী হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ তৌফিক আহমেদ বলেন হাসপাতালে নতুন এসি এ্যাম্বুলেন্স, যক্ষা সনাক্তকরণে অত্যাধুনিক জিন এক্সপার্ট মেশিন সংযোজন করা হয়। এক্সরে মেশিন সংযুক্ত করা হয়েছে কিন্তু জনবল ও এইচইডি এক্সরে রুম প্রস্তুত করে দেয়নি বিধায় চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে সেটি দ্রুত চালু করা হবে বলে কর্মকর্তা দাবী করেন। এক্স মেশিন চালু হলে স্বাস্থ্য সেবায় আরোও একধাপ এগিয়ে যাবে হাসপাতালটি। এছাড়া হাসপাতালটির ভবণ মেরামত ও বাউন্ডারি রং করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক কার্যক্রম তদারকির জন্য ওয়াকিটকি ও জরুরী সেবার জন্য পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে বসানো হয়েছে সিসিটিভি। পুরো হাসপাতাল জুড়ে শোভা পাচ্ছে আলোকসজ্জা।উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চল থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মাহাতাব উদ্দিন বলেন, এর আগে এত সুন্দর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা আর পরিবেশ তিনি দেখেননি। একই কথা বলেন, সেবা নিতে আসা একই ইউনিয়নে বাহাদুরপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন , কমলাবাড়ী ইউনিয়নের এমদাদুল হক রিপন ।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তৌফিক আহমেদ বলেন, হাসপাতালের সেবার মান থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই সকলের প্রচেষ্ঠায় পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করে আসছি । তিনি আরো বলেন,সকলের সহ্যোগিতায় হাসপাতালটি একটি মডেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে সম্ভব হবে ।