শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১২ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

গোবিন্দগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে হাল চাষ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
Update : বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২২, ৫:৩৬ অপরাহ্ন

 ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ কালের বিবর্তনে বর্তমানে চোখেই পড়ে না আবহমান গ্রামীন বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য গরু দিয়ে হাল চাষ। কৃষি নির্ভর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফসল ফলানোর একমাত্র অবলম্বণ ছিল গরু দিয়ে হাল চাষ। বাঙ্গালীর হাজার বছরের ঐতিহ্য গরু দিয়ে হাল চাষ আজ বিলুপ্তির পথে। উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, এক সময় কৃষক পরিবারগুলো কামারের এক টুকরো লোহার ফাল, ছুতার, বা কাঠমিস্ত্রির হাতে তৈরি কাঠের লাঙ্গল, জোয়াল আর বাঁশের তৈরি মুটিয়া, ইঁশ, পাতার, গরুর মুখের টোনা পেল্টি বা গরু শাসনে পাচুনি লাঠি, মই ব্যবহার করে জমি চাষবাদ করত। হালচাষের জন্য বানিজ্যিকভাবে গরু-মহিষ পালন করা হতো। নিজের সামান্য জমিতে হালচাষের পাশাপাশি জীবিকার উৎস ছিল এটি। এসব চিত্র এখন দেখা যায় না।
বর্তমানে গরু দিয়ে হাল চাষ দেখা মেলে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের ফসলি জমি চাষাবাদ মাঠে। ওই গ্রামের কৃষক ওহেদুল ইসলাম বলেন, তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে হালচাষ আর গরুর পালের সঙ্গে। সেই দিনগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। গরুর হালচাষের উপকারিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, লাঙ্গলের ফলায় জমি গভীর পর্যন্ত উলট-পালট হয়ে নিচের পুষ্ঠিগুণ ওপরে চলে আসে, বায়ু সহজে চলাচলের পরিমান বাড়িয়ে দেয়, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, প্রকৃতির লাঙ্গল কেঁচোসহ উপকারী কীটপতঙ্গ ধব্বংস হয় না, জমিতে ঘাস কম হয়। গরুর গোবর জমিতে পড়ে জৈব সারে ফসল ভালো হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে চলছে দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি। কম পরিশ্রমে, স্বল্প সময়ে অধিক ফসল ফলাতে মানুষ এখন যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে ক্রমেই কমে যাচ্ছে হালচাষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host