রকিবুল ইসলাম রুবেল,লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বাবুর আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
জানা যায়, বাবুর আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০১৯ সালে ৪ তলা আইসিটি ভবনের বরাদ্দ পায় । তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্কুলটির পূর্বের ভবন ওয়াকশন না দিয়ে সেটি আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম মোল্লা। তিনি স্কুলের পুরনো বিল্ডিংয়ের ওয়াকশনে না দিয়ে অফিস কক্ষের ২ রুম ও ক্লাসরুমের ০৬টি কক্ষ ভেঙ্গে পুরাতন ইট , গুড়া বালু, টিন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিজের বাড়ির দেয়াল ও গোডাউনের কাজে লাগান এবং অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেন।
শুধুমাত্র তাই নয় প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধান্তে রাতারাতি মনগড়া স্কুল কমিটি গঠন করে এবং সেই কমিটি দ্বারা নিয়োগ বাণিজ্য সহ রাতারাতি কতিপয় লোকের সহযোগীতায় রাস্তার গাছ কাটে যার আনুমানিক মূল্য ৫ লক্ষ টাকা। এই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ায় একক ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠানের গাছ আরো কয়েক ধাপে কেটে আত্মসাৎ করেন।
এ সব অভিযোগের বিষয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারী এলাকাবাসীর পক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন হাদিউজ্জামান ও মনিরুজ্জামান নামের দুই ব্যাক্তি। অভিযোগ আমলে নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক গত ৩ মার্চ কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ৩৭.০২.৮৫০০.০০০.০৮.০০৪.২১.৪৯৫ নং স্বারকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোবাশ্বির হোসেন ৯ মার্চ তার কার্যালয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নজরু ্ইসলামকে চিঠি দিয়ে ডাকেন।
তদন্ত কর্মকর্তা কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোবাশ্বির হোসেন তদন্তে সত্যতা পেয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাকে শোকজ করা হয়েছে।এখনো শোকজের জবাব পাইনি।পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এবিষয়ে বাবুর আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন বলে মুঠোফোনে জানান।