বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মিয়ানমারের জনগণ ভারতে পালাচ্ছেন  কাটাখালী বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়ক দখল করে ট্রাক-টার্মিনাল:দেখার কেউ নেই ফকিরহাটের লখপুর ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর নির্বাচিত হলেন যারা ভারতীয় বিএসএফ সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে ভারতীয় নাগরিককে গুলি করে হত্যা  পত্নীতলায় জমির প্রকৃত মালিক হওয়া স্বত্বেও ভূমি দস্যুদের জমি দখলের চেষ্টা হরিনাকুন্ডু’র রেসিডো ক্লিনিকে সিজারের পর নবজাতকের মৃত্যু ঝিনাইদহে দরিদ্র কৃষকদের মাঝে বিনামুল্যে সার ও বীজ বিতরণ ঝিনাইদহে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং সমাবেশ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অর্থমন্ত্রী মহম্মদপুরে প্রাইম ব্যাংকের আউটলেট শাখার উদ্বোধন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

তিস্তার দূর্গম চরাঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ ১৫ হাজার মানুষের ভাগ্য বদল

রকিবুল ইসলাম রুবেল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
Update : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১, ৩:৪৭ অপরাহ্ন

রকিবুল ইসলাম রুবেল,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ  লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নে অবস্থিত তিস্তা শৈলমারী
চর। এ চরে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিবছর তিস্তা নদী গতিপদ পরিবর্তনের ফলে ভাঙনে নদী গর্ভে চরে গেছে শত শত একর আবাদী জমি।
নি:শ্ব হয়েছে হাজারও কৃষক। বর্ষাকালে নৌকায় কিছুটা সহজ হলেও শীত বা অন্য সময়ে দীর্ঘ ২থেকে ৩কিলোমিটার বালুপথ হেঁটে, ছোট ছোট ২থেকে ৩টি নালার পানিতে ভিজে আসতে হয় উপজেলা শহরে। নেই কোন পাকা কিংবা কাঁচা সড়ক। নেই কোন আধুনিক সুযোগ সুবিধা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই লেখাপড়ার উন্নত সুযোগ সুবিধা। কর্মসংস্থান বলতে চরের জমিতে হালচাষ, নদীতে মাছ ধরা আর চরে গরু-মোষ-ছাগল পালন করে কোনমতে দিনাতিপাত। চিকিৎসা সুবিধা একেবারেই নেই, নেই কোন চিকিৎসক। এ যেন এক আলাদা কোন জনপদ।
তিস্তা চরের সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষগুলোর কষ্ট লাঘবের জন্য বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় গত বছর কালীগঞ্জ উপজেলার শৈলমারী চরে ৩০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানী। সেই সাথে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত কোটি কোটি টাকা মুল্যের ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহন করতে তৈরী করা হয় রাস্তা, ব্রীজ ও কালভার্ট। আর এভাবেই পাল্টে যাচ্ছে তিস্তা চরের চিত্র। সৌর বিদ্যুৎ চালু হলে আলোয় আলোকিত হবে তিস্তা চর।
এদিকে ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা প্রশাসন ও সরকারের উচ্চ মহলের সাথে আলোচনা করে চর এলাকায় দুইটি বেইলি ব্রীজ, ১৮ টি কালভার্ট নির্মাণ করে এবং নদী ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য দীর্ঘ ৪ কিলোমিটার এলাকা সাই ওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। চরের কয়েক কিলোমিটার দুর থেকে বিদ্যুতে খুঁটি বসিয়ে তার সংযোগ করে বিদ্যুত নিয়ে যান ওই দুর্গম
চরাঞ্চলে। এরফলে অন্ধকারে আচ্ছন্ন ভোটমারী ইউনিয়েনর ১ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে। অবরুদ্ধ শৈলমারী চরবাসীসহ তিস্তার অন্যান্য চরের মানুষের জীবন যাত্রা পাল্টে যাবে।
টেলিভিশন দেখাসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা ভোগ করবে চরবাসী।এদিকে করোনার মহামারী এই দুঃসময়ে সোলার প্রকল্পে চরের ৫থেকে ৬শ’ জন
শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। মিলছেও ভালো মজুরী। চরের বাসিন্দা দবিয়ার রহমান বলেন, দীর্ঘ দিন এই বালু চরে আছি কেউ খোঁজ নেয়নি। আমাদের কষ্ট ছিল বারো মাস। সৌর বিদ্যুৎ’ প্রকল্পটি এসে আমাদের ভাগ্য খুলছে। চরের রাস্তা নির্মান হওয়ায় খুব সহজে আমরা এখন উপজেলা যেতে
পারছি।
শৈলমারী চরের বাসিন্দা দেলদার মুন্সী, ওয়াহেদুল ইসলাম ও বৃদ্ধ আব্দুল জব্বার বলেন, এখানে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি তাদের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। এ প্রকল্পের কারণে স্বপ্নের পাকা রাস্তা, ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। তাদের বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত তারা উপজেলা বা জেলাহাসপাতালে নিয়ে যেতে পারছেন। সহজেই তাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার জন্য শহরে যেতে পারবেন। কর্মসংস্থানের জন্য তারাও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটতে পারবেন। আর বিদ্যুৎ পেলে তাদের এই চরেই ছোট ছোট মিল, কারখানা গড়ে উঠবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চরের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরী হবে।
ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেডের প্রকল্প ডিরেক্টর অপারেশন আব্দুল হালিম জানান, বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প। এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে মূল গ্রীডে সংযুক্ত করা হবে। আর এভাবেই কেটে যাবে লোডশেডিং’সহ বিদ্যুতের সংকট।
তিস্তার পানি প্রবাহে যাতে কোন বাঁধা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য দুইটি বেইলি ব্রীজ ও ১৮ টি কালভার্ট নির্মাণ করেছেন ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড।
এছাড়াও নদী ভাঙনরোধে হার্ড মেটিরিয়াল কাজ করা হয়েছে চার কিলোমিটার এলাকায়। এছাড়াও এই উৎপাদিত বিদ্যুতের সুবিধা পাবেন চরের মানূষজনসহ লালমনিরহাট জেলার মানুষজন। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এ প্রকল্প থেকে
বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, বিদ্যুত সংকট কাটিয়ে
উঠা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর যে কমিটমেন্ট তা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি। তিনি আরও
বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন থেকে
সম্ভাব্য সব ধরেণের সহযোগিতা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host