মোহাঃ শাহীন উল কাদির, স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা। চুয়াডাঙ্গায় নমুনা পরীক্ষা ফির টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন । চুয়াডাঙ্গায় করোনার নমুনা পরীক্ষার ফি হিসেবে আদায় করা কয়েক লাখ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার কোনো প্রকার রশিদ ছাড়াই খেয়াল খুশিমতো টাকা আদায় করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। দুস্থ-গরিবদের বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষা করার কথা। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রশিদ ছাড়া কেন টাকা আদায় করা হয়েছে, আদায় করা টাকার মধ্যে সরকারি কোষাগারে কতটুকু জমা পড়েছে ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার পকেটে কত টাকা ঢুকেছে, এমন কিছু গুরুতর বিষয় খতিয়ে দেখার পাশাপাশি করোনাকালে অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করবে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিককে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অপর চার সদস্য হলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর, হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ওয়ালিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সভায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সভাপতিত্ব করেন। সভায় সূচনা বক্তব্য দেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও জেলার সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসান। তিনি চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় জানানো হয়, ২৭ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ২১ হাজার ৬৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ২১ হাজার ৫৪০ জনের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ১০২ জন করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ও তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। নমুনা পরীক্ষা বাবদ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে আদায় করা ফির ৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা গত ৩০ জুন সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার অভিযোগ করেন, নমুনা পরীক্ষায় সরকারিভাবে ফি নির্ধারণ করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। হাসপাতালে ১০০ টাকার পরিবর্তে ১২০/১৩০ টাকা এবং বাড়িতে নমুনা নিতে গেলে ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা বা তারও বেশি নেওয়া হচ্ছে। দুস্থ-গরিবদের বিনা মূল্যে পরীক্ষা করানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। তা অগ্রাহ্য করে একই হারে টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার সেবা নিয়ে টাকা জমা দিয়ে রসিদ পাওয়া নাগরিক অধিকার। কিন্তু সেবাগ্রহীতা একজনকেও রসিদ দেওয়া হয় না। রিয়াজুল বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, ৩০ জুন পর্যন্ত সদর হাসপাতালের পক্ষ থেকে ১১ হাজার মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সর্বনিম্ন ১০০ টাকা করে ধরলেও ফি আদায় হয়েছে ১১ লাখ টাকা। সেখানে কেন ৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা জমা হলো এবং বাকি টাকা কোথায় গেল, সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, নমুনা পরীক্ষার টাকা সঠিকভাবে জমা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তাঁর অভিযোগ, করোনার শুরু থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আতাউর রহমান মুন্সীকে করোনা প্রতিরোধ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। সিভিল সার্জন কেন তাঁকে সক্রিয় করতে পারছেন না, তা বোধগম্য নয়। পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগে বিভিন্ন সভায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠত। এখন অন্যান্য বিভাগের বিরুদ্ধে উঠছে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হলেও এতে উপস্থিত ছিলেন করোনা প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা জেলা কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। সভা শেষে তাঁদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে অভিযোগগুলো তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফাতেহ আকরাম, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের প্রশাসক শাফিউল কবির, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মানিক আকবর বক্তব্য দেন। তাঁরা সব অব্যবস্থাপনা দূর করা ও আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতা আনার ওপর গুরুত্ব দেন।