শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৪ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

মাদারীপুরে হয়ে গেলো পিঠা উৎসব

সুজন হোসেন রিফাত, মাদারীপুর প্রতিনিধি
Update : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

সুজন হোসেন রিফাত,রাজৈর প্রতিনিধি, মাদারীপুর: হাজার বছরের সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী আমরা। খাদ্যরসিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপূরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠাই  সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীসমাজের শিল্প নৈপুণ্যের স্মারক রূপেও পিঠা বিবেচিত হয়। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠাপুলি। যখনই পিঠা-পায়েস, পুলি কিংবা নাড়ুর কথা উঠে তখনি যেন শীত ঋতুটি আমাদের চোখে ও মনে ভেসে ওঠে। প্রতি শীতেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা পুলির উৎসব।

বাংলার নারীসমাজ অতীতে শিক্ষাদীক্ষায় অনগ্রসর ছিল সত্য, কিন্তু স্বীকার করতে হবে এদেশের নারী সমাজ লোকজ শিল্পকর্মে অত্যন্ত নিপুণ এবং সুদক্ষ। এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বা আলাদা রকম পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে সাধারণত নতুন ধান ওঠার পর থেকেই পিঠা তৈরির আয়োজন শুরু হয়।

শীতের সময় বাহারি পিঠার উপস্থাপন ও আধিক্য দেখা যায়। বাঙালির লোক ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। এটি লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই বহি:প্রকাশ। যান্ত্রিক সভ্যতার এই ইট-কাঠের নগরীতে হারিয়ে যেতে বসেছে পিঠার ঐতিহ্য। সময়ের স্রোত গড়িয়ে লোকজ এই শিল্প আবহমান বাংলার অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠলেও এ যুগে সামাজিকতার ক্ষেত্রে পিঠার প্রচলন অনেকটাই কমে এসেছে।

তাই মুখরোচক খাবার হিসেবে পিঠার স্বাদ গ্রহণ ও জনসমক্ষে একে আরো পরিচিত করে তুলতে শহরে ও গ্রামে বিভিন্ন স্থানে শীতকে ঘিরে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব। লোকজ এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে বাঙালির পিঠা পার্বণের আনন্দধারায় যুক্ত হয়েছে মাদারীপুরে কিছু তরুণ প্রজন্ম।
এমননি এক চমৎকার পিঠাপুলির  উৎসব করে  আসছে মাদারীপুরে বালিয়া যুব সমাজের উদ্যোগে  ও  স্থানীয় যুবক   হাবিব ফকিরের পরিচালনায়  গত চার বছর ধরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ পিঠা উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে।
এবছর পিঠা উৎসবে অংশগ্রহনকারীদের উৎসাহদানের জন্য  পুরুস্কার বিতরণ করা হয়।
(৩ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুরের বালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক মাঠে এ উৎসব হাজার হাজার নারী পুরুষের অংশগ্রহনই  প্রমান করে এ উৎসব সফল ও সার্থক।
এবছর পিঠা উৎসব অংশনেয় ১০টি প্রতিষ্ঠান, এরা হলো মোল্লা বাড়ী ভাইবোন, সুরাইয়া পিঠা ঘর, ভালবাসার দোকান, ভাইবোনের দোকান ব্যাচেলর স্টোর, পিঠার বাজ্য, ভাইবোন পিঠাঘর, পিঠায় হারিয়ে গেছে প্রেম, সাহনাজ স্টোর, কাজী তায়বা স্টোর ইত্যাদি।
এ পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও পুরুস্কার বিতরণ করেন মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খান, আব্দুর সালাম খান, মিন্টল মোল্লা, আনোয়ার হোসেন মাতুব্বর, বাবুল ফকির, মাহবুব আলম মোল্লা,  আব্দুল কাদের মোল্লা, দেলোয়ার হোসেন মৃধা, আব্দুল করিম মৃধা, হাজী অহেদ মোল্লা সহ প্রমূখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host