মোঃ শাহানুর আলম, স্টাফ রিপোর্টারঃ অসম প্রেমের টানে ধর্ম ও পিতা-মাতাকে ছেড়ে ঘর থেকে বের হয়েছিল নতুন করে ঘর বাধার জন্য, কিন্তু সে স্বপ্ন ভেস্তে গেল হরিনাকুণ্ডু পাভেল- অর্পিতার।
হরিনাকুণ্ডু থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রেমিক যুগলদের আটক করেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশ। প্রেমের টানে ধর্মান্তরিত হয়ে হয়ে কুষ্টিয়া নোটারী পাবলিক এ নথিভূক্ত হয়েও শেষ রক্ষা হলোনা তাদের।
পুলিশ সুত্র জানায়, গত ১৮ মে বুধবার সকালে হরিণাকুণ্ডু সালেহা বেগম মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে পাভেল ও তার সহযোগীরা অর্পিতাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২০ মে শুক্রবার দুপুরে অর্পিতার পিতা মনোরঞ্জন হালদার থানায় এসে পাভেলসহ ৪ জনকে আসামী করে অপহরণ মামলা করে।
ঘটনাটি ফেইসবুক প্রেমিরা দ্রুত ভাইরাল করে এবং কোন আইনের তোয়াক্কা না করে ভিকটিমদের ভিডিও রেকর্ড প্রচার করতে থাকে। যাতে ধর্মীয় সম্পৃতি বিন্ষ্টসহ অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর কিশোরিরা উৎসাহিত হয়ে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিনাকুণ্ডু পৌরসভার চিথলিয়াপাড়ার ইন্দ্রজিৎ হালধার ওরফে মনোরঞ্জন হালদারের মেয়ে অর্পিতা হালদার (১৭) এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার টাওয়ারপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে পাভেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই খবর অর্পিতা হালদারের পরিবারের লোকজন জেনে যায়। পরে তারা গোপনে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ২০ মে শুক্রবার পালিয়ে যায়। কিন্তু অর্পিতা হালদারের বয়স কম হওয়ায় সরকারী এফিডেভিট গ্রহন যোগ্য হয়নি বলে জানা যায়।
হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নির্দেশে প্রযুক্তি ও মোবাইল ট্রেকিং এর মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে এস,আই জগদীশ চন্দ্র সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আলমডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় হরিণাকুণ্ডু থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম অপহরণের ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, ২০মে শুক্রবার দুপুরে ভিকটিম অর্পিতার পিতা মনোরঞ্জন হালদার থানায় এসে অপহরণ মামলা করে, দায়েরকৃত মামলা নং ১২, তারিখ ২০/০৫/২০২২ইং ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী) ২০০৩ এর ৭/৩০ ধারায় অপহরণ ও তার সহায়তায় অপরাধ। ঐ দিনই মধ্যরাতেইে ভিকটিম অর্পিতা ও আসামী পাভেলকে আলমডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার ও উদ্ধার করে পরদিন সকালে তাদের কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।