শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২৩ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমি ধ্বংস করতে জামাত শিবিরের গভীর চক্রান্ত

রকিবুল ইসলাম রুবেল, লালমনিরহাট
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২২, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

রকিবুল ইসলাম রুবেল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এক স্কুলের শিক্ষার্থী অন্য স্কুলের শিক্ষার্থী দেখিয়ে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে  অনলাইনে উপবৃত্তির আবেদন। সৃষ্টি করেছে নানা জটিলতা। এতে বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমি (নিন্ম মাধ্যমিক) স্কুলের শিক্ষার্থী গণ পড়েছে মহা বিপাকে।
এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ১৯ এপ্রিল মঙ্গবার  দুপুরে  সদর উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করতে আবেদন করেছে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। 
জেলা সদরের কুলাঘাট ইউনিয়নের বোয়ালমারী বাঁশপঁচাইটি ছিল বাংলাদেশের ভিতর  ভারতের  ছিটমহল। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ছিটমহল বিনিময় হলে এটি বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড হয়ে যায়। এখানে প্রায় দুই হাজার পরিবারের বসবাস। ২০/২৫ কিঃ মিঃ মধ্যে কোন নিন্ম মাধ্যমিক বা মাধ্যমিক স্কুল ছিল না৷ বিলুপ্ত ছিটমহল ও আশেপাশের ছেলে মেয়ে লেখা পড়ার সুবিধার্থে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মতিয়ারকে স্কুল কমিটির সভাপতি করে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী ও বীরমুক্তিযোদ্ধা গণ বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমি (নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়) নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করে।২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের পরপরেই স্থাপিত হয়। স্কুলটির ৬ষ্ঠ শ্রেণির ক’জন   শিক্ষার্থী কে পাশের ভুঁইফোড় বেয়ালমারী নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিজের স্কুলের শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তির জন্য অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করেছে। বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমির   শিক্ষার্থীরা হলো আরিফ বাবু, রোল নং ৪৬,  আমিনা আক্তার, রোল নং ৭, সাবিনা খাতুন, রোল নং ২১।  এসব  শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের নগদ অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজের শিক্ষার্থী হিসেবে  বাঁশপঁচাই নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  জাল জালিয়াত করে  গোপনে উপবৃত্তির অনলাইন  রেজিষ্ট্রেশন করেছে।  প্রকৃত শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান  বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম আজ  মঙ্গলবার   মাধ্যমিক ও জেলা জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছে।
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ  ও  ভারতের মধ্যে  ১৫১টি  ছিটমহল বিনিময় হয়।  ফলে কুলাঘাট ইউনিয়নের অধীনে থাকা। বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই ছিটমহলটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।  এই বিলুপ্ত ছিটমহলে দুই/তিন হাজার কৃষিজীবী ও নিন্ম আয়ের পরিবার  রয়েছে।  এতোদিন তারা  উন্নয়ন  বঞ্চিত ছিল। সরকার  বিলুপ্ত ছিটমহলের উন্নয়ন পরিকল্পনায় একটি নিন্ম মাধ্যমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। কৃষক মোঃ আয়নাল হক জমিদাতা।  বিপুল উৎসাহ নিয়ে ২০১৫ সালে  বোয়াইলমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমি  নামে নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মোঃ মতিয়ার রহমান কে। ধীরে ধীরে নিন্ম  মাধ্যমিক হতে  কলেজ  করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে করে কম খরচে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানরা বাড়ির খেয়ে বাড়ির পাশে লেখা পড়া শিখতে উৎসাহিত হয়। প্রথম পর্যায়ে  ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের স্বীকৃতি পেয়ে ৪ শিক্ষার্থী সংখ্যা  ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৯৬ জন, ৭ম শ্রেণিতে ৭৬ জন, ৮ম শ্রেণিতে ৫২ জন, ৯ম শ্রেণিতে ৪০ জন ও ১০ শ্রেণিতে ২৫ জন। শিক্ষক কর্মচারী গণ এমপিও ভুক্ত হতে পারনি।বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  বিনা পারিশ্রমিকে ৭ বছর  ধরে পাঠদান চলছে।
২০১৯ সালে ২২ জন, ’২০ সালে ২৮ জন ও ’২১ সালে ৪৮ জন (ফুলবাড়ির দাসিয়ার ছড়া কামালপুর মইনুল হক উচ্চ বিদ্যালয় হতে ) এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছে।পাশ করেছে  শতভাগ। ইতিমধ্যে সরকারি ভাবে  একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। করোনায় দুই বছর স্কুল বন্ধ ছিল। এ সময় উগ্রমৌলবাদী জামাত, শিবির চক্র স্কুলটির পাশে (বাঁশপঁচাই নিন্ম মাধ্যমিক) পৃথক  স্কুল খুলে সরকারের উদ্যোগকে বাধা দিচ্ছে।
জামাত শিবির চক্র স্কুলের জমি রেজিষ্ট্রারী করে দেয়ার আগে রহস্যজনক ভাবে পাশে স্কুল থাকা স্বত্বেও তারা শিক্ষা অফিসের সুপার ভাইজার মিলনকে টাকা দিয়ে।পাঠদানের  অনুমোদন হাতিয়ে নিয়েছে।  ১৫/২০ লাখ টাকা নিয়ে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে।  নিয়োগ ও পাঠদানের অনুমোদন নিতে  জাল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
এই মৌলবাদী চক্র মূলত সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাসী মানুষদের  উদ্যোগে গড়ে  স্কুলটি  বন্ধের ষড়যন্ত্র  করেছে।  এতে শিক্ষা দপ্তরের স্থানীয় ও মন্ত্রনালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা  জামাত শিবির মৌলবাদী চক্রের সহায়তা অভিযোগ রয়েছে ।
সূত্র জানায়,  বোয়াইলমারী বাঁশপঁচাই নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান।  স্কুলের নামে জমি ছিল  নেই।  তবুও তারা রহস্যজনক ভাবে পাঠদানের অনুমতি হাতিয়ে নেয়। জমি বিহীন স্কুল তথ্যটি ফাঁস হলে তড়িঘড়ি করে সম্প্রতি ( ২০২১ সাল) স্কুলের নামে সামান্য  জমি কিনে বলে জানা গেছে।
রাতারাতি গড়ে তোলা  স্কুল (বাঁশপচাঁই নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়)  সভাপতি কে,  প্রধান শিক্ষক কে ছিটমহলবাসী জানতে  পারেনি। তবে স্থানীয় জামাত নেতা  মোঃ মাহাবুবু হোসেন সভাপতি দাবি করে। প্রধান শিক্ষক ছাত্র শিবিরের সাবেক  ক্যাডার মোঃ মুসার আলী। তিনি  এমপিও ভূক্ত একটি মাদ্রাসায় সহকারি শিক্ষক।  ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সহকারী শিক্ষক  সঞ্জিত চন্দ্র প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছে।  গণিত, ইংরেজির বিষয়ে পড়ানোর মত কোন সহকারি শিক্ষক নেই। উগ্রমৌলবাদী  জেএমবির নেতা ( ২০১১ সালে  ৬৩ জেলায়  সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ ও শহীদ মিনার  হামলা  মামলার আসামী)   আব্দুল লতিফ সহকারী মৌলভী শিক্ষক স্কুলটির।  ভাঙ্গাচুরা টিনের অস্বাস্থ্যকর ঘরে  প্রতিটি শ্রেণিতে ৩/৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে লোক দেখানো  নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম খুড়িয়ে খুড়িয়ে চালাচ্ছে। অথচ  বোয়ালমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমি ( নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়) নামে পাকা সুনাম কুড়িয়েছে।
সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার মুরাদ হোসেন জানান, তখন এখানে কর্মরত ছিলাম না। তাই কীভাবে বোয়াইলমারী বাঁশপঁচাই নিন্ম মাধ্যমিক  বিদ্যালয়টি অনুমোদন পেয়েছে জানা নেই । তবে বোয়াইলমারী বাঁশপঁচাই আদর্শ একাডেমির প্রতিষ্ঠার  উদ্যোগতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার  বিশ্বসীরা সকল অপকর্মের হোতা এই মুরাদ বলে জানান। তিনি শিক্ষা জীবনে শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তার দৈনন্দিন কাজে কর্মে প্রতিফলন দেখা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host