রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

আজ বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জন্মদিন

রেজাউল হক নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
Update : মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৫:৫৪ অপরাহ্ন

রেজাউল হক নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম ভাটির জনপদ দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধল আশ্রম গ্রামে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।শাহ আব্দুল করিমের জন্মের সময় তখনকার সমাজ, পরিবেশ,পরিস্থিতি ইংরেজদের আনুকুল্যে ছিল। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন মারা যান মখন শাহ আব্দুল করিমের বয়স ২৫। সে সময়টায় যুবক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। শাহ আব্দুল করিম বেড়ে ওঠার সময় লোক সাহিত্যের একটি উজ্জল পরিবেশ ছিল। শাহ আব্দুল করিমের জন্ম এক দিনমজুর পরিবারে। পিতা ইব্রাহীম আলী মা নাইওরজান বিবি।জন্মের পর থেকে অভাবের মধ্যেই তিনি বেড়ে উঠা। অভাবের কারণে শিক্ষা লাভের সুযোগ আসেনি তার জীবনে। তাই গ্রামের গৃহস্থের বাড়িতে গরুর রাখালের কাজ নিলেন তিনি।সারাদিন মাঠে গরু চড়াতেন আর গান গাইতেন। এ গানই রাখাল বালককে বাউল সম্রাটে পরিণত করেছে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সিলেটে গণসংযোগে যেতেন তখন তাদের সফরসঙ্গী হতেন বাউল আব্দুল করিম। ১৯৫৭ সালে শেখ মুজিব পাকিস্তানের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী থাকাবস্থায় সুনামগঞ্জে প্রথম সরকারি সফরে যান। কোন এক কারণে সেদিন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু জনসভা বর্জন করেছিলেন। তখন শাহ আব্দুল করিম জনসভাস্থলে এসে গান ধরেন আর সাথে সাথে জনসভাস্থল লোকে লোকারন্য হয়ে উঠে।
১৯৬৯ সালে সুনামগঞ্জের জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে করিমের গণসঙ্গীত শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে শেখ মুজিবুর রহমান  মাইকে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন,শেখ মুজিব বেঁচে থাকলে করিম ভাইও বেঁচে থাকবেন। ৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবের ভাটি অঞ্চল নির্বাচনী প্রচারাভিযানে একমাত্র মধ্য মনি ছিলেন শাহ আব্দুল করিম। ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা যখন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালাতে ভাটি অঞ্চলে যান তখন তার সফর সঙ্গী ছিলেন শাহ আব্দুল করিম।
১৯৯৫ সালে শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জ দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় শাহ আব্দুল করিমকে বলেছিলেন, আমার বাবা যার গানের ভক্ত ছিলেন, আমি তাকে উপযুক্ত সম্মান দেব। ২০০১ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে এক কর্মী সভায় বলেছিলেন, সুনামগঞ্জে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠায় শাহ আব্দুল করিমের ভূমিকা অন্যতম। শাহ আব্দুল করিম ৫৪’র নির্বাচন, ৬৯,এর গণ আন্দোলন, ৭১এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি পর্যায়ে স্বরচিত গণসঙ্গীত পরিবেশন করে জনতাকে দেশ মাতৃকার টানে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করেছেন।  তার গণসঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তার পিঠে হাত রেখে বলেছিলেন- “বেটা, গানের একাগ্রতা ছাড়িও না, তুমি একদিন গণ মানুষের শিল্পী হবে।”হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তার গণসঙ্গীত শুনে একশ পঁচাশি টাকা দেন, শেখ মুজিব ১১ টাকা দিয়ে বলেন, তোমার মতো শিল্পীকে উপযুক্ত মর্যাদা দেয়া হবে। শাহ আব্দুল করিমের গানের বিভিন্ন বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় আফতাব সঙ্গীত, ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় গণসঙ্গীত, ১৯৮১ সালে কালনীর ঢেউ, ১৯৯০ সালে ধলমেলা, ১৯৯৮ সালে ভাটির চিঠি, ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘শাহ আব্দুল করিম রচনা সমগ্র’।২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি পরলোকগমন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host