রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

পলাশবাড়ীর মোকলেছুর ঘোড়া দিয়ে দিনে ৩ বিঘা জমি চাষ করেন

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা
Update : রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৬:৩০ অপরাহ্ন

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ ডিজিটাল এই যুগে কৃষি বিপ্লব ঘটলেও নানাভাবে হালচাষ করা হয়। ফলে গরু দিয়ে হালচাষ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। তবে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার দূর্ঘপুর গ্রামের মোখলেছুর রহমান (৫০) নামে এক কৃষক ঘোড়া দিয়ে অন্যের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

জানা গেছে, উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের মোখলেছুর রহমান প্রথমে ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে মালামাল পরিবহন করতেন। পরে অভাবে সংসারে আয়ের একমাত্র উৎস ঘোড়া দিয়ে হালচাষ শুরু করেন। নিজের কোনো জমি না থাকায় পরের জমি বর্গাচাষের পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে অন্যের জমি চাষ করেন। তার ঘরে স্ত্রী এবং এক ছেলে-মেয়ে রয়েছে।

মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘোড়াকে আমি বেশ ভালোবাসতাম। প্রথমে শখ করে একটি ঘোড়া কিনি। পরে ঘোড়ার গাড়ি তৈরি করে মালামাল পরিবহন শুরু করি। চিন্তা করলাম ঘোড়া দিয়ে যদি গাড়ি চালানো যায়, তবে হালচাষও করা যাবে। এই ভেবে পরে আরও একটি ঘোড়া কিনে প্রশিক্ষণ দিয়ে জমি চাষ শুরু করি। এখন বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।
তিনি বলেন, প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ বিঘা জমি চাষ করতে পারি। এতে আমার এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হয়। জমিতে হালচাষ বা মই দিয়ে প্রতিদিন যা পাই তা দিয়ে সংসার ভালোই চলে। ঘোড়া দুটির খাবার খরচ হয় দৈনিক ৫০০ টাকা।
তিনি আরও বলেন, ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি চাষে মাটির উর্বরতা বাড়ে। জমি বেশি খনন হওয়ায় চাষ ভালো হয়। ইরি-বোরো মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যায়। এলাকায় অনেক কৃষক এখন পাওয়ার টিলার বাদ দিয়ে আমার ঘোড়া হাল দিয়ে জমি চাষ করছেন।
আদম আলী নামে এক কৃষক বলেন, এলাকায় তো গরুর হাল নেই। পাওয়ার টিলার সময়মতো পাওয়া যায় না। তাই কম খরচে মোখলেছুর রহমানের ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করি। তুলনামূলকভাবে পাওয়ার টিলারের চেয়ে ঘোড়া দিয়ে চাষ ভালো হয়।

হাবিব মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করা এই প্রথম দেখলাম। অবাক হয়েছি খুব অল্প সময়ে এক বিঘা জমি চাষ করা সম্ভব। গরু বা মহিষ দিয়ে যেটা অসম্ভব। তাছাড়া ঘোড়ার হালে খনন বেশি হওয়ার জমি ভালোভাবে চাষ হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা বাড়ে। পাশাপাশি ফলনও ভালো হয়।আপেল ইসলাম নামে একজন বলেন, মোখলেছুর খুবই গরিব মানুষ। তার ঘোড়া দুটি ছোট। টাকার অভাবে বড় ঘোড়া কিনতে পারছে না। সরকার বা অন্য কেউ তাকে ঘোড়া কিনতে সহযোগিতা করলে তার জন্য ভালো হবে। সে আরও বেশি জমি চাষ করতে পারবে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলাল উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, মোখলেছুরের ঘোড়ার হালের কথা শুনেছি। খোঁজ নিয়ে সময় করে এক দিন দেখতে যাব। ঘোড়া প্রকৃতিগতভাবে পরিশ্রমী প্রাণী। তবে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করা হলে কৃষিতে ভালো অবদান রাখতে পারবে ঘোড়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host