সনতচক্রবর্ত্তী ফরিদপুর : মাত্র আর কয়েক দিন পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এরই মধ্যে শিল্পীদের হাতের পরশে পূর্ণরূপে ফুটে উঠছে দৃষ্টিনন্দন সব প্রতিমা। শিশিরভেজা দুর্বা ঘাসের ওপর ঝরে পড়া শিউলি কুড়ানোর সময়টায় মাতৃবন্দনায় মিলিত হবেন সবাই।
আগামী ১১ অক্টোবর( ষষ্ঠির) শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। উৎসবের পূর্ণতা পায় যাঁদের হাতে সেসব প্রতিমাশিল্পীর এখন ব্যস্ত সময় কাটছে মন্দির সাজাতে। প্রতিমা তৈরি করতে গিয়ে দম ফেলার সময় নেই তাদের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, মহিষাসুর আর দেবীর বাহন সিংহকে গড়তে হবে।
বোয়ালমারী সর্বজনরী রক্ষা চণ্ডী মন্দির, কামারগ্রাম আখড়া নগর , কামার গ্রাম বড় বাড়ি মন্দির,ময়না বারোয়ারী মন্দির, সাতৈর মন্দির, আঠারকোঠা মন্দির, সাতৈর সুবাস সাহাহ বাড়ির মন্দির ,কামারগ্রাম বড়বাড়ি মন্দির,, ঠাকুরপুর মন্দির সহ সব মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন প্রতিমা শিল্পীরা।
শিল্পীরা রং-তুলির মিশ্রণে গড়া দুর্গা সহ সব প্রতিমার একাগ্রচিত্তে পূর্ণ অবয়ব দিয়ে যাচ্ছেন। তাদেও সহযোগীরা ব্যস্ত লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা গড়ায়। তাঁদের মতো ব্যস্ততার এ চিত্র চোখে পড়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সব মন্দিরে ।
বোয়ালমারী সর্বজনরী রক্ষা চণ্ডী মন্দিরের,প্রতিমা শিল্পী নিখিল চন্দ্র পাল আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমার গড়নেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। তাই প্রতিমাশিল্পীদের অনেক বেশি সচেতন থাকতে হয়। মাথায় রাখতে হয় মন্দিরের ঐতিহ্য ও সাজসজ্জার বিষয়টিও। সেভাবেই ফুটিয়ে তোলেন প্রতিমার অবয়ব।তিনি আরো বলেন, এবছর ২০টি মন্দিরে প্রতিমার কাজ পেয়েছি, সব মন্দিরে মনের মাধুরি মিশিয়ে কাজ করতে হয়।প্রতিটি মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে বেশ সময় লাগে, সহযোগী আছে ৫ জন।
বোয়ালমারী জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মদন দাস আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, বোয়ালমারী উপজেলাতে এইবার সর্বমোট পূজা হবে হবে ১১৪টি ।
তিনি আরো বলেন ফরিদপুর পূজা উদ্যাপন পরিষদ কমিটির নির্দেশনা মেনে এবারের পূজায় উৎসবের আয়োজন থাকবে । সরকারি বিধিনিষেধ মেনে সাত্ত্বিক পূজা, ঢাক-ঢোল, বাঁশি, কাঁসার শব্দে আরতি, ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠান, গীতা পাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।