বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০২:২৭ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

পিরোজপুরে সন্ত্রাসী হামলায় আহত-৭ : ৩ মামলা

Reporter Name
Update : রবিবার, ২ মে, ২০২১, ২:২৭ অপরাহ্ন

পিরোজপুর প্রতিনিধি :  পিরোজপুরে রাজনৈতিক কোন্দল, পূর্ব শত্রুতা, অটোস্ট্যান্ড নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলা, মারধর, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল, সন্ধ্যা ও রাতে এসব ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ রোববার হামলা ও মারধরের ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বাদল।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের রাজারহাট শান্তনা বেকারীর মোড় সড়কে অটোস্ট্যান্ড নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়ে এস কে রাজিউল ইসলাম ওরফে সাগর (৩৭) নামে এক যুবকের পা ভেঙ্গে দিয়েছে।
জানা গেছে, সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে অবস্থিত অটোস্ট্যান্ড এর কর্তৃত্ব ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ অহিদ সেখের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল সাগরের উপর হামলা করে হাতুড়ি, জিআই পাইপ ও লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে একটি পা ভেঙ্গে দেয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন সাগরকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত সাগর বাদী হয়ে অহিদ সেখকে প্রধান আসামী করে নামীয় ৭জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনকে আসামী করে পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
অপর দিকে অভ্যন্তরিন রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে ক্ষমতাসীন দলের দু’টি গ্রুপের মধ্যকার দ্বন্দ্বের জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের সিও অফিস ব্রিজের উত্তর পাশের রাস্তায় উপর বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মিরাজের উপর হামলা করে প্রতিপক্ষ সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২০/২১ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় শেখ মিরাজ মটর সাইকেল থেকে পড়ে যান। প্রতিপক্ষের এলোপাথাড়ি প্রহারে তিনি মাথা, বাম হাত ও পায়ে মারাত্মক আহত ও আঘাত পান। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সদর হাসপাতালে তার মাথায় ছয়টি ও বাম হাতে আটটি সেলাই দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার শরীরে এক ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। তার অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় মিরাজের ভাই শেখ রিয়াজ বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুমন সিকদার, সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম জিহানসহ ২১জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে আসামী করে পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আহত মিরাজের ভাই শেখ রিয়াজ জানান, মিরাজকে হত্যার উদ্দেশ্যেই সুমন সিকদার ও জিহানের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে।
এদিকে শেখ মিরাজের উপর হামলা ও মারধরের ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতেই শেখ মিরাজের গ্রুপ প্রতিপক্ষ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম জিহানের বাড়ীসহ পাশ্ববর্তী অপর এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসী হামলায় এসময় দুই বাড়ীর নারী শিশুসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের উত্তর শিকারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জিহানের পিতা শাহজাহান ফকির জানান, শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে ২০/৩০ জনের একটি সন্ত্রাসীদল তাদের বাড়ির ওপর এলোপাথারি হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তখন ঘরের দরজা আটকে রাখলেও সন্ত্রাসীরা দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকেসহ নারী ও শিশুদের জিম্মী করে। ঘরের ভিতরের টিভি, ফ্রিজ, আলমারী, রান্না করা ভাতের হাড়ি ও আসবারপত্র ভাংচুর ও তছনছ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এসময় আলমারীতে থাকা ৫০-৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও নারীদের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন লুটে নেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা আরও চাঁদার টাকা দাবী করে বলে, আরও টাকা না দিলে পরবর্তীতে তাদের বাড়ি-ঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদেরসহ তার ছেলে জিহানকে হত্যা করবে।
এদিকে একই বাড়ির ভিতরের বাসিন্দা প্রবাসী রাজু ফকিরের ভাই রনি ফকির জানান, সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করে বাড়ির ভিতরে এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভিতরে ঢুকে ঘরে থাকা তার ভাবীকে মারধর করে এবং ভাবীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্রে দিয়ে ঘরের ভিতরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, আলমারি ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম জিহানের পিতা শাহজাহান ফকির বাদী হয়ে শনিবার রাতে ২০/২২ জনকে আসামী করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে।

সদর থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বাদল জানান, একই দিন ও রাতে তিনটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার খবর পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলগুলোতে গিয়েছে। এসব হামলার ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, ঘটনার পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ইতিমধ্যে হামলার ঘটনায় থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। যে কোন মূল্যে শহরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host