তাইওয়ান প্রণালিতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের বিপদসীমার মধ্যে চলে এসেছিল একটি চীনা যুদ্ধজাহাজ। এমনটাই অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনা যুদ্ধবিমান মার্কিন বিমানবাহিনীর বিমানের বিপদসীমার মধ্যে চলে আসার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শেষ হতে না হতেই এবার এই ঘটনা ঘটলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা যুদ্ধজাহাজটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের ১৩৭ মিটার কাছে চলে এসেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা বিষয়টিকে ‘অনিরাপদ পদ্ধতি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনও দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকি উসকে দেয়ার’ সমতুল্য বলেই আখ্যা দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার (৩ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার নৌবাহিনী চীনা ও তাইওয়ানকে পৃথককারী তাইওয়ান প্রণালিতে যৌথ মহড়া পরিচালনা করছিল। এ সময় চীনা যুদ্ধজাহাজটি মার্কিন গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার চুং-হুনের সামনে পড়ে। ফলে সংঘর্ষ এড়াতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার গতি কমাতে বাধ্য হয়।
এর আগে, গত ৩১ মে দক্ষিণ চীন সাগরে আন্তর্জাতিক সীমানায় নিয়মমাফিক টহল দিচ্ছিলো মার্কিন সামরিক বিমান আরসি-১৩৫। হঠাৎ করেই বিমানের ডান পাশে উদয় হয় একটি চীনা যুদ্ধবিমান। চীনা যুদ্ধবিমানটি মার্কিন বিমানের প্রায় ৪০০ ফুটের মধ্যে চলে আসে।
বেশ কিছুক্ষণ আরসি-১৩৫ বিমানটিকে অনুসরণ করে চীনা যুদ্ধবিমান জে-১৬। একপর্যায়ে দ্রুতগতিতে মার্কিন বিমানের সামনে দিয়ে উড়ে চলে যায় চীনা জঙ্গি বিমানটি। এতে কিছুক্ষণের জন্য আরসি-১৩৫ বিমানে কম্পন সৃষ্টি হয়। ফলে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখতে হিমশিম খেতে হয় পাইলটকে।
এই ঘটনায় চীনা বিমান বাহিনীর তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় টহল দেয়ার সময় চীনা যুদ্ধবিমানের এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। এর কারণে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে চীনের এমন আগ্রাসী মনোভাব সত্ত্বেও দক্ষিণ চীন সাগরে নিয়মিত টহল চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোন মন্তব্য করেনি চীন।
দক্ষিণ চীন সাগরে টহল দেয়ার সময় মার্কিন সামরিক বিমানের কাছ দিয়ে চীনা যুদ্ধ বিমান উড়ে যাবার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের একটি যুদ্ধবিমান মার্কিন যুদ্ধবিমানের কাছাকাছি চলে আসে। এ সময় সংঘাত এড়াতে কৌশল অবলম্বন করে মার্কিন বিমানটি সরে যায় বলেও দাবি করে মার্কিন সামরিক বাহিনী।