রাজধানী মস্কোতে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সম্পর্ক যে দিন দিন জোরালো হচ্ছে তা এখন আরও স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় রাশিয়া ও চীন বহু আগে থেকেই একসঙ্গে কাজ করছে। তবে সামরিক খাতে এখনও দুই দেশের যোগাযোগ কম। সেই পরিস্থিতিতেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে দুই দেশ। আল-জাজিরার খবরে জানানো হয়েছে, পুতিন ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শইগুর সঙ্গে রোববার বৈঠক করেন চীনের জেনারেল লি শাংফু। এক মাসেরও কম সময় পূর্বে মস্কোতে ঐতিহাসিক তিন দিনের সফর শেষ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিং। এর আগে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও মস্কো সফর করেছিলেন। রীতিমতো আয়োজন করে রাশিয়া ও চীন নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে চীন সফরে যান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের পর চীন-রাশিয়ার ‘অসীম বন্ধুত্ব’ ঘোষণা করেন তিনি। ওই মাসেই ইউক্রেনে আক্রমণ চালান পুতিন।চীন এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ওই আক্রমণের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নিরপেক্ষ দাবি করলেও যুদ্ধে চীনের অবস্থান যে রাশিয়ার পাশেই তা নিয়ে কারও কোনো দ্বিধা নেই। পশ্চিমাদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও রাশিয়াকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া সম্ভব হয়নি। বরঞ্চ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে। এতে বড় ভূমিকা রয়েছে চীনের।
শুধুমাত্র রাজনৈতিক কাভারই নয়, চীন রাশিয়ার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতেও বড় ভূমিকা রেখেছে। পশ্চিমা দেশগুলো যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা চলেছে, তখন চীন রাশিয়া থেকে জ্বালানি ক্রয় বৃদ্ধি করেছে। দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই করছে। বিশ্বজুড়ে পশ্চিমাদের আধিপত্যের মধ্যে এক হয়ে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো ও বেইজিং। রুশ প্রেসিডেন্টও চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে এই সম্পর্কের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।
পুতিন বলেন, আমরা সামরিক বিভাগগুলোর মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি, নিয়মিত আমাদের জন্য দরকারী তথ্য বিনিময় করছি, সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছি এবং যৌথ অনুশীলন পরিচালনা করছি। রাশিয়ার ফার ইস্ট, ইউরোপ, সমুদ্র, স্থল ও আকাশে আমরা মহড়া করেছি। এদিকে লি শাংফু বলেন, চীন ও রাশিয়ার মধ্যেকার সম্পর্ক স্নায়ু যুদ্ধের সময়কার থেকেও এখন বহুগুণ শক্তিশালী। এই সম্পর্ক অত্যন্ত স্থিতিশীল। রাশিয়ান টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শাংফু আরও বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক খুব শক্তিশালী। এই সম্পর্ক ইতিমধ্যে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।