বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

এসিড দগ্ধ তরুণী রেশমা লালমনিরহাট হাসপাতালে

রকিবুল ইসলাম রুবেল, লালমনিরহাট
Update : রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন

রকিবুল ইসলাম রুবেল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ  প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায়, রেশমা আক্তার (১৮) নামের এক গার্মেন্টস শ্রমিক তরুণী এসিড দগ্ধ হয়ে বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে।
রেশমা এর আগে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান (১৯) নামের এক বখাটে ২০ মার্চ রাত সাড়ে ০৮ টায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার শাসনগাঁও এলাকায় গার্মেন্টস থেকে ফেরার পথে এসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে। তখন রেশমার সাথে তার বান্ধবী স্বপ্না (১৮) এসিড দগ্ধ হন। পরে, স্থানীয় বাসিন্দারা দুই তরুণীকে উদ্ধার করে হাসাপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটানায়, পোশাকশ্রমিক মোছা. রেশমা আক্তার সাফিয়া’র পিঠ হতে নিতম্ব পর্যন্ত ও তার বান্ধবী স্বপ্না আক্তারের ডান হাতের কনুইয়ের চামড়া ঝলসে গেছে।
পরে,রেশমার বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ২১/০৩/২০২১ইং তারিখে একটি লিখিত  অভিযোগ দায়ের করেন। ২২ মার্চ দুপুরের পর অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে আদালাতে সোপর্দ করেছে থানা পুলিশ।
অভিযুক্ত মো. মেহেদী হাসান (১৯) লালমনিরহাট পৌরসভার শহীদ শাহজাহান কলোনী এলাকার মৃত: মাহবুবুর রহমানের ছেলে বলে জানিয়েছে, রেশমার বাবা সোলেমান। মেহেদী ফতুল্লার শাসনগাঁও এলাকার নাছির উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করত।
অভিযোগের বিবরন ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, পোশাক শ্রমিক মোছা. রেশমা আক্তার সুফিয়ার গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপাজেলার ১নং ফুলগাছ গ্রামে। আর বখাটে মেহেদী হাসানের বাড়ি তার পাশের গ্রাম শহীদ শাহজাহান কলোনীতে।
ফতুল্লায়ও তারা পাশাপাশি বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন। এ পরিচয়ে রেশমাকে মেহেদী হাসান প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু রেশমা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মেহেদী এসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ রেশমার মুখে ছুড়ে মারে। এ সময়, রেশমা ঘুরে দাড়ানোয় তার পিঠে দাহ্য পদার্থ লাগে এবং তার বান্ধবী স্বপ্না আক্তার পাশে থাকায় তার হাতের কনুইয়ে লেগে ঝলসে যায়।
রেশমার বাবা সোলেমান সাংবাদিকেদর বলেন, মেয়ে আর আমি একই গার্মেন্টসে কাজ করি। ঢাকা যাওয়ার পাঁচ মাস হয়। ধারদেনা করে গিয়ে কেবল সংসারটা সচ্ছল হচ্চিলো। মেয়েটার পিছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। আমি আর কি বলবো আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি যেন দেয়া হয়।
এদিকে রেশমার উন্নত চিকিৎসা ও আইনি সহায়তায় বিভিন্ন এনজিও,সামাজিক সংগঠনসহ ব্যাক্তিবিষেশ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সুশিল সমাজ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক সোহাগ চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে যার তদন্তভার আমার উপরে দেয়া হয়েছে আমি বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখছি। আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করে ইতিমধ্যেই জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে, কী ধরনের দাহ্যপদার্থ রেশমার দেহে ছুড়ে মারা হয়েছে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host