বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

চিলমারীতে নাব্য সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-রুট, যাত্রীদের বিড়ম্বনা

ফয়সাল হক , চিলমারী,কুড়িগ্রাম 
Update : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১, ৪:৪২ অপরাহ্ন

ফয়সাল হক (চিলমারী)সংবাদদাতাঃ কখনো রাক্ষসী রূপ কখনো থৈ থৈ পানিতে ভরপুর আবার কখনো নাব্যতা হারিয়ে শীতল হয়ে পড়ে ব্রহ্মপুত্র। কখনো থাবা দেয় ফসলের উপর ভেঙে নেয় আবাদী জমি আবার কখনো বুকেজুড়ে হয়ে উঠে সবুজের সমারোহ এই হলো ব্রহ্মপুত্রের খেলা। কখনো কৃষককে হাসিয়ে তোলে আবার কখনো কাঁদায়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও শীত মৌসুমের শুরু থেকেই কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার নদ-নদীতে পানি কমে যাওয়ায় নদীর নাব্যতা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। বিভিন্ন চ্যানেলের নাব্যতা হ্রাসের ফলে অসংখ্য ডুবোচরে অভ্যন্তরীণ নৌ-রুট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী বেশি ওজনের নৌযান ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছে। ফলে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ও ব্যয় হচ্ছে। চিলমারী বন্দর থেকে রৌমারী, রাজীবপুর, বাহাদুরাবাদ ঘাট ও গাইবান্ধা যাওয়ার পথে শতাধিক এর উপর স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌযানগুলো প্রায়ই চলাচলে পথে আটকে যাচ্ছে।
ইঞ্জিনচালিত নৌকার চালকরা জানান, চলতি মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি প্রবাহ অত্যন্ত হ্রাস পাওয়ায় নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
জানা গেছে, বর্তমানে রমনা ঘাট থেকে রাজীবপুরে ২টি, রৌমারী ৪টি, কর্তিমারী ১টি, কোদাল কাটি ২টি, অষ্টমীরচর ২টি, নয়ারহাটে ২টি এবং চিলমারী ইউনিয়নে ২টিসহ বিভিন্ন এলাকায় স্যালো ইঞ্জিনচালিত বেশকিছু নৌকা নিয়মিত যাতায়াত করছে। নৌকার মাঝি আঃ রহিম, আঃ মালেক, আমিনুল জানান, বর্তমানে রাজীবপুর, তারাবর, শাখাহাতি, ভাটিয়ারচর, কড়াইবরিশাল, কর্তিমারী ও নালিতাখাতা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নৌকা ডুবোচরে নিয়মিত আটকা পড়ছে। তাই বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে নৌকাচালক ও যাত্রীদেরকে। এ ছাড়াও নদীতে নাব্য না থাকার কারণে চিলমারী ভাসমান তেল ডিপোর বার্জসহ ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজগুলো ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারছে না। স্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা মালিকরা জানায়, বিভিন্ন রুটে কোনোপ্রকার ড্রেজিং এর ব্যবস্থা না থাকায় অসংখ্য ডুবোচর নদের গতিপথ পরিবর্তন এবং নৌরুট গুলোতে চর জেগে ওঠায় নৌপথ ক্ষীণ হয়ে এসেছে। ফলে নৌযানগুলোকে অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। বড় বড় ডুবোচর নাব্যতা হ্রাসের স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং করা না হলে চিলমারীর অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
বিআইডব্লিউটিএ চিলমারীর দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের নাব্য হ্রাস ও বিভিন্ন চ্যানেলে পানি কম থাকায় নৌ-যান চলাচলের সমস্যা হচ্ছে তবে নদী বন্দর চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রেজিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host