মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে (১৪) বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নিজেকে বাঁচাতে ম্যানেজিং কমিটির কাছে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি দিয়ে চলে যান অভিযুক্ত শিক্ষক। ফের মাদ্রাসায় এসে পূর্বপদে বহাল থাকার চেষ্টা করলে পুরো মাদ্রাসাজুড়ে শুরু হয় হৈ চৈ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছেন স্বজন ও অন্য শিক্ষকরা।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ৩০ বছরের পুরনো জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পৌরসভা ভবন সংলগ্ন এলাকার মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থী আবাসিক ছাত্রাবাসে থেকে পড়ালেখা করে। মাদ্রাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) মুফতি রেজাউল ইসলাম গত ২১ জুলাই মাদ্রাসার বিশেষ জামাতের (দাহম) একছাত্রকে তার কক্ষে ডেকে নেন। পরে একাধিকবার জোরপূর্বক বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
নির্যাতিত ছাত্রের বাবা বলেন, আমার ছেলের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনার বিচার চাই। তা না হলেও অন্যছাত্রদের মাঝেও এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে। আমার সন্তান মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে এলে আমি তার কাছে বাড়িতে আসার কারণ জানতে চাইলে সে চুপ থাকে। পরবর্তীতে তাকে মাদ্রাসায় যেতে বললে সে মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। একপর্যায়ে আমি আমার পুত্রকে মাদ্রাসায় যেতে চাপ প্রয়োগ করলে সে আমাকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলাৎকারের বিষয়টি প্রকাশ করে। আমি উক্ত ঘটনা জেনে নির্বাক হয়ে যাই এবং আমার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমি কী পদক্ষেপ নেব তা বুঝতে পারছিলাম না, কারণ ঘটনাটি বড়ই স্পর্শকাতর এবং এর সঙ্গে আমার ছেলের ভবিষ্যৎ, পরিবারের মান সম্মান জড়িত।