শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৪৪ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

মাদারীপুরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ

মাদারীপুর প্রতিনিধি
Update : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২, ৭:০১ অপরাহ্ন

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে (১৪) বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নিজেকে বাঁচাতে ম্যানেজিং কমিটির কাছে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি দিয়ে চলে যান অভিযুক্ত শিক্ষক। ফের মাদ্রাসায় এসে পূর্বপদে বহাল থাকার চেষ্টা করলে পুরো মাদ্রাসাজুড়ে শুরু হয় হৈ চৈ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছেন স্বজন ও অন্য শিক্ষকরা।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ৩০ বছরের পুরনো জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পৌরসভা ভবন সংলগ্ন এলাকার মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থী আবাসিক ছাত্রাবাসে থেকে পড়ালেখা করে। মাদ্রাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) মুফতি রেজাউল ইসলাম গত ২১ জুলাই মাদ্রাসার বিশেষ জামাতের (দাহম) একছাত্রকে তার কক্ষে ডেকে নেন। পরে একাধিকবার জোরপূর্বক বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ ওঠে।


আতঙ্ক নিয়ে নির্যাতিত ওই ছাত্র মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়ে বাড়ি চলে যায়। বাড়ি গিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। তখন ভুক্তভোগীর পরিবার ম্যানেজিং কমিটিকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে গত বুধবার (৫ অক্টোবর) স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে তার নিজ বাড়ি ফরিদপুর চলে যান। পরে ভুক্তভোগী ওই পরিবার লোকলজ্জার ভয়ে ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির আশ্বাসে থানায় অভিযোগ করেনি। কিন্তু অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ফের মাদ্রাসায় যোগদানের জন্য আসলে শুরু হয় হৈ চৈ। পুনরায় স্বপদে বহালের চেষ্টা করলে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরে রাজৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক, থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

 নির্যাতিত ছাত্রের বাবা বলেন, আমার ছেলের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনার বিচার চাই। তা না হলেও অন্যছাত্রদের মাঝেও এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে। আমার সন্তান মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে এলে আমি তার কাছে বাড়িতে আসার কারণ জানতে চাইলে সে চুপ থাকে। পরবর্তীতে তাকে মাদ্রাসায় যেতে বললে সে মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। একপর্যায়ে আমি আমার পুত্রকে মাদ্রাসায় যেতে চাপ প্রয়োগ করলে সে আমাকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলাৎকারের বিষয়টি প্রকাশ করে। আমি উক্ত ঘটনা জেনে নির্বাক হয়ে যাই এবং আমার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমি কী পদক্ষেপ নেব তা বুঝতে পারছিলাম না, কারণ ঘটনাটি বড়ই স্পর্শকাতর এবং এর সঙ্গে আমার ছেলের ভবিষ্যৎ, পরিবারের মান সম্মান জড়িত।


এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তার ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার সভাপতি তৈয়ব আলী ফকির বলেন, ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, মাদ্রাসায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বোরবার (৯ অক্টোবর) বলাৎকারের ঘটনায় থানায় ভুক্তভোগীর বাবা একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্ত করে নেয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host