আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নতুন প্রধান লিজ ট্রাস। মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। খবর বিবিসি ও আল জাজিরা।
কয়েক সপ্তাহের নেতৃত্বের লড়াই শেষে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান নির্বাচিত হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। একদিন পরই দায়িত্বগ্রহণের জন্য স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদে যান লিজ ট্রাস।
এদিন প্রথমে বালমোরাল প্রাসাদে আসেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সেখানে রানির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পেশ করেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই প্রাসাদে পৌঁছান লিজ ট্রাস। দেখা করেন রানির সঙ্গে। এ সময় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দেন রানি।
এ নিয়ে ৭০ বছরের রাজত্বকালে মোট ১৫ প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিলেন ৯৬ বছর বয়সী রানি। ট্রাসের আগের সব প্রধানমন্ত্রীর বেলায় নিয়োগ ও পদত্যাগ সম্পন্ন হয়েছে লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসে। তবে দীর্ঘদিনের সেই প্রথা ভেঙে এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও নিয়োগ সম্পন্ন হলো বালমোরাল প্রাসাদে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করবে ট্রাস। দলের অনুগত এমপিদের নিয়েই নিজের মন্ত্রিসভা সাজাবেন তিনি।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন মতে, ট্রাস জেমস ক্লেভারলিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন। ক্লেভারলি বর্তমানে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সুয়েলা ব্রাভারম্যান ও কোয়াসি কোয়ার্টেংকে যথাক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী নিয়োগ করা হতে পারে।
অক্সফোর্ডের মেরটন কলেজে পড়াশোনা করেছেন ট্রাস। সেসময় লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের প্রেসিডেন্ট ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট যুব ও ছাত্রদের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন লিজ ট্রাস। তবে ১৯৯৬ সালে স্নাতক হওয়ার পর যোগ দেন কনজারভেটিভ পার্টিতে।
২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন লিজ ট্রাস। নির্বাচিত হয়েই শিশুযত্ন, গণিত শিক্ষা এবং অর্থনীতিসহ দেশের বেশ কয়েকটি নীতির ক্ষেত্রে সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে আলোচনায় আসেন।
এরপর ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের নারী ও সমতা বিষয়ক মন্ত্রী এবং ২০২১ সাল থেকে কমনওয়েলথ, উন্নয়ন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ট্রাস। লিজ ট্রাস অর্থনৈতিকভাবে নব্য উদারনীতি ও সামাজিকভাবে রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির ধারক।