লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুইটি ড্রোন অন্তত ঘণ্টাখানেক আটকে রেখেছিল ইরান। শুক্রবার (০২ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, এ সপ্তাহে এটি এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা। খবর আরব নিউজের।
সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ইরানের নৌবাহিনীর জামারান ডেস্ট্রয়ার বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) লোহিত সাগরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানোর সময় আন্তর্জাতিক নৌপথে বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক মনুষ্যবিহীন গবেষণা ড্রোন জাহাজের মুখোমুখি হয়েছিল।
নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরে ইরানের নিয়মিত টহল জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ‘গোয়েন্দা ড্রোনের’ মুখোমুখি হয়। এ সময় দুর্ঘটনা এড়াতে ইরানি ডেস্ট্রয়ার থেকে সমুদ্র ড্রোনগুলো পরিচালনাকারী মার্কিন কর্তৃপক্ষকে তাদের ড্রোনের গতিপথ পরিবর্তন করার আহ্বান জানানো হয়। কোনও সাড়া না পেয়ে তেহরান দুটি সমুদ্র ড্রোন আটক করে। এরপর নৌ রুট বিপদমুক্ত রাখার লক্ষ্যে ড্রোন দুটিকে একটি নিরাপদ এলাকায় ছেড়ে দেয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের ফুটেজে একটি জাহাজ থেকে ইরানী বাহিনীর দুটি মার্কিন ড্রোন জাহাজকে ছেড়ে দেয়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, তাদের ড্রোন জাহাজগুলো আশেপাশের পরিবেশের ছবি তুলছিল এবং ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ লোহিত সাগরের আশপাশে ছিল।
মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে মার্কিন ৫ম নৌবহরটি শনাক্ত করে যে, ইরানী জাহাজ দুটি ড্রোন জাহাজের কাছে আসছে এবং তাদের পানি থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কাছাকাছি থাকা দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস নিটজে এবং ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্লাক পরিস্থিতি শান্ত করতে ইরানী যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ঘটনাস্থলে গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরের দিন শুক্রবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এর আগে আলাদা ঘটনায়, মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) পেন্টাগন বলেছে, একটি ইরানী জাহাজ উপসাগরে একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন জাহাজ জব্দ করেছে, পরে সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি টহল জাহাজ এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন করলে সেটি ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনার পর ইরানের ডেস্ট্রয়ার থেকে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও বেশি মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।