রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে এবার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ইরান। সেই লক্ষ্যে এরইমধ্যে ইউক্রেনবিষয়ক একটি ‘শান্তি প্রস্তাব’ রাশিয়ার হাতে তুলে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, ইউরোপীয় এক নেতার পক্ষ থেকে ওই ‘শান্তি প্রস্তাব’টি পেয়েছেন তারা। তবে ওই নেতার পরিচয় জানাননি তারা।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩১ আগস্ট) রাজধানী মস্কোয় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাশিয়া সফররত ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান। এরপর সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইউরোপীয় ওই শান্তি প্রস্তাবটি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শান্তি প্রস্তাবটি সম্প্রতি ইরানি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির কাছে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘এতে (শান্তি প্রস্তাবে) এমন কিছু বিষয় আছে, যা ইউক্রেন সংঘাত থামাতে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। আমি বিষয়গুলো রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভাগাভাগি করেছি।’
মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) মস্কোর উদ্দেশে তেহরান ত্যাগ করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ইউক্রেন সংঘাত অবসানের চেষ্টা চালানো হবে তার এ সফরের মূল লক্ষ্য। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তার দেশকে করা একটি অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করবেন তিনি।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকেই ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে আসছে। তেহরান বলেছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করে চলমান সংঘাতের একটি রাজনৈতিক সমাধান বের করার চেষ্টা করা হবে।
আব্দুল্লাহিয়ান ওই অনুরোধ সম্পর্কে বলেন, ‘কিছু পশ্চিমা দেশ এ ব্যাপারে সক্রিয় তৎপরতা চালাতে তেহরানকে অনুরোধ জানিয়েছে।’ তবে ঠিক কোন কোন দেশ এ অনুরোধ জানিয়েছে, তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের পর থেকেই সংকট উত্তরণে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখে চলেছে তুরস্ক। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এরই মধ্যে রাজধানী আঙ্কারায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে একাধিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এসব আলোচনা থেকে তেমন উল্লেখযোগ্য ফল আসেনি।
জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় খাদ্যশস্য রফতানি বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তির ফলে ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রফতানি শুরু হয়েছে। এই সফলতা থেকে উৎসাহিত হয়ে ইউক্রেন সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আঙ্কারা। সেই লক্ষ্যেই দিনরাত দৌড়াচ্ছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তার কর্মকর্তারা।
তবে পশ্চিমারা এ সংঘাতের অবসান দেখতে চায় না বলে অভিযোগ করেছে আঙ্কারা। ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ২৩ আগস্ট রাজধানী আঙ্কারায় স্থানীয় গণমাধ্যমকে এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার দেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসগলু। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন সংঘাত অবসানের কোনো আগ্রহই নেই বেশ কিছু পশ্চিমা দেশের।’
হেবার গ্লোবালকে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কয়েকটি পশ্চিমা দেশ যুদ্ধ প্রলম্বিত করতে চাইছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, এর মধ্যে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশও রয়েছে।’ সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইউক্রেন-রাশিয়ার খাদ্যশস্য রফতানি চুক্তি ভেস্তে দেয়ার অভিযোগ করেছেন কাভুসগলু। বলেন, ‘এমন দেশও রয়েছে যারা খাদ্যশস্য চুক্তি ভেস্তে দিতে চাইছে।’