আগামী সপ্তাহে সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সৌদি আরবে চীনা প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানাতে বড় ধরণের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরব গিয়ে যেমন অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন, শি জিনপিংয়ের জন্যও তেমন আয়োজন করার প্রস্তুতি চলছে। খবর দ্যা গার্ডিয়ান।
সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, গেল জুন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সফরের তুলনায় চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বাইডেন পেয়েছিলেন তুলনামূলক অনাড়ম্বর অভ্যর্থনা। যা দুই দেশের সম্পর্কে জটিলতার প্রতিফলন। বিশেষ করে বাইডেন ও সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যকার দূরত্ব এতে প্রকাশিত হয়েছে। তবে চীন বা সৌদি আরব কোনো দেশই এখনো এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২০ সালের পর আনুষ্ঠানিক কোনো বিদেশ সফরে যাননি। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয় এবং লকডাউন আরোপ শুরু হয়।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শি জিংপিংয়ের সম্ভাব্য সৌদি আরব সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জানানোর মতো কোনো তথ্য আপাতত তার কাছে নেই।
গত দুই দশকে চীন ও সৌদি আরবের সম্পর্ক ক্রমাগত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। তবে মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হওয়ার পর ২০১৬ সাল থেকে এই সম্পর্ক ক্রমাগত গভীর হয়েছে। উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীনের আচরণকে সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব। এমনকি হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের প্রতি রিয়াদের সমর্থন ছিল। এর ফলে মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায়।
একই সময়ে ওয়াশিংটন যখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর সরিয়ে নিচ্ছিল তখন চীন ও সৌদি আরবের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বছরের মার্চে সৌদি আরব সফরের জন্য চীনা প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর শি জিনপিংয়ের এই সফর সৌদি আরবের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর হতে চলেছে।