জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হত্যাকাণ্ডের পরই রোববার (১০ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন। এ নির্বাচনের প্রচারের সময়ই ভাষণ দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। নির্বাচনে আবের দল বড় জয় পেয়েছে।
কম শক্তিশালী উচ্চকক্ষের অর্ধেক আসনের নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং তার জুনিয়র কোয়ালিশন পার্টনার কোমেইটোর আসনসংখ্যা ২৪৮ আসনের চেম্বারে হয়েছে ১৪৬। এর ফলে তাদের আসনসংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের বেশি হয়েছে। এর ফলে জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ২০২৫ সালে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত নিশ্চিন্তে সরকার চালাতে পারবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আবের হত্যার ফলে সহানুভূতি ভোটের পরিমাণ বেড়েছে তার দলের প্রতি। নির্বাচনে ভোটদান হার ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ। আগের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি ভোটদান হয়।
এই জয়ের ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, নিও ক্যাপিটালিজম ইকোনমি, অর্থনৈতিক নীতি এবং সংবিধান সংশোধনের মতো দীর্ঘমেয়াদি নীতিসংক্রান্ত বিষয় কাজ করার সুযোগ পাবেন কিশিদা। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি যুদ্ধোত্তর শান্তিবাদী সংবিধান সংশোধন করার চেষ্টা বহুদিন ধরেই করছে তার দল।
কিশিদা এই জয়কে স্বাগত জানালেও আবেকে হারানোর কারণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি তিনি। আবেকে ছাড়া তার দলকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ কঠিন তা তিনি জানেন। আবের হত্যাকাণ্ডের পর রোববারের ভোট এক নতুন মাত্রা পায়। এ নির্বাচনে জাপানের সব রাজনৈতিক নেতা বাকস্বাধীনতার গুরুত্ব এবং হিংসার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষার ওপর জোর দেন।
কিশিদা বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ শনিবার প্রচারের শেষ দিনে দলের নেতারা জনসাধারণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন। আবে হত্যাকাণ্ডের পর কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা ছিল গোটা দেশ।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স