এই ছবিটি দেখুন। কিভাবে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’কে হত্যা করা হয়েছে তা এই গ্রাফিক্সচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে। একে ১ চিহ্নিত স্থানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছিলেন শিনজো আবে। আর ২ চিহ্নিত স্থানে স্থানে দাঁড়িয়ে ঘাতক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল। শিনজো আবে বক্তব্য শুরু করার পর সে আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় তার কাছাকাছি। তার কিছুটা পিছনে ৩ চিহ্নিত স্থানে অবস্থান নেয়। শিনজো আবে বক্তব্য শুরু করেন। তার কিছুক্ষণ পরেই ৩ চিহ্নিত স্থান থেকে পর পর দুটি গুলি করে ঘাতক। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবে। পিছনে ঘাতক লুকিয়ে আছে, এ কথা ঠাহর করতে পারেননি নিরাপত্তা রক্ষাকারী বা অন্য কেউ। গুলি করার পর পরই শিনজো আবে’র বুকে পাম্পিং করে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখার চেষ্টা করেন প্যারামেডিকরা। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয় তার।

জীবনের সব চিহ্ন নিভে যায়। দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে কমপক্ষে ২০ জন ডাক্তারের একটি টিম চার ঘন্টারও বেশি তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হন। ওদিকে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা ঘাতককে ৪ চিহ্নিত স্থানে জাঁপটে ধরেন মাটির সঙ্গে। উদ্ধার করেন গুলি করায় ব্যবহৃত অস্ত্র। এ ঘটনা ঘটে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নারা’তে। সেখানে একই রেল স্টেশনের বাইরে প্রার্থী কিই সাতো’র পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য রাখছিলেন ৬৭ বছর বয়সী শিনজো আবে। ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটস-এর প্রার্থী সাতো। আগামীকাল সেখানে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নির্বাচন। শিনজো আবে তার সমর্থনে বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে চারপাশে হাততালি দেন সহযোগীরা। কিন্তু তার পিছন দিকে অবস্থান নিয়েছে ঘাতক এ বিষয়ে কেউই সচেতন ছিলেন না। ঘাতকের সঙ্গে ছিল ক্রস-বডি ব্যাগ। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে এগারটায় পাওয়া ফুটেজে দেখা যায়, শিনজো আবে কয়েক মিনিট বক্তব্য রেখেছেন। এমন সময় ওই ঘাতক তার দিকে অগ্রসর হয়। গুলি চালায়। মাটিতে পড়ে যান শিনজো আবে। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল তখন মাটি। উদ্বিগ্ন একজন ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষীরা মাটিতে ঠেসে ধরেন। তাকে আটক করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আশপাশে অবস্থানরতরা দ্রæত ছুটে যান শিনজো আবের কাছে। তাকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে করে নারা মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু গুলির পর পরই তিনি চেতনা হারান। সেই যে চোখ বন্ধ করেছেন, আর চোখ খোলেননি। এভাবেই চিরবিদায় নিয়েছেন জনপ্রিয় এই নেতা।