শ্রীলঙ্কা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানি করতে সংগ্রাম করে যাচ্ছে, যার ফলে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ওষুধ, খাদ্য এবং জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ডাক্তারদের উদ্ধৃত করে বলেছে, দেশটির পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনই ভেঙে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক পশ্চিমা দেশ রাশিয়ার ইউক্রেনে অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় সেখান থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে এর আগে বলেছিলেন, তার দেশও এটি অনুসরণ করবে এবং প্রথমে অন্যান্য উৎস সন্ধান করবে, তবে শেষ পর্যন্ত এটি সফল হয়নি। শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় করেছে এবং ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা আরও করতে ইচ্ছুক।
শ্রীলঙ্কা আরও রাজস্ব আয়ের পথ হিসেবে পর্যটনের দিকে ঝুঁকছে। আরও দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করার এবং ভারত থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আনার আশায় ভারতের পাঁচটি শহরে তারা রোড শো করবে।
পর্যটনমন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো সাংবাদিকদের বলেছেন, এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শ্রীলঙ্কার অবশ্যই পর্যটন খাত থেকে রাজস্ব আদায় করতে হবে। এটা অপরিহার্য। ফার্নান্দো বলেন, তিনি আশা করছেন বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ১০ লাখ পর্যটক শ্রীলঙ্কায় যাবেন।
গত সপ্তাহে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল শ্রীলঙ্কায় ১০ দিনের সফর শেষ করেছে। কিন্তু দুই পক্ষ একটি বেলআউট প্যাকেজ নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। সফরের পর আইএমএফের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কা বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ফলে ২০২২ সালে দেশটির অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুত এতটাই কম যে তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বিঘ্নিত হচ্ছে।