সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০১:৩৮ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

বিলাওয়াল ভুট্রোকে আমন্ত্রণ

Reporter Name
Update : রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২, ৫:৪৩ অপরাহ্ন

পাকিস্তানের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। আগামী ২৭শে  জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠেয় উন্নয়নশীল আট মুসলিম রাষ্ট্রের জোট ডি-৮ এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তাকে বাংলাদেশ সফরের বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। সেগুনবাগিচা বলছে, ডি-৮ এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ জোটের অন্য সদস্য মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে থাকা বাংলাদেশ দূতকে সশরীরে আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে হাজির হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়া আসিফ আলী জারদারির ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো মুসলিম লীগ (নওয়াজ) ও পিপলস পার্টির সমন্বিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গত এপ্রিলে শপথ নেন। পাকিস্তান পার্লামেন্টে নাটকীয় অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিদায়ের পর বিরোধীদলীয় জোটের নেতা শাহবাজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২৩ সালের সমাপনীতে অনুষ্ঠেয় পাকিস্তানের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সরকার পরিচালনার জন্য নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ বিদেশনীতি বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব এখন দেশটির অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল পিপলস পার্টির হাতে। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন বিলাওয়াল। এবারই তিনি সরকারে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে নিয়োগ পান। তবে আগে থেকেই বেনজির ভুট্টোর সেই পিপলস পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন তার সন্তান। বিলাওয়াল ভুট্টো বরাবর পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে  মন্ত্রী মোমেন লিখেন- আগামী ২৭শে জুলাই ঢাকায় ডি-৮’র মন্ত্রী পর্যায়ের ২০তম অধিবেশনে আপনাকে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। পঁচিশ বছর আগে আটটি মুসলিম উন্নয়নশীল দেশের নেতারা অভিন্ন লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ডেভেলপিং-৮ প্রতিষ্ঠায় একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে উপনীত হয়েছিলেন।

আমি যখন সংগঠনটির যাত্রার দিকে ফিরে তাকাই তখন দেখি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে আমরা অনেক যুগান্তকারী অর্জন সাধন করেছি। আমি এ জন্য সন্তুষ্ট। আশা করি, আগামী বছরগুলোতে ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ের  বৈঠক আয়োজন করতে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী মোমেন বলেন, এটি এমন একটি সময়, যখন আশাবাদের ধারণা নিয়ে আমরা বৈশ্বিক মহামারি কেভিড-১৯ এর পুনরুদ্ধারের পর্যায় প্রত্যক্ষ করছি। এটি আমাদের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি সুযোগ। এর মধ্যদিয়ে আমরা আমাদের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার এবং শক্তিশালী করার প্রয়াস চালাতে পারি। মন্ত্রী পর্যায়ের ওই আলোচনা ঐতিহ্যগত এবং উদীয়মান উভয় ক্ষেত্রেই সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এটি ডি-৮ প্রতিষ্ঠার রজতজয়ন্তীও বটে।

এ আয়োজনে আপনার দেশের প্রতিনিধিদল সাইডলাইনে বিশেষ ব্যবসায়িক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিলিত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা ডি-৮ এর ২৫তম প্রতিষ্ঠার স্মরণে আয়োজন করা হবে। আমি ঢাকায় ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ের আসন্ন বৈঠকে আপনার সদয় অংশগ্রহণ কামনা করছি এবং আপনাকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় আছি। সম্মিলিত প্রয়াস আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও উন্নত করতে পারে এবং সংস্থাকে অনন্য নির্দেশনা প্রদান করে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আনতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমন্ত্রণ গ্রহণ এবং নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী মোমেন তার চিঠির সমাপ্তি টানেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host