ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের খোঁজ নেই। তারা রুশ বাহিনীর হাতে বন্দি হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) ওই দুই স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধার পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
ওই দুই নাগরিকের পরিচয় জানানো হয়েছে। তাদের একজনের নাম আলেকজান্ডার ড্রুক (৩৯), যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা রাজ্যের তুসকালুসার অধিবাসী। অপরজন অ্যান্ডি হুইন (২৭), আলাবামার হার্টসেলের বাসিন্দা। তারা উভয়ই মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সেনা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের পরপরই আলাবামা থেকে ইউক্রেনে পাড়ি জমান তারা। তাদের পরিবার ও মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ৮ জুন শেষবারের মতো নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তারা।
এরপর তারা ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে এক অভিযান যান। কিন্তু এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকদিন অপেক্ষার পরও তাদের খোঁজ না পেয়ে সংশ্লিষ্ট দুই পরিবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
টেরি সিওয়েল নামে এক কংগ্রেস সদস্য জানান, ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সহযোগিতার জন্য চলতি সপ্তাহে তার অফিসে যোগাযোগ করেন আলেকজান্ডার ড্রুকের মা।
রবার্ট এডারহোল্ট নামে আরেক আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, হুইনের পরিবারও তার ব্যাপারে তথ্য পেতে তার অফিসে যোগাযোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়া ওই দুজনকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে ধরে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
অ্যান্ডি হুইনের বাগদত্তা জয় ব্ল্যাক বলেছেন, পররাষ্ট্র দফতর থেকে এ মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা যা জেনেছি তা হলো, তারা দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। এর বাইরে আমরা নিশ্চিত কিছু জানি না।
ওই দুই যোদ্ধার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন করে দ্য টেলিগ্রাফ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি আরেক যোদ্ধার বরাত দিয়ে জানায়, খারকিভের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইকালে গত ৯ জুন তাদেরকে আটক করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, টেলিগ্রাফের ওই রিপোর্টটি খতিয়ে দেখছে তারা। সেই সঙ্গে তাদের বিষয়ে তথ্য পেতে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে শেষ পর্যন্ত যদি আটক হওয়ার খবর সত্য হয়, তাহলে তারাই হবেন ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাতে বন্দি হওয়া প্রথম মার্কিন নাগরিক।
এদিকে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর সত্য হলে তাদের ফেরাতে ‘যা করার দরকার তার সবই করবে’ যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে গিয়ে দুই ব্রিটিশ ও মরক্কোর এক নাগরিক বন্দি হয়। গত সপ্তাহে রুশপন্থী স্বাধীনতাকামী নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক পিপল’স রিপাবলিকের একটি আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন।
এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে এক মাসের সময়ও দেয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য ও পশ্চিমা দেশগুলো ওই বিচার প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে রায়ের নিন্দা জানিয়েছে।