ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমপক্ষে দুটি ইস্যুতে বিপরীত অবস্থান নিয়েছে ভারত। প্রথমত তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে হামলার জন্য জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাবে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। দ্বিতীয়ত: রাশিয়ার তেল, অস্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও অস্ত্র কেনা অব্যাহত রেখেছে ভারত। এ জন্য চাইলেই ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন আইন প্রণেতাদের তরফ থেকে এমন দাবিব জোরালো হয়েছে। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। বরং মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিরা ঘন ঘন ভারত সফরে আসছেন এবং ভারতকে রাশিয়ার সঙ্গে স্বেচ্ছায় যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুৎসাহিত করছেন তারা। এমনটাই ভারতকে পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিøনকেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
এ সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বেশ কয়েকটি কংগ্রেশনাল শুনানিতে বিøনকেন বলেছেন, আমরা পারি বিভিন্ন দেশকে (রাশিয়ার সঙ্গে) যুক্ত থাকা অনুৎসাহিত করতে হবে। আমাদের ক‚টনীতি এ বিষয়টিতে জোর দিয়েছে
ইউক্রেনে আগ্রাসন সত্তে¡ও রাশিয়ার সঙ্গে অব্যাহতভাবে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। এ জন্য ওই শুনানিতে ডেমোক্রেট দলের সিনেটররা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিøনকেনের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন ভারতকে আরও চাপ দিতে। সিনেট কমিটি অন ফরেন রিলেশন্সের প্রধান সিনেটর বব মেন্ডেজ ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা রাশিয়া থেকে তেল কিনছে। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র বিরোধী ব্যবস্থা কিনছে। তারা রাশিয়ার সমালোচনায় জাতিসংঘের ভোটদানে বিরত ছিল। কিন্তু একই সঙ্গে তারা কোয়াডের সদস্যও। ফলে কিছু সময়ে আমরা বিশ্বের কাছে যে বার্তা পাঠাই তা অসঙ্গত। যখন বলি আমরা বিরক্ত, হতাশাগ্রস্ত, তখন এই অসঙ্গতি কাটে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থবছর ২০২৩ এর বাজেট অনুরোধের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বিøনকেন স্বীকার করেন এই অস্বস্তি বাস্তবিক। কিন্তু আইন প্রণেতাদেরকে বিস্তৃত দৃশ্যের দিকে দৃষ্টি দেয়ার আহŸান জানান তিনি। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে। এক্ষেত্রে তাদের কিছু সম্পর্কের বিষয় আমাদেরকে পুনর্বিবেচনা করতে হয়, যেমন রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক। এ সপ্তাহে চতুর্থবার তিনি কংগ্রেসে উপস্থিত হন। তার প্রথম শুনানিতে বিøনকেন এসব বলেন।
সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন্স সাবকমিটিতে আরেক শুনানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিøনকেন বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কয়েক দশকের পুরনো। ভারতের জন্য রাশিয়া একটি অত্যাবশ্যক অংশীদার, যখন আমরা ভাবছি তাদের এই অংশীদার হওয়া উচিত নয়। আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বর্ধনশীল কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবশ্যই এক্ষেত্রে চীন একটি বড় অংশ।
এ অঞ্চলে ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করছে বেইজিং। এ কারণে বেইজিংকে মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিøনকেন আরও বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় প্রচুর সময় খরচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু মস্কোর কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান হারে ভারতের তেল কেনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বাধা না দেয়ার সমালোচনা করেছেন ফরেন রিলেশন কমিটিতে সিনেটর মেন্ডেজ। সিনেটররা সুপারিশ করেছেন ভারত যদি রাশিয়ার কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধ না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত।
মার্কিন মিডিয়ার খবরে বলা হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের আগে মার্কিন আইনপ্রণেতারা রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র বিরোধী ব্যবস্থা কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে অনেক বেশি ছাড় দিয়েছিলেন। মার্কিন মিডিয়ার আরও রিপোর্ট ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর রাশিয়া থেকে ভারত দ্বিগুণের বেশি অশোধিত তেল আমদানি করেছে। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে মেরিল্যান্ডের ডেমোক্রেট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, যেসব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে বেশি থেকে বেশি জিনিসপত্র আমদানি করছে তাদের বিরুদ্ধে কেন আমরা সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছি না? এমন অনেক দেশ আছে যারা রাশিয়ার কাছ থেকে কম দামে তেল কিনছে। বস্তুত এর মধ্য দিয়ে শুধু পুতিনকে সাহায্য করা হচ্ছে।