রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: newssonarbangla@gmail.com

ইউরো ও ডলারের বিপরীতে রুবলের মান বেড়ে দুই বছরে সর্বোচ্চ

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২২, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

ইউরো ও ডলারের বিপরীতে প্রতিদিনই শক্তিশালী হচ্ছে রুশ মুদ্রা রুবলের মান। ইউরোপের দুই দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের পর এর মান আরও বেড়েছে। শুধু তাই নয়, গত দুই বছরের মধ্যে রুবল এখন সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে চলে গেছে। বুধবার (২৭ এপ্রিল) মস্কোর মুদ্রাবাজার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

রুবলে দাম পরিশোধ করতে অস্বীকার করায় পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া, যা বুধবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। ইউক্রেন ইস্যুতে দেশ দুটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম অবনতির মধ্যে রাশিয়া এ পদক্ষেপ নেয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ বন্ধের কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার রাত ৮টার মধ্যে ইউরোর বিপরীতে রুবলের দাম ১.৮ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোর বিপীরতে রুবলের মান বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫.৪৩, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। আর ডলারের বিপরীতে রুশ মুদ্রার মান বেড়ে দাঁড়ায় ৭২.৭৫-এ। এর আগে গত শুক্রবার (২২ এপ্রিল) প্রতি ডলারের বিপরীতে রুশ মুদ্রা রুবলের মান ছিল ৭৪। ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর যা নেমে গিয়েছিল ১৩৯ রুবলে।

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস না পেলেও অর্থনৈতিকভাবে মস্কোকে পঙ্গু করতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়াই বাকি রাখেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা। ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ সেনা অভিযানের পরই পশ্চিমারা একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়। রাশিয়ার ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সম্পদ জব্দও করা হয়। আর্থিক লেনদেনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম সুইফট থেকে মস্কোর প্রায় সব ব্যাংককে বের করে দেওয়া হয়।

পশ্চিমাদের এ নজিরবিহীন অর্থনৈতিক আক্রমণে টলে ওঠে মস্কোর অর্থনীতি। ডলারের বিপরীতে ধস নামে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলে। ৪০ শতাংশ মান হারিয়ে মার্চের ৭ তারিখে ডলারের বিপরীতে রুবলের মান দাঁড়ায় ১৩৯। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঠাট্টা করে রুবলকে রাবল বলে অভিহিত করেন।

কিন্তু এ আত্মতুষ্টি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাল্টা অর্থনৈতিক চালে দ্রুত ম্লান হতে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার ২০ শতাংশ করার নির্দেশ দেন তিনি। সেই সঙ্গে রাশিয়ার বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো নিষিদ্ধ করা হয়। রাশিয়ায় থাকা বিদেশি কোম্পানিগুলোর সম্পদ বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি তেল ও গ্যাস কিনতে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর রুবলে মূল্য পরিশোধের শর্ত আরোপ করে ক্রেমলিন। পশ্চিমা দেশগুলোতে রাশিয়া প্রতি মাসে ৩০ বিলিয়ন ইউরোর জ্বালানি বিক্রি করে। মস্কোর শর্ত অনুযায়ী, ইউরোপকে এখন থেকে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ রুবলে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ চালেই বাজিমাত মস্কোর। পুতিন প্রমাণ করলেন, শুধু যুদ্ধের ময়দানেই নয়, অর্থনীতির লড়াইয়েও পশ্চিমাদের সমান টেক্কা দিতে পারেন তিনি।

পুতিনের এসব পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর করে রুবল ফের শক্তিশালী হতে শুরু করে। রুশ মুদ্রা দ্রুত ফিরে আসে যুদ্ধপূর্বের অবস্থানে। রুবল অবস্থান প্রতিদিনই শক্তিশালী হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host