ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কালাপাহাড়ি গ্রামের মসজিদে গত শনিবার বিকালে লাশ দাফনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে লাশ মাটিতে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সূত্রমতে জানযায়, উপজেলার কালাপাহাড়িয়া গ্রামে গত শনিবার দুপুরে ইজাল মালিতার মৃত্যুর পর তাহার ছেলে লিটন মালিতা মসজিদের মাইকে মরহুমার জানাযা’র নামাযের ঘোষনা দিতে বলেন, কিন্তু মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন মৃত ইজাল মালিতা তা মাইকে প্রচার করেন না।
পরবর্তীতে মৃত ব্যাক্তির স্বজনরা আবারও দুইজন ছেলেকে পাঠাই ওই মৃত্য ব্যক্তির জানাযার নামাজের সময় প্রচার করার জন্য। নিহত ইজাল মালিতার চাচাত ভাই মাসুদ মেম্বর আবার লোক পাঠায় তখন ওই মুয়াজ্জিন বলেন আমি এতেকাফে আছি, তাই আমি প্রচার করতে পারবো না, তোমরা কেউ এসে বলো। এই কথা শুনে ছেলে দুটি প্রচার না করেই চলে যায়।
তারপর ওই ছেলে দুটি চলে গিয়ে মাসুদ মেম্বর কে বলে যে মুয়াজ্জিন কনক আমাদের এই প্রচার করবে না। মসজিদে এমন কোনকিছু প্রচার করা ইমামের নিষেধ রয়েছে । তারপর মাসুদ মেম্বর ও তার সাথে থাকা মৃতব্যক্তির দুই সন্তান ও আত্মীয়রা ওই মসজিদে যাই। মসজিদে যাওয়ার পর মাসুদ মেম্বর, ইমাম সাহেবকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন যে, মসজিদের মাইকে মৃত্য ব্যক্তির জানাযার প্রচার করা কি আমাদের ইসলাম ধর্মে নিষেধ আছে। তখন ওই ইমাম সাহেবের সাথে মুয়াজ্জিনও আসেন মসজিদের বারান্দায়।
ইমাম সাহেবের নিকট মাসুদ মেম্বর প্রশ্ন করলে মুয়াজ্জিন বলেন আমি তো বলেছি আমি এতেকাফে আছি আমি বলতে পারবো না তোমরা কেউ এসে বলো। তখন মাসুদ মেম্বর বলেন এতো দিন বলা হলো আর এখন বলা নিষেধ হলো এটা কেমন কথা।

এভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ড শুরু হয়,একপর্যায়ে মৃতব্যক্তির দুই ছেলে মিল্টন ও লিটন সহ তাদের আত্মীয়রা মুয়াজ্জিন ও ইমামের উপর আক্রমন করতে থাকে। ইমাম, মুয়াজিনও তাদের উপর পাল্টা আক্রমন চালায়। এই ঘটনা দেখে গ্রামবাসী ছুটে এসে দুই পক্ষকে থামিয়ে দেয়। পরবর্তীতে লাশ দাফন ও ইফতারের জন্য সবাই নিজ নিজ বাড়ীতে চলে যান।
পরে তারাবীহ নামাযের সময় হলে মৃত্য ইজাল মালিতার ছেলে মিল্টন নামাযে গেলে মুয়াজ্জিন কনক হোসেন মিল্টন কে মারপিট শুরু করে, এখবর পেয়ে মিল্টনের ভাইসহ উভয় পক্ষের বেশকিছু লোকজন ছুটে এলে দ্বিতীয় দফা সংর্ঘষের শুরু হয় এতে উভয় পক্ষের ৪জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে মিল্টন ও লিটন কে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এঘটনা পরের দিন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়, সবার মুখেই ছড়িয়ে পড়ে মাইকে লাশের প্রচার না করে তার ছেলেদের মারধর করা হয়েছে।
অপর দিকে মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন বলেন মাহে রমজানে মসজিদে এতেকাফে থাকা মুসল্লিদের কাছে মৃত্য ব্যক্তি জানাযা নামাযের প্রচার করতে বাধ্য করলে তারা প্রচার না করায় মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের উপর হামলা চালানো হয়েছে আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।