রয়েল আহমেদ, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: রমজানের শেষ সময়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপার সমস্ত বাজার জুড়ে চলছে কেনাকাটার ধুম। মার্কেটগুলোতে ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। ইদের আনন্দের জন্য কেনা করতে আসা অনেক ক্রেতা অভিমত ব্যক্ত করেছেন,এবারের ইদের কালেকশন তুলনা মূলকভাবে ভাল হলেও দাম আকাশ ছোয়া।
বড়দের থেকে ছোটদের নতুন পোশাক কেনার মধ্য দিয়ে শুরুহয় ইদের আমেজ। কিন্তু প্রতিবারই ছোটদের পোশাকের জন্য কেনাকাটা করতে এসে অতিরিক্ত দাম গুনতে হয় অভিভাকদের। এবারও এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি মার্কেটগুলোতে।
ইদ বাজারের ক্রেতা মামুন শেখ বলেন, ইদ বাজারে সব পোশাকেই কমবেশি অতিরিক্ত মূল্য রাখা হয়। কেনাকাটা করতে এসে দামে হিমশিম খেতে হয়। আর সেখানে ছোটদের পোশাকের দাম লাগামহীন। তবুও নিরুপায় হয়ে বাচ্চাদের ইদ আনন্দের জন্য বাড়তি দাম দিয়ে কেনাকাটা করতে বাধ্য হলাম।
তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চাদের মার্কেটে এমনিতেই পা ফেলার জায়গা নেই, মানুষের প্রচন্ড চাপ। এরমধ্যে দাম শুনে পড়ে যাই বিপাকে। বাচ্চারা যেটা পছন্দ করে এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার দোকানিরা যে দাম বলেন এর বাইরেও কথা বলার সুযোগ নেই। সব মিলে নিরুপায় আর অস্বস্তি নিয়েই সারতে হচ্ছে কেনাকাটা।
এবছর ইদের বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে জুতার দাম গত বছরের তুলনায় এক জোড়া জুতা,স্যান্ডেল নূন্যতম একশ’ থেকে তিনশ’ টাকার অধিক দাম হাকানো হচ্ছে।
তাছাড়া, গার্মেন্টসগুলোতে চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে ইদের পোশাক। তবে ছিট কাপরের গুলাতো কাপড়ের দাম গজে ৫ থেকে ১৫ টাকা বেশী দাম ধরলেও ক্রেতারা কিনতে পারছেন। পাশাপাশি ইদের বাজারে চোর,ছেচড়া,পকেট মারের উপদ্রব্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে শোনা গেছে।
গার্মেন্টস গুলোতে কাপড়ের পোশাকের দাম নেওয়া হচ্ছে গত বছরের তুলনায় তিনশ’ থেকে চারশ’ টাকার অধিক। পাঞ্জাবীর দোকান গুলোতে এবার চড়া দামে বেচাকেনা হচ্ছে। গত বছর যে পাঞ্জাবী ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় ক্রেতারা কিনতে পেরেছে। এবার তার দাম হাকানো হয়েছে ৭শ’ থেকে ১১ শ’ টাকা টাকা। তাছাড়া,শার্ট,প্যান্ট,মেয়েদের পোশাক ও শিশুদের পোশাকে দাম হাকানো হচ্ছে দ্বিগুন।
যে শাড়ী,থ্রিপিচ গত বছর বিক্রি হয়েছে ৭শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা। সেই শাড়ী কাপড় ও থ্রিপিস এবছর চাওয়া হচ্ছে নন্যূতম ১ হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা।
অনণ্যা ফ্যাশনের মালিক অবাইদুর রহমান বলেন, ক্রেতাদের ভালো সমাগম হচ্ছে। এবার বেশি দামে মাল কিনতে হয়েছে একারনে দামটা আগের থেকে একটু বেশি। কিন্তু আমরা ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত দাম চায় না।
শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে শহরে বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোবাইল টিমের মাধ্যমে ডিউটি করে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি সবাই নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারবে।