চীনের সঙ্গে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের করা নিরাপত্তা চুক্তির কারণে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) ওই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনা সেনাবাহিনীকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ওশেনিয়ার দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে শুক্রবার সলোমন দ্বীপপুঞ্জ সফরে গেছেন মার্কিন কূটনীতিকদের একটি দল। খবর সিএনএনের।
গত মাসে চীনের সঙ্গে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের করা একটি চুক্তির খসড়া ফাঁস হয়। এতে দ্বীপপুঞ্জটিতে চীনা নৌবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। চুক্তিটি ঠেকাতে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেশ দুটি। যদিও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় তারা। মঙ্গলবার চীনের সঙ্গে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আর এতেই নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে।
চুক্তির বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ওশেনিয়ার দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে শুক্রবার সলোমন দ্বীপপুঞ্জ সফরে গেছেন মার্কিন কূটনীতিকদের একটি দল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিতে স্বচ্ছতার অভাব ও সুনির্দিষ্ট ধরন না থাকায় উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন। এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনা সেনাবাহিনীকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।
নতুন চুক্তি নিয়ে উদ্বেগে ওশেনিয়ার আরেক দেশ অস্ট্রেলিয়াও। সলোমন দ্বীপপুঞ্জ থেকে অস্ট্রেলিয়ার দূরত্ব দুই হাজার কিলোমিটারের কম৷ এক বিবৃতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন দাবি করেন, বেইজিং প্রশান্ত যদিও স্কট মরিসনের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে উল্টো অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই ওশেনিয়া অঞ্চলে জবরদস্তিমূলক কূটনীতি’র অভিযোগ এনেছে চীন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিঝিয়ান সলোমন দ্বীপপুঞ্জে পশ্চিমা দেশগুলোর তৎপরতাকে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ছোট কোনো বিষয় নিয়ে উসকানি না দিয়ে সব পক্ষের উচিত সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রাখা।