নানা নাটকীয়তার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শনিবার (৯ এপ্রিল) শুরু হয়েছে। অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছে। এ অধিবেশনের মধ্যেই নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে ইমরানের প্রধানমন্ত্রিত্বের ভাগ্য। এ অধিবেশনে অনুপস্থিত রয়েছেন ইমরান খান।
ডনের খবরে বলা হয়েছে, অনাস্থা ভোট খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করলে দেশটির অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অনাস্থার পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মোট ৩৪২ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে অন্তত ১৭২ জনের সমর্থন প্রয়োজন।
সর্বশেষ পরিস্থিতি হচ্ছে, বিরোধী দলগুলো ১৭২-এর ‘ম্যাজিক’ নম্বর পেরিয়ে গিয়ে ১৭৪ জন সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
স্পিকার আসাদ কায়সার অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন। অধিবেশন মুলতবি হওয়ার আগে ট্রেজারি বেঞ্চের খুব কম সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
গত ৭ মার্চ জাতীয় পরিষদের সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় বিরোধী দলগুলো। এরপর ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার। প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির জন্য ৩ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব অসাংবিধানিক ঘোষণা দিয়ে খারিজ করে দেন ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি। একই সঙ্গে অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন তিনি। পরে দেশটির প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দেন।
অনাস্থা ভোট খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতিভাবে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। একই সঙ্গে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর শনিবার ভোট গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেন, অনাস্থা প্রস্তাবের সুরাহা না করা অবধি পার্লামেন্টের অধিবেশন মুলতবি করা যাবে না।