রয়েল আহমেদ,শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ধস নেমেছে পেঁয়াজ-রসুনের বাজারে। প্রতি মণ পেঁয়াজ-রসুন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকায়। কেনাবেচার এ ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ-রসুনের দামে হতাশ চাষিসহ সংশ্লিষ্টরা।
শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে দেখা যায়, প্রকারভেদে পেঁয়াজ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরেও বিক্রি হচ্ছে। তবে রসুন বিক্রি হচ্ছে আরও কম দামে। ২০০ থেকে ৩০০ টাকা মণ, সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো হাটে রসুনের দামই পাচ্ছে না চাষি এবং ব্যবসায়ীরা। সে ক্ষেত্রে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ঝিনাইদহে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও এবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন কম হয়েছে। প্রতি মণ পেঁয়াজ গত মৌসুমে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এবার ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি বিঘা জমি থেকে কৃষকেরা গত মৌসুমে ১০০ মণ করে পেঁয়াজ ঘরে তুললেও এবার ৫০ থেকে ৬০ মণ করে পেঁয়াজ পেয়েছেন।
মাঠ থেকে পেঁয়াজ বাড়িতে এনে কাটা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ বাজারজাত ও ঘরে রাখা নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ছয় উপজেলার মধ্যে শৈলকুপায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়। জেলার ১০ হাজার হেক্টর জমির পেঁয়াজের মধ্যে এখানেই এবার চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে।
শৈলকুপায় প্রতি শনি ও মঙ্গলবার হাট বসে পেঁয়াজের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও ব্যাপারীরা একদিন আগেই চলে আসেন শৈলকুপাতে। তাঁরা ট্রাকভর্তি করে পেঁয়াজ নিয়ে যান দেশের অন্যান্য বড় বড় হাট-বাজারে।
শৈলকুপা উপজেলার সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয় পাইকপাড়া গ্রামে। পাইকপাড়া গ্রামে যেয়ে দেখা গেছে, কৃষকের বাড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পেঁয়াজ। ঘর-বারান্দা কোথাও একটু খালি জায়গা নেই। খেতেও রয়েছে। কৃষকেরা বাড়িতে এনে স্তুপ করে রাখছেন বিক্রির আশায়। তবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বেশির ভাগ পেঁয়াজ তুলেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে তাঁরা।
আউশিয়া গ্রামের কৃষক মিথুন হোসেন জানান, প্রতি বিঘায় সব মিলিয়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে ফলন কম হওয়ায় এবার ১ বিঘায় ৫০ থেকে ৬০ মণ করে পেঁয়াজ পাচ্ছেন। প্রতি মণ পেঁয়াজ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে সার-ওষুধ আর কৃষি শ্রমিকের বিল পরিশোধ করাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
শৈলকুপা বাজারের পেঁয়াজ-রসুন ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বলেন, ‘রসুন-পেঁয়াজের দাম কম। অনেক মাল আমাদের অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে । একারনে আমরা বেশি দামে মাল কিনতে পারছিনা।
উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মারফত হোসেন জানান, এ উপজেলায় ক্রমেই পেঁয়াজের চাষ বাড়ছে। এবার অবশ্য প্রাকৃতিক কারণে উপজেলায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়নি। আর পেঁয়াজের দাম নিয়ে কৃষকদের হতাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাষিদের উচিত পেঁয়াজ কিছুদিন সংরক্ষণ করা। পেঁয়াজ-রসুনের দাম কমের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।