করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে পুরো সাংহাই শহরে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে চীন কর্তৃপক্ষ। এর আগে শহরটির পূর্ব ও পশ্চিমাংশে আলাদাভাবে লকডাউন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন থেকে পুরো শহরই অনির্দিষ্টকালের বিধিনিষেধের আওতায় পড়ল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এখন পর্যন্ত চীনে এটাই লকডাউন দেয়া সবচেয়ে বড় শহর। এর বাসিন্দা আড়াই কোটি। অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত এই শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে দেখা দিয়েছে কমপক্ষে এক মাস হলো। কর্তৃপক্ষ সেখানে দিনে কমপক্ষে ১৩ হাজার মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক অন্য বিভিন্ন স্থানের তুলনায় এই সংখ্যা খুব বেশি নয়। শহরটির বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীরা বলছেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে কাউকেই তাদের হাউজিং কম্পাউন্ড থেকে বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতেও বের হতে দেয়া হচ্ছে না। অনলাইনে খাদ্য ও পানি অর্ডার দেয়ার ক্ষেত্রেও তারা জটিলতার মুখোমুখি। কারণ, অনলাইন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসার আগেই এসব পণ্য বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। চীনের জিরো-কোভিড কৌশল অবলম্বন করে করোনা ভাইরাসকে সীমিত করার পরীক্ষা করা হচ্ছে সেখানে। তবে এতে কোয়ারেন্টিনে যেসব বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে তাতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
অন্য যেসব দেশ করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করে বা এই ভাইরাসের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলার চেষ্টা করছে চীন তাদের থেকে আলাদা পলিসি নিয়েছে। কিন্তু সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের হাল্কা প্রকৃতির ফলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছেÑ দীর্ঘ মেয়াদে বর্তমান কৌশল টেকসই হবে কিনা তা নিয়ে। সাংহাই মিউনিসিপ্যালের স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিশনের একজন কর্মকর্তা উ কিয়ানয়ু। তিনি বলেছেন, বর্তমানে সাংহাইয়ে মহামারি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে কঠিন এবং সবচেয়ে জটিল অবস্থায় আছে।
সোমবার এই শহরে লক্ষণবিহীন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩,০৮৬ জন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে শহরের আড়াই কোটি মানুষের মধ্য থেকে নমুনা সংগ্রহ করার পর এই তথ্য পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে অন্য এলাকা থেকে সাংহাইয়ে মোতায়েন করা হয়েছে কমপক্ষে ৩৮ হাজার মানুষকে। ২০২০ সালের শুরুর দিকে উহান শহরে শাটডাউন দেয়ার পর এটাই কোনো শহরে সবচেয়ে বড় মেডিকেল অপারেশন।