মাদারীপুর থেকে কাওসার আলম মিঠুঃ মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ সোহেল রানাকে প্রত্যাহারের দাবীতে ৩৬ দিন যাবৎ লাগাতার কর্মবিরতি রেখে রাজৈর দলিল লেখকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বুধবার দুপুরে দলিল লেখক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবদুস সামাদ মোল্লার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক দলিল লেখক বিক্ষোভ মিছিল করে । মিছিলটি উপজেলা প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে অফিস চত্তরে এসে সমাবেশ করে। এসময় বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান তোতা, মনির হোসেন মৃধা, মান্নান মিয়া, ছাত্র নেতা অহিদুজ্জামান প্রমুখ। দলিল লেখা বন্ধ থাকার ফলে জমি ক্রেতা বিক্রেতারা পড়েছে চরম বিপাকে। শিকার হচ্ছেন চরম ভোগান্তির। শীগ্রই ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার না করলে লাগাতার কর্মসুচী চালিয়ে যাবেন বলে সমাবেশে বক্তারা বলেন। এ কর্মসুচীর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন পালন করা হবে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ সোহেল রানা রাজৈর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ঘুষ , দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময়ে দলিল লেখকরা এর প্রতিবাদ করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং প্রতিবাদি দলিল লেখকদের অপসারন বা শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের হুমকি দিয়ে তার ঘুষ ও অনিয়মের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় । অফিস সহকারি মোঃ আরিফ এর মাধ্যমে তার এ ঘুষগ্রহন লেনদেন হয়ে থাকে । তবে আরিফ জানান, আমি ছোট কর্মচারি , বড় স্যারের কথা আমাকে শুনতে হয় । দলিল লেখকরা এর প্রতিকার চেয়ে নানা যায়গায় ধর্না দিলেও কোন কাজ না হওয়ায় অবশেষে রাজৈর উপজেলা দলিল লেখক সমিতি তৃতীয়বারের মত বুধবার আন্দোলনে নামেন। রাজৈর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামাদ মোল্লা জানান, দলিল রেজিষ্ট্রি করাতে গেলে দলিল প্রতি লাখে এক হাজার টাকা দাবি করে সাব রেজিস্ট্রার সোহেল রানা। এমনকি নামের একটা অক্ষর ভুল থাকলেও তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। নাহলে তিনি দলিল করে না। তাছাড়া তিনি বেলা ১২টায় অফিসে আসলেও বিকেল ৪ টা থেকে শুরু করে রাত ১০ টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে আটকে রেখে টাকা আদায় করার পর দলিল রেজিষ্ট্রি করে । প্রবাসী ক্রেতা হলে ভোগান্তি আরো বাড়ে। এতে আমরা আপত্তি জানালে আমাদের লাইসেন্স বাতিল করার হুমকি ধামকি দেয়। এনিয়ে তার সাথে দুইবার বৈঠক করেছি। কিন্তু তারপরও তিনি পরিবর্তন হয়নি। এ ব্যাপারে রাজৈর উপজেলার সাব রেজিষ্ট্রার অফিসার সোহেল রানা বলেন, দলিল লেখকরা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে, তা সত্য নয় – উদ্দেশ্য প্রনোদিত। মাদারীপুর জেলা রেজিষ্ট্রার মোঃ রুহুল কুদ্দুস বুধবার মোবাইল ফোনে (০১৭১৬২৪০২৮৯) বলেন, দলিল লেখকদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি তাড়াতাড়ি সুরাহা হবে। তবে অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহন ঘৃন কাজ। আমি এ কাজকে ব্যক্তিগতভাবে ঘৃনা করি।