বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

 রাশিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা

Reporter Name
Update : বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৫:৩৪ অপরাহ্ন

রাশিয়ার পূর্ব ইউক্রেনে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো একটি স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে দিয়েছে যে, মস্কোর এ আগ্রাসনের কঠিন উত্তর দেওয়া হবে। অবশ্য, কঠোরতম নিষেধাজ্ঞাগুলো আরও বড় সংকটে প্রয়োগ করার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব ইউক্রেনের দুটি অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেন। পরে সেখানে তিনি সেনা পাঠানোরও নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পর রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক ও আর্থিক জরিমানা আরোপ করার জন্য এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে জোরদার পদক্ষেপ হচ্ছে, জার্মানির মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইনের সার্টিফিকেশন বাতিল করে দেওয়া।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সীমিত আকারে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছে। ইউক্রেনে পশ্চিমা দেশগুলোর নিজস্ব সৈন্য মোতায়েন করার কোনো সম্ভাবনা নেই। মস্কোকে শাস্তি দিতে এবং আরও আগ্রাসন রোধ করতে এসব নিষেধাজ্ঞাকে সর্বোত্তম হতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় তারা।

পশ্চিমারা এখন পর্যন্ত কী করেছে এবং কীভাবে এটি সত্যিই রাশিয়াকে আঘাত করতে পারে, তা নিয়ে সিএনএন এ বিশ্লেষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রথম ধাপ বলে উল্লেখ করেছেন। এতে বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাশিয়ার দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ান ধনকুবের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

পুতিনের পূর্ব ইউক্রেনের দুটি অংশকে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। তবে এই শাস্তিগুলোর বেশির ভাগই প্রতীকী। এগুলো রাশিয়ান অর্থনীতিকে তেমন একটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে না।

মার্কিন উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন ফিনার এমএসএনবিসির সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মস্কোকে ইউক্রেনের গভীরে সৈন্য পাঠানো থেকে বিরত রাখতে, এখনো কঠোর পদক্ষেপগুলো দেওয়া হয়নি। রাশিয়া যদি আরও পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আমরা আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারি, যার পরিণতি অনেক গুরুতর ও উল্লেখযোগ্য হবে।’

মঙ্গলবার বাইডেন বারবার বলেছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের ভূখণ্ডে অনধিকারে প্রবেশ করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রস্তুত রয়েছে।

ভিইবি ও রাশিয়ার সামরিক ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বড় বড় ব্যাংককে টার্গেট করতে পারে, যা মূলত রাশিয়াকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।

রফতানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মার্কিন অস্ত্রাগারের আরেকটি শক্তিশালী অস্ত্র। রফতানি নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার স্মার্টফোন, কি এয়ারক্রাফ্ট এবং অটোমোবাইল উপাদান আমদানি করার ক্ষমতাকে থমকে দিতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট খাতের উৎপাদন শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করবে।

এদিকে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের আক্রমণের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তা এখনো বজায় রয়েছে। এ ছাড়া সাইবার হামলা, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, অস্ত্রের বিস্তার এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অবৈধ বাণিজ্যসহ নানা কারণে অন্যান্য দণ্ড দেশটির ওপর আরোপ করেছে ‍যুক্তরাষ্ট্র।

ইউরোপ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার একটি প্যাকেজ টেবিল করবে, যার মধ্যে ব্যক্তি এবং ব্যাংকে টার্গেট করে প্রস্তাব রয়েছে। তবে ইইউ ইতোমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি বড় কার্ড খেলেছে।

যদিও প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য ইইউ গ্রাহকদের উচ্চমূল্য গুনতে হবে, তা সত্ত্বেও জার্মানি মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইনের সার্টিফিকেশন বাতিল করে দিয়েছে। এতে ইউরোপ যে রাশিয়ার বিশাল জ্বালানি শিল্পকে টার্গেট করতে ইচ্ছুক, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।

৭৫০ মাইলের এ পাইপলাইনটির কাজ গত সেপ্টেম্বরে সম্পন্ন হলেও তা এখনো জার্মান নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে চূড়ান্ত সার্টিফিকেশন পায়নি। তা ছাড়া রাশিয়া থেকে জার্মানিতে বাল্টিক সাগরের পাইপলাইন দিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রবাহিত হতে পারে না।

নর্ড স্ট্রিম ২ দিয়ে প্রতিবছর ৫৫ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা যায়। এটি জার্মানির বার্ষিক ভোগের ৫০ শতাংশেরও বেশি, যা থেকে পাইপলাইন নিয়ন্ত্রণকারী রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম ১৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে থাকে।

জার্মানির এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ‘আমি জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজের নর্ড স্ট্রিম ২ বাতিল করার সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানাই। আমি মনে করি, এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ এবং এটি করা সঠিক কাজ।’

এদিকে বিশ্বব্যাপী আন্তঃব্যাংক আর্থিক টেলিযোগাযোগ সোসাইটি, যা সুইফট নামে পরিচিত, তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এটি বিশ্বব্যাপী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একটি বার্তা পরিষেবা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

সুইফট থেকে রাশিয়াকে বাদ দিলে দেশটির আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দেশে বা দেশের বাইরে অর্থ পাঠানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এটি রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তার বিদেশি গ্রাহকদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে সেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য যারা মার্কিন ডলার ব্যবহার করে তেল ও গ্যাস রফতানি করে থাকেন।

ফিনিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের ভিজিটিং ফেলো মারিয়া শাগিনা কার্নেগি, মস্কো সেন্টারের জন্য গত বছর একটি গবেষণাপত্রে লিখেছিলেন, রাশিয়াকে সুইফট থেকে অপসারণের ফলে সমস্ত আন্তর্জাতিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, মুদ্রার বিদ্যমান অস্থিরতা আরও বেড়ে যাবে এবং মূলধনের ব্যাপক বহিঃপ্রবাহ ঘটবে।

বেলজিয়ামে অবস্থিত সুইফট, ২৫ জনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। এ সংস্থাটি নিজেকে নিরপেক্ষ ইউটিলিটি হিসেবে বর্ণনা করে থাকে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বেলজিয়ামের আইনের অধীন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং তাদের অবশ্যই ইইউর আইন মেনে চলতে হয়।

এর আগে একটি দেশকে সুইফট থেকে সরিয়ে দেওয়ার নজিরও রয়েছে। ২০১২ সালে পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সে সময় দেশটির ব্যাংকগুলোকে সুইফট থেকে বাদ দেওয়া হয়।

২০১৪ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী আলেক্সি কুদ্রিন অনুমান করেছিলেন, সুইফট থেকে রাশিয়াকে বাদ দিলে দেশটির অর্থনীতি ৫ শতাংশ সংকুচিত হবে। রাশিয়ার ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করার প্রতিক্রিয়া হিসেবে শেষবার এ নিষেধাজ্ঞাটি বিবেচনা করা হয়েছিল।

যুক্তরাজ্য

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্য রাশিয়ার পাঁচটি ব্যাংক এবং তিনজন রাশিয়ান ধনকুবেরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আইনপ্রণেতাদের জানান, রসিয়া ব্যাংক, আইএস ব্যাংক, জেনারেল ব্যাংক, প্রমসভিয়াজব্যাংক এবং ব্ল্যাক সি ব্যাংককে টার্গেট করা হবে। সেই সঙ্গে ব্রিটেন রাশিয়ার তিনজন ধনকুবেরের সম্পদও জব্দ করবে। তারা হলেন গেনাডি টিমচেঙ্কো, বরিস রোটেনবার্গ ও ইগর রোটেনবার্গ।

বরিস রোটেনবার্গ ও ইগর রোটেনবার্গ হচ্ছেন এসজিএম গ্রুপের মালিক। এ প্রতিষ্ঠানটি তেল ও গ্যাসের পরিকাঠামো তৈরি করে। এদিকে গেনাডি টিমচেঙ্কো বেসরকারি বিনিয়োগ সংস্থা ভলগা গ্রুপের মালিক। তারা তিনজনই ইতোমধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীন রয়েছেন।

সেই সঙ্গে ব্রিটেন রাশিয়ার সেসব আইন প্রণেতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, যারা পূর্ব ইউক্রেনের দুটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চলের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব লিজ ট্রাস বলেছেন, ‘রাশিয়া যদি না পিছিয়ে আসে, তবে আমরা আরও অনেক পদক্ষেপ নেব। আমরা রাশিয়ান রাষ্ট্রের ক্ষমতা কমিয়ে দেব এবং রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোর আমাদের বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ কমিয়ে দেব। সেই সঙ্গে উচ্চ প্রযুক্তির রফতানি নিষিদ্ধ করব এবং রাশিয়ান ব্যাংকগুলোকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করব।’

এদিকে যুক্তরাজ্য অলিগার্চদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে। ২০২০ সালের পার্লামেন্টের ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন দশকে বিনিয়োগকারী ভিসা প্রোগ্রামের মাধ্যমে ধনী রাশিয়ানরা লন্ডনে ছুটে এসেছেন।

সংসদীয় প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পুতিনের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত অনেক রাশিয়ান রয়েছেন, যারা যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক এবং সামাজিক দৃশ্যে বেশ ভালোভাবে একীভূত হয়ে আছেন। এবং তাদের সম্পদের পরিমাণের কারণে যুক্তরাজ্য তাদের গ্রহণ করেছে।

ইংল্যান্ডের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহকারী অধ্যাপক টাইলার কুস্ট্রা এ বছরের শুরুর দিকে সিএনএন বিজনেসকে বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকার এসব টার্গেটকৃত রাশিয়ানের ভিসা প্রত্যাহার করতে পারে। আমরা যদি এসব রাশিয়ানের ভিসা কেড়ে নিই, তবে এটি তাদের জন্য বেশ ভীতিকর বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।’

এসব পদক্ষেপের ফলে রাশিয়ার ওপর যে প্রভাব পড়বে–

এ আগ্রাসনের জন্য মস্কোকে ইতোমধ্যে একটি ভারী আর্থিক মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মস্কোর পুঁজিবাজারে এমওইএক্স স্টক সূচক ১০ শতাংশেরও বেশি কমার পর, মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) তা আরও ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে এ বছরেই এ পর্যন্ত পুঁজিবাজারের সূচক প্রায় ২০ শতাংশ হারিয়েছে।

মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে রাশিয়ান তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রোসনেফ্টের শেয়ার সবচেয়ে বেশি বাজার হারিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। এককথায়, এ সপ্তাতেই রাশিয়ান স্টকের দাম ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমে গেছে।

আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান চেজ-এর বিশ্লেষকরা একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা রাশিয়ান পুঁজিবাজারে নিকটবর্তী মেয়াদে আরও পতনের আশা করছি।’ এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংক রাশিয়ান ইকুইটিগুলো ‘ওভারওয়েট’ থেকে ’নিউট্রাল’-এ নামিয়ে দিয়েছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের বিশ্লেষকদের মতে, সর্বাধিক আলোচিত নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ শতাংশ কমিয়ে দেবে। তবে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ, যেমন রাশিয়াকে সুইফট থেকে বাদ দিলে দেশটির অর্থনৈতিক উৎপাদন ৫ শতাংশ কমে যাবে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের মতে, একটি ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য ২০১৪ সালের তুলনায় রাশিয়ার অর্থনীতি ভালো অবস্থানে রয়েছে। সে সময় পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এবং তেলের দাম কমার ফলে রাশিয়ার জিডিপি প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। এতে দেশটিতে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে রাশিয়া একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কারণ, দেশটির বাহ্যিক ঋণের পরিমাণ কম এবং বৈশ্বিক প্রধান অর্থনীতির সঙ্গে তাদের আর্থিক সংযোগ কম।

সোসাইট জেনারেলের বিশ্লেষক কিট জুকেস বলেন, এখন মূল প্রশ্ন হলো–প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের কতদূর যেতে চান। স্পষ্টতই, সংঘাতের বর্তমান এলাকার বাইরে গেলে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host