সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ১২:৫০ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

আজ মুক্তিযুদ্ধের নারী কমান্ডার   আশালতা বৈদ্যের জন্মদিন 

রেজাউল হক নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
Update : রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৫:৫৬ অপরাহ্ন

রেজাউল হক নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:  ১৯৫৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আশালতা বৈদ্য ১৯৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সৈনিক।বঙ্গবন্ধুর বুড়ী’ নামে তিনি বিশেষভাবে খ্যাত।মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দেশের জন্য যুদ্ধ করেই তিনি ক্ষান্ত দেননি। তিনি একাধারে একজন রাজনীতিবীদ ও সমাজসেবিকা।স্কুলজীবন থেকে তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকাকালে রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে ভাবে জড়িত হয়ে পড়েন। তারই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী।এসময় তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য ৮ ও ৯ নং সেক্টরের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া সীমানা সাব সেক্টরের হেমায়েত বাহিনীতে যোগ দেন। হেমায়েত বাহিনীতে ‘মহিলা বাহিনী’ নামে আলাদা একটা বাহিনী গঠন করা হয়। এ মহিলা বাহিনীতে মোট ৩৫০ জন নারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এই বিশাল নারী মুক্তিযোদ্ধা বাহিনীর একমাত্র কমান্ডার ছিলেন আশালতা বৈদ্য। তার নেতৃত্বে ৪৫ জন সশস্ত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।শেখ মুজিবুর রমানের হাত ধরে রাজনীতিতে যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন সময় ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন।মুক্তিযুদ্ধের চেয়েও ‘বঙ্গবন্ধু’কে হত্যার সময়টা ছিল দুর্বিসহ উল্লেখ করে তিনি বলেন বন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় সে সময়ে তাকেও জাতীয় নেতাদের সঙ্গে অসংখ্য মামলায় আসামি করা হয়েছিল।পরে রোকেয়া হল থেকে তৎকালীন সেনাবাহিনী তাকে প্রেফতার করে। ঐ সময় সামরিক বাহিনীর হাতে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।ছাত্র জীবন শেষ করে ‘সূর্যমূখী’ নামের একটি সমবায় সেবামূলক সংস্থা দিয়ে তার সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডের শুরু হয়। বর্তমানে তিনি এ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক। দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় তার অফিস। আশালতা বৈদ্য তার বৈচিত্র্যময় জীবনে সেবামূলক কাজের জন্য ২০০৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বাছাই কমিটিতে মনোয়ন পেয়েছিলেন। এছাড়া তিনি শ্রেষ্ঠ মহিলা সমবায় প্রেসিডেন্ট স্বর্নপদক, রোকেয়া পদক, প্রশিকা মুক্তিযোদ্ধা পদকসহ অনেক পুরস্কার লাভ করেন।পরিতাপের বিষয়, এতোকিছুর পরেও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি আজও কোনো রাষ্ট্রীয় উপাধি পাননি।এ সর্ম্পকে কথপোকথণে আশালতা বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় উপাধি আমি আশা করি না।সরকারের কাছে আর কোনোকিছু প্রত্যাশাও করি না। কারণ সরকারের সময় কই আমাকে উপাধিতে ভূষিত করার? কোনো উপাধি পাবার জন্য তো যুদ্ধ করিনি, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম দেশপ্রেমের কারণে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host