শৈলকুপা প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সোমবার (১০ জানুয়ারি) ঝিনাইদহের শৈলকূপায় শেখপাড়া দুঃখী মাহমুদ কলেজে প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় । ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও শৈলকুপার মধ্যে অন্যতম বিদ্যাপিঠ হিসেবে পরিচিত লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতি বছর শত শত শিক্ষার্থী এখান হতে উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি, ডিগ্রি (পাশকোর্স), বাংলা, রাষ্টবিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যাবস্থাপনা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স কোর্স থেকে পাশ করে দেশের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন । উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন ভর্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অধ্যয়ন করছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ঝিনাইদহ -১ শৈলকুপা আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই । বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন , ঝিনাইদহ জেলার আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু ও শৈলকুপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার শেফালি বেগম, শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক, সরোয়ার জাহান বাদশা প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক, আশফাক মাহমুদ জন, ত্রিবেণী ইউনিয়নের নবনিবার্চীত চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মোল্লা, মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শামিম হোসেন মোল্লা, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা নাসরিন লিপি, উপজেলা যুবলীগের কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান রেন্টু, কলেজ ছাত্রলীগের পিকুল, সুজনসহ অঙ্গ সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ। এ সময় মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাবি সহ সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত জান্নাতুল ফেরদৌস, আরশি, মাহমুদা, অহণ নন্দী রিংকি, সাদিয়া সুলতানা ইমু, সোহানুর রহমান, আহমদ আবদুল্লাহ , আসমাউল হুসনা , দীপু হোসেন, ফাতেমা খাতুন, জানমিন চৌধুরীকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অতিথিবৃন্দ সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয় । কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আসাদুর রহমান শাহিন তার স্বগত বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা মানুষের মেরুদণ্ড । আমরা আমাদের এই কলেজকে ইতোমধ্যে ঝিনাইদহের অন্যতম এবং উপজেলার সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি । আমাদের মিশন আমরা দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জন করতে সক্ষম হব। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমন রয়েছে অমীয় গৌরব তেমনি রয়েছে কিছু অবকাঠানোগত সমস্যা। করোনাময় সময়ে আমরা প্রতিনিয়ত সকল শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিয়ে সক্ষম হয়েছি । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ সময় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলাম । এই কলেজের উচ্চ কোন বিল্ডিং ব্যবস্থা না থাকলেও এখান হতে বের হয় উচ্চশিক্ষিত শিক্ষার্থী । স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে । আমি অনেকবার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসেছি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল সমস্যা সমাধানে আমি সর্বদা পাশে ছিলাম, থাকবো । এখানের সকল শিক্ষার্থী আমার ছেলে মেয়ের মতো । আমি শুধু এই বলতে চাই, আমাদের সকলকে আগে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে । বঙ্গবন্ধুর আর্দশ মতো কাজ করতে হবে । দেশ আমাদের মা । দেশকে ভালো কিছু উপহার দিয়ে দেশের কথা মনে রাখতে হবে । তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দশটি মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন তা যদি বাস্তবায়ণ করা যায় তাহলে ২০৪১ সালের মধ্যে পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে । ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্য বলেন তোমারাই হবে ভবিষ্যৎ সেই কাফেলার সৈনিক । সংবর্ধনা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শেষে শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ ও গান পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন অত্র কলেজের ব্যবসায়িক নীতি ও প্রয়োগ সহযোগী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম লাবলু ও ইংরেজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঈন উদ্দিন আহমেদ।