নিউজ ডেস্ক: ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার কোট্টায়াম থেকে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর খবর। পুলিশ এখানে স্ত্রী অদলবদল করার বড়সড় চক্রকে ধরতে সমর্থ হয়েছে। ওই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ জানুয়ারি) হিন্দি গণমাধ্যম ‘পত্রিকা’ সূত্রে প্রকাশ, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সেই ব্যক্তিও রয়েছে যার স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে স্ত্রী বদলের চক্র ফাঁস হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ওই মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হলেও স্ত্রী অদলবদল চক্রের সঙ্গে কমপক্ষে এক হাজার সদস্য যুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
কোট্টায়াম পুলিশ জানিয়েছে, এক নারীর অভিযোগের জেরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আসলে, ওই নারী বলেছেন, এই ধরনের একটি গ্রুপে স্ত্রী অদলবদল করা হচ্ছে। নারীদের তাদের সম্মতি ছাড়াই অন্য পুরুষদের কাছে পাঠানো হয়। পুলিশের কাছে অভিযোগে ওই নারী বলেন, তার স্বামী তাকে অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর অভিযোগের তদন্তে এই চক্রটি প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশ যখন কেরালার কোট্টায়ামের কাছে কারুকাচলে অভিযান চালায়, তখন স্ত্রী অদলবদলের অভিযোগে এখান থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে, ওই নারীকে তার স্বামী অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক করতে বাধ্য করেছিল। তদন্তের পর ওই চক্রের কাছে পৌঁছায় পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, টেলিগ্রাম, মেসেঞ্জার অ্যাপের মাধ্যমে এই গ্রুপটি পরিচালনা করে আসছিল স্ত্রী-অদলবদলকারী চক্র। এই অ্যাপের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল। চাঙ্গানাচেরির ডেপুটি পুলিশ সুপার, আর শ্রীকুমারের মতে, প্রথমে এই গ্রুপের সদস্যরা টেলিগ্রাম এবং মেসেঞ্জার গ্রুপে যোগ দিতেন এবং তারপর একে অপরের সঙ্গে দেখা করতেন।
পুলিশ বলছে, বর্তমানে সাত অভিযুক্তকে কোট্টায়াম, আলাপ্পুজা এবং এরনাকুলাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের মতে, অভিজাত শ্রেণির লোকজন এই পুরো গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত। এই চ্যাট গ্রুপে এক হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে, তাই এটি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। অন্য অভিযুক্তদেরও খুঁজছে পুলিশ।
ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করলেও ২৫ জনেরও বেশি লোক পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। একইসঙ্গে এই গ্রুপে এক হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় আগামীদিনে এই চক্রের আরও লোকজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: পার্সটুডে।