শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৭ অপরাহ্ন
নোটিশ
যে সব জেলা, উপজেলায় প্রতিনিধি নেই সেখানে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। বায়োডাটা সহ নিউজ পাঠান। Email: [email protected]

বিশ্ব বরেণ্য চিত্র শিল্পীএস এম সুলতানের জন্মদিন আজ

রেজাউল হক, নড়াইল
Update : মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১, ৩:৪৪ অপরাহ্ন

নড়াইল প্রতিনিধি:  বিশ্ব বরেণ্য চিত্র শিল্পীএস এম সুলতানের জন্মদিন আজ
 এ উপলক্ষে নড়াইল জেলার মাছিমদিয়া গ্রামে শিল্পীর কবরে পুষ্প স্তবক অর্পণ করেন নড়াইলের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, নড়াইল জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব প্রবীর কুমার রায় পিপিএম( বার) , *শিশু স্বর্গ* সহ নড়াইলে গনমান্য ব্যাক্তিবর্গ। এর পর দোয়া ও মিলাদ মাহ্ফির আয়োজন করা হয়।
               “তুলির আঁচড়ে
             জীবন আঁকা শিল্পী
              এস এম সুলতান”
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
দারিদ্রতার মাঝে বেড়ে ওঠা ‘লাল মিয়া’ নামের এস এম সুলতান ১৯২৮ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন।
স্কুলের অবসরে রাজমিস্ত্রি বাবাকে কাজে সহযোগিতা করতেন এবং মাঝে মাঝে ছবি আঁকতেন শিশু সুলতান।
১৯৩৩ সালে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় জমিদার শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি এঁকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। মুগ্ধ হন শ্যামাপ্রাসাদসহ নড়াইলের তৎকালীন জমিদাররা।
পড়ালেখা ছেড়ে ১৯৩৮ সালে চলে যান ভারতের কলকাতায়। চিত্রসমালোচক শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে তার (সুলতান) পরিচয় হয়।
একাডেমিক কোনো যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও সোহরাওয়ার্দীর সুপারিশে ১৯৪১ সালে ভর্তি হন কলকাতা আর্ট স্কুলে।
১৯৫৩ সালে নড়াইলে ফিরে আসেন সুলতান। শিশু-কিশোরদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি চারুকলা শিক্ষার ব্যবস্থা করেন।
১৯৬৯ সালের ১০ জুলাই ‘দি ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্বোধন করেন যশোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইনাম আহম্মদ চৌধুরী।
১৯৮৭ সালে স্থাপিত হয় ‘শিশুস্বর্গ’। অবশ্য অনেক আগেই স্বপ্নের শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এসএম সুলতান।
চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি বাঁশি এবং সুরযন্ত্র বাজাতেও পটু ছিলেন তিনি। বিষধর সাপ, ভল্লুক, বানর, খরগোশ, মদনটাক, ময়না, গিনিপিগ, মুনিয়া, ষাঁড়সহ বিভিন্ন পশু-পাখি পুষতেন। হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি পছন্দ করতেন না মোটেও।
চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’, ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন।
১০ অক্টোবর ১৯৯৪ সালে কৃতিমান এই চিত্রশিল্পীর জীবনাবসান ঘটে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By Uttoron Host