এন এস বি ডেস্ক: জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর পতেঙ্গায় র্যাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদর দফতরে প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব মহাপরিচালক এ কথা বলেন। যৌথবাহিনী গঠন করে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এবার চেষ্টা করব, দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যতগুলো বাহিনী আছে সেনাবাহিনীসহ, আপনারা জানেন সেনাবাহিনী এখন মাঠে দায়িত্বরত আছে। সুতরাং সব বাহিনী-সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, জেলা পুলিশ সবাই মিলে আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অলরেডি যোগাযোগ করেছি, এখানে এই যে একটা অভয়াশ্রম তৈরি হয়েছে সন্ত্রাসীদের, এই জায়গাগুলো যদি সরকারি জায়গা হয়, সরকার যেন তার এই জায়গা উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্যকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী নন উল্লেখ করে বাহিনীর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেছেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম যে কোনোমূল্যে নির্মূল করা হবে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা আমরা ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দেব।’ নিহত র্যাব সদস্যের নামাজে জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের একটা আড্ডাখানা। এটি আমরা খুব শিগগিরই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, এখানে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছে, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আছে, তাদের আমরা নির্মূল করব। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা আমরা ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দেব। এটুকু আমরা আপনাদের কথা দিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে যত সময় লাগে এবং যতদিন লাগে, এই সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম সেটাকে আমরা নির্মূল করব। এ জন্য আমাদের যতদিন যে প্রক্রিয়া লাগে, যা কিছু লাগে। কারণ তারা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী না, এটা আমাদের বুঝতে হবে। এতদিন এটা করা হয়নি, বাট এবার ইনশল্লাহ এই সন্ত্রাসীদের যে অভয়াশ্রম এটা আমরা নির্মূল করব ইনশাল্লাহ।’
স্বল্প জনবল নিয়ে অভিযানে যাওয়া এবং কৌশলগত কোনো ভুলত্রুটি ছিল কী না এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাবের ডিজি বলেন, ‘আমাদের জনবল একেবারে কম ছিল না। পঞ্চাশ জনের ওপরে সদস্য ছিল এবং আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, তাতে ওখানে আমাদের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করা যাবে, এ ধরনের একটি ধারণার বশবর্তী হয়েই কিন্তু অভিযানটা পরিচালনা করা হয়েছিল। একটা তদন্ত পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখবে যে অভিযানে কোনো ভুলত্রুটি ছিল কী না। যদি কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া যায় তাহলে সেটা কারেকশন করে ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালোভাবে, আরও দৃঢ়ভাবে, আরও সফলতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করব।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘র্যাব কিছু সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিল। এই সন্ত্রাসীরাই র্যাবের ওপর আক্রমণ করেছে। আমরা তাদের নাম পেয়েছি এবং তাদের গ্রেফতারের জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা পুরো বিষয় তদন্ত করব। একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে এবং সেই মামলার তদন্ত হবে। তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড এবং র্যাবের ওপর আক্রমণ, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত যাদের পাওয়া যাবে, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। মামলার যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা, তারাই বলতে পারবেন যে কারা কারা সম্পৃক্ত আছে। ইনশাল্লাহ খুব শিগগিরই এটা বেরিয়ে আসবে কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত।’
নিহত মোতালেবের পরিবারের পাশে র্যাব থাকবে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, ‘শহিদ মোতালেবের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার স্ত্রী স্বামী হারিয়েছেন, সন্তানরা বাবা হারিয়েছেন। আমরা সেই বাবা বা স্বামীকে এনে দিতে পারব না। তবে আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই, এই পরিবারের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করলাম। এই পরিবারের সঙ্গে আমরা থাকব, মোতালেবের অবর্তমানে তার পরিবার যেন কোনো ধরনের কষ্ট স্বীকার না করে, যদিও আমরা পিতা বা স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। আমরা এই পরিবারের সঙ্গে ইনশাল্লাহ আছি।’